
সদ্য সমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশে প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্সে নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে। পুরো অর্থবছরে প্রবাসীরা বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে পাঠিয়েছেন ৩৫৪৪ কোটি ২০ লাখ (৩৫.৪৪২ বিলিয়ন) মার্কিন ডলার, যা আগের ২০২৪-২৫ অর্থবছরের তুলনায় ১৭ দশমিক ৩ শতাংশ বেশি। প্রবাসী আয়ের ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধির ফলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভেও স্বস্তি ফিরেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ৩০২১ কোটি ৩০ লাখ (৩০.২১৩ বিলিয়ন) মার্কিন ডলার।
তবে সদ্য বিদায়ী জুন মাসের প্রথম ২৯ দিনে দেশে এসেছে ২৬৮ কোটি ৬০ লাখ (২.৬৮৬ বিলিয়ন) ডলারের রেমিট্যান্স, যা আগের বছরের একই সময়ের ২৭০ কোটি ৭০ লাখ (২.৭০৭ বিলিয়ন) ডলারের তুলনায় দশমিক ৮ শতাংশ কম।
এর আগে মে মাসে দেশে আসে ৩৪২ কোটি ৫০ লাখ ৩০ হাজার ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৫ দশমিক ৩৪ শতাংশ বেশি। এছাড়া এপ্রিলে ৩১২ কোটি ৭০ লাখ, মার্চে প্রায় ৩৭৫ কোটি, ফেব্রুয়ারিতে ৩০২ কোটি, জানুয়ারিতে ৩১৭ কোটি এবং গত ডিসেম্বরে ৩২২ কোটি ডলারের রেমিট্যান্স আসে। ফলে টানা ছয় মাস ধরে দেশে তিন বিলিয়ন ডলারের বেশি প্রবাসী আয় এসেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, রেমিট্যান্স প্রবাহের এই ইতিবাচক ধারা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। একই সঙ্গে আমদানি ব্যয় মেটানো, বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য রক্ষা এবং সামষ্টিক অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতেও বড় অবদান রাখছে প্রবাসী আয়।
বিশ্লেষকদের মতে, বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থ পাঠাতে সরকারের ২ দশমিক ৫ শতাংশ প্রণোদনা, হুন্ডির বিরুদ্ধে কঠোর নজরদারি, বৈধ পথে অর্থ পাঠাতে বিভিন্ন উদ্যোগ এবং প্রবাসীদের আস্থা বৃদ্ধির কারণে রেমিট্যান্স প্রবাহে ইতিবাচক ধারা অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে, গত ২৪ জুন পর্যন্ত দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৬ দশমিক ১০ বিলিয়ন ডলারে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে এ সময় রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৩১ দশমিক ৫৫ বিলিয়ন ডলার। এর আগে ১ জুন মোট রিজার্ভ ছিল ৩৪ দশমিক ৭৬ বিলিয়ন ডলার এবং বিপিএম-৬ অনুযায়ী ছিল ৩০ দশমিক ১০ বিলিয়ন ডলার। এক মাসের ব্যবধানে উভয় সূচকেই রিজার্ভের উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে।