
সড়ক দুর্ঘটনার সঠিক কারণ নির্ধারণ ও ভবিষ্যতে একই ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমাতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগে ১০ সদস্যের একটি দক্ষ তদন্ত দল গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দলটি ঢাকায় সংঘটিত সড়ক দুর্ঘটনার তদন্ত নিশ্চিত করার পাশাপাশি ট্রাফিক বিভাগের অন্য কর্মকর্তাদের দক্ষতা বাড়াতে কাজ করবে।
সোমবার (২৭ অক্টোবর) ঢাকার একটি হোটেলে ‘রোড ক্র্যাশ ইনভেস্টিগেশন’ শীর্ষক দুই দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ উদ্যোগের কথা জানান ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিসুর রহমান।
ডিএমপি ও আন্তর্জাতিক সংস্থা গ্লোবাল রোড সেফটি পার্টনারশিপের (জিআরএসপি) যৌথ উদ্যোগে ব্লুমবার্গ ফিলানথ্রপিস ইনিশিয়েটিভ ফর গ্লোবাল রোড সেফটির (বিআইজিআরএস) আওতায় এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়। এতে ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের সহকারী পুলিশ কমিশনার, ট্রাফিক সার্জেন্ট, উপপরিদর্শক, পুলিশ পরিদর্শকসহ বিভিন্ন ইউনিটের ৬০ জন কর্মকর্তা অংশ নেন।
বক্তারা বলেন, সড়ক দুর্ঘটনার সঠিক তদন্তের মাধ্যমে দুর্ঘটনার কারণ চিহ্নিত করা সম্ভব। এতে ভবিষ্যতে একই ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া যাবে। পাশাপাশি সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহতদের ঘটনায় ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতেও তদন্ত কর্মকর্তাদের দক্ষতা বাড়ানো জরুরি।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিআইজিআরএসের কান্ট্রি ফোকাল ও সাবেক অতিরিক্ত সচিব মো. আবদুল ওয়াদুদ। প্রধান অতিথি ছিলেন ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিসুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী খন্দকার মাহবুব আলম।
মো. আনিসুর রহমান বলেন, ঢাকার সড়ক নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নয়নে পুলিশ কর্মকর্তাদের মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা ও প্রশিক্ষণ থেকে অর্জিত নতুন জ্ঞানের সমন্বয়ে উদ্ভাবনী পরিকল্পনা নিতে হবে। রোড ক্র্যাশ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি সংঘটিত দুর্ঘটনার সঠিক তদন্ত নিশ্চিত করার ওপরও তিনি গুরুত্ব দেন।
খন্দকার মাহবুব আলম বলেন, সড়ক দুর্ঘটনা দৈব কোনো ঘটনা নয়। সঠিক পদক্ষেপের মাধ্যমে দুর্ঘটনার অনেক ঝুঁকি প্রতিরোধ করা সম্ভব। সড়ক নির্মাণে প্রকৌশলগত ত্রুটি, চালকের ভুল এবং দ্রুতগতিতে গাড়ি চালানোর কারণে ঝুঁকি বাড়তে পারে। এসব ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে সমন্বিতভাবে কাজ করা প্রয়োজন।
বিআইজিআরএসের কান্ট্রি ফোকাল মো. আবদুল ওয়াদুদ ঢাকার সড়ক নিরাপত্তায় সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য ডিএমপি ও ডিএনসিসিকে ধন্যবাদ জানান।
প্রশিক্ষণ সেশন পরিচালনা করেন জিআরএসপির এশিয়া-প্যাসিফিক সিনিয়র রোড পুলিশিং অ্যাডভাইজার পিটার জোন্স। তিনি ভবিষ্যতে সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সংঘটিত দুর্ঘটনার সঠিক তদন্তের গুরুত্ব তুলে ধরেন। পাশাপাশি দুর্ঘটনাস্থল থেকে প্রমাণ সংগ্রহ, ঘটনাস্থলের স্কেচ বা নকশা তৈরি, তথ্য-প্রমাণ সংরক্ষণ এবং তদন্তে সহায়তার জন্য ছবি তোলাসহ বিভিন্ন কৌশল হাতে-কলমে শেখান।
প্রশিক্ষণের সমাপনী দিনে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ডিএনসিসির প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ রাকিবুল হাসান, পিএসসি। তিনি বলেন, নতুন জ্ঞান ও দক্ষতা মাঠপর্যায়ে প্রয়োগ করা গেলে দক্ষতাবৃদ্ধির উদ্যোগ কার্যকর হবে। পুলিশ কর্মকর্তারা সড়ক দুর্ঘটনার সঠিক তদন্তের মাধ্যমে যথাযথ কারণ চিহ্নিত করতে পারবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। এতে নীতিনির্ধারক ও প্রকৌশলীরা দুর্ঘটনার কারণগুলো যথাযথভাবে সমাধান করতে পারবেন, যা সড়ক নিরাপত্তায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
কর্মশালায় আরও উপস্থিত ছিলেন ডিএমপির যুগ্ম পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক-ঢাকা উত্তর) আ স ম শামসুর রহমান ভূঞা, উপপুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক-অ্যাডমিন, প্ল্যানিং ও রিসার্চ) মিনা মাহমুদা, উপপুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক-গুলশান বিভাগ) মো. তারেক জুবায়ের, ভাইটাল স্ট্র্যাটেজিসের টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজর আমিনুল ইসলাম সুজন, বিআইজিআরএসের এনফোর্সমেন্ট কোঅর্ডিনেটর মো. গোলাম হোসেন, ট্রান্সপোর্ট কোঅর্ডিনেটর রেজাউর রহমান, সার্ভিল্যান্স কোঅর্ডিনেটর তানভীর ইবনে আলী এবং কমিউনিকেশন অফিসার মো. মাহামুদুল হাসানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।