
আজ ৯ আগস্ট, আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও দিনটি নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে পালিত হচ্ছে। জাতিসংঘের উদ্যোগে ১৯৯৪ সাল থেকে প্রতিবছর এ দিনে বিশ্বজুড়ে আদিবাসীদের অধিকার, মর্যাদা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য রক্ষার দাবিতে দিবসটি পালন করা হয়।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বিশ্বে প্রায় ৪৭ কোটি আদিবাসী জনগোষ্ঠী রয়েছে, যা বিশ্বের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৬ শতাংশ। তারা প্রায় ৯০টি দেশে বসবাস করছে এবং প্রায় ৫ হাজারের বেশি ভাষায় কথা বলে। কিন্তু আধুনিক উন্নয়ন, জলবায়ু পরিবর্তন, ভূমি দখল, বৈষম্য ও রাজনৈতিক প্রান্তিকীকরণের কারণে আদিবাসীরা এখনো নানা সংকটে ভুগছে।
বাংলাদেশে আদিবাসী জনগোষ্ঠী
বাংলাদেশে সরকারি হিসেবে ৫০টিরও বেশি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী বসবাস করে। এর মধ্যে পাহাড়ি ও সমতলের আদিবাসীরা আলাদা আলাদা ভাষা, সংস্কৃতি ও জীবনধারা নিয়ে বহুকাল ধরে বসবাস করছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম, মধুপুর, সিলেট, বরেন্দ্র অঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে তাদের বসতি রয়েছে।
আদিবাসী নেতারা দাবি করছেন, তাদের ভূমি অধিকার, ভাষা শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত না হওয়ায় সামাজিক-অর্থনৈতিক উন্নয়নে তারা পিছিয়ে পড়ছেন।
দিবসের তাৎপর্য
এ বছরের আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবসের মূল প্রতিপাদ্য হলো— “Indigenous Youth as Agents of Change for Self-determination” (স্বনিয়ন্ত্রণের পথে পরিবর্তনের এজেন্ট হিসেবে আদিবাসী যুবসমাজ)। এর মাধ্যমে আদিবাসী তরুণদের শিক্ষা, নেতৃত্ব, পরিবেশ রক্ষা এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে অংশগ্রহণ বাড়ানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।
বাংলাদেশে কর্মসূচি
দিবসটি উপলক্ষে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে শোভাযাত্রা, সমাবেশ, আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে। আদিবাসী সংগঠনগুলো তাদের ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরে রঙিন শোভাযাত্রায় অংশ নিচ্ছেন এবং নিজস্ব ভাষায় গান, নাচ ও কবিতা পরিবেশন করছেন।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস কেবল উদযাপন নয়, বরং রাষ্ট্র ও সমাজকে স্মরণ করিয়ে দেওয়ার একটি সুযোগ যে, উন্নয়নের মূল ধারায় আদিবাসীদের সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত না করলে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়।