
শীতের শুরুতে ডেঙ্গুর সংক্রমণ কমে যাওয়ার কথা থাকলেও যশোরে উল্টো সংক্রমণ বেড়েছে। গ্রামাঞ্চল পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে ডেঙ্গু। রোগীদের অভিযোগ, মশা নিধনে কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। অন্যদিকে জলাবদ্ধতাকে সংক্রমণ বৃদ্ধির মূল কারণ হিসেবে দেখছেন সিভিল সার্জন।
জেলার হাসপাতালগুলোতে প্রতিদিন গড়ে ৩০ থেকে ৪০ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হচ্ছেন। সেপ্টেম্বরে ২০২ জন, অক্টোবরে ৩৩৯ জন এবং নভেম্বরের প্রথম ২৬ দিনে ২৮০ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। আক্রান্তদের বেশিরভাগই যশোর সদর ও অভয়নগর উপজেলার বাসিন্দা।
রোগীরা বলছেন, মশা নিধনে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ চোখে পড়ে না, ফলে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে ডেঙ্গু। বাগুটিয়া ইউনিয়নের রোগী শাহজালাল হোসেন জানান, তাঁদের গ্রামে প্রায় পুরো পরিবারই ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছে, কিন্তু ইউনিয়ন পরিষদের কোনো উদ্যোগ নেই। আরেক রোগী সালমা বেগম বলেন, পৌরসভা এলাকায় থাকলেও ওষুধ ছিটানো হয় না। কামরুন্নাহার জানান, তাঁদের গ্রাম থেকে সাতজন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। রোগী আকলিমা খাতুনও মশা নিধনের অভাবকে দোষারোপ করেন।
অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও ডা. মাহফুজুর রহমান সবুজ জানান, সাধারণত নভেম্বরের মধ্যেই ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব কমে আসে, কিন্তু এ বছর শুরুর দিকের বৃষ্টির কারণে মশার প্রজনন বন্ধ হয়নি। জানুয়ারি থেকে নভেম্বর পর্যন্ত হাসপাতালে ৬৯১ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন, বর্তমানে ভর্তি আছেন ১৯ জন। এখন পর্যন্ত কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি।
সিভিল সার্জন ডা. মাসুদ রানা বলেন, এ বছর যশোরে ডেঙ্গুতে কোনো মৃত্যু হয়নি। তাঁর মতে, জলাবদ্ধতার কারণেই মশার বংশবৃদ্ধি বাড়ছে। তিনি জানান, এখন মশা নিধন কার্যক্রম চালু আছে এবং ডেঙ্গু পরীক্ষার জন্য পর্যাপ্ত কিটও রয়েছে। জ্বর হলেই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সিভিল সার্জন অফিসের তথ্যমতে, জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত জেলায় ১ হাজার ২২০ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন, যার মধ্যে ১ হাজার ১৭০ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দ্রুত কার্যকর মশা নিধন ও সচেতনতা বাড়ানো না গেলে শীতেও সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ কঠিন হবে।