
বৃষ্টি ও মৌসুমি বন্যার রেশ না কাটলেও রাজশাহী মহানগরীর কাঁচাবাজারগুলোতে নিত্যপ্রয়োজনীয় গ্রীষ্মকালীন সবজির দাম কমতে শুরু করেছে। পর্যাপ্ত সরবরাহের কারণে গত সপ্তাহের তুলনায় প্রায় সব ধরনের সবজির দাম কমেছে। এতে দীর্ঘদিন চড়া বাজারের চাপে থাকা মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত ক্রেতাদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে।
রাজশাহী মহানগরীর সাহেব বাজার, সাগরপাড়া, নওদাপাড়া, হড়গ্রাম বাজার, মাস্টারপাড়া ও লক্ষ্মীপুর কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে, বাজারগুলোতে সবজির পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে। আশপাশের এলাকা থেকে টাটকা সবজি সরাসরি বাজারে আসায় দাম অনেকটাই ক্রেতাদের নাগালের মধ্যে চলে এসেছে।
বাজারে কাঁচামরিচ বর্তমানে প্রতি কেজি ৬০ থেকে ৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। কয়েকদিন আগেও এর দাম ছিল ২৪০ থেকে ২৫০ টাকা। পটল ৮০ টাকা থেকে কমে ৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। ঢেঁড়সের দাম বাজারভেদে ৪০ থেকে ৫০ টাকা। ঝিঙে, চিচিঙ্গা ও কচুর লতি বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৪০ টাকা কেজি দরে।
কচু প্রতি কেজি ৫০ থেকে ৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে, যা কয়েকদিন আগেও ৮০ থেকে ১০০ টাকা ছিল। করলা ও শসা মানভেদে ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজি। বেগুন ৬০ টাকা, আলু ২৫ টাকা এবং কাঁচা পেঁপে ২০ থেকে ২৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
এ ছাড়া মিষ্টি কুমড়া ৪০ থেকে ৫০ টাকা এবং লাউ আকার ও ওজনভেদে ৩০ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পেঁয়াজ, রসুন ও বিভিন্ন ধরনের শাকের দামও তুলনামূলক কম। ফলে প্রায় সব ধরনের সবজিই এখন ক্রেতাদের নাগালের মধ্যে রয়েছে।
তবে সবজির দাম কমলেও মুরগি, মাছ ও ডিমের দাম বাড়ছে। এসব পণ্যের দামও কমাতে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন ক্রেতারা।
ক্রেতা মফিজুল ইসলাম বলেন, আগে যা আয় করতেন, তার বড় একটি অংশ সবজি কিনতেই শেষ হয়ে যেত। চাহিদা অনুযায়ী কোনো কিছু কেনা সম্ভব হতো না। এখন দাম কমায় কিছুটা সুবিধা হচ্ছে।
আরেক ক্রেতা মাসুমা বলেন, স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য সবজির বেশি দাম খুবই কষ্টকর। আয়ের তুলনায় ব্যয় বেশি হওয়ায় চাহিদা অনুযায়ী কেনাকাটা করা যায় না। সবজির দাম কমায় সেই কষ্ট কিছুটা হলেও কমেছে। বাজারে এই স্বস্তি বজায় থাকলে সীমিত আয়ের মানুষের জন্য ভালো হবে।
সবজি বিক্রেতা রমিশ উদ্দিন বলেন, পাইকারি বাজারে সবজির দাম কম হওয়ায় তারা কম দামে কিনতে পারছেন। ফলে ক্রেতাদের কাছেও কম দামে বিক্রি করছেন। সামনে দাম আর বাড়বে না বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
রাজশাহী মহানগর পাইকারি কাঁচামাল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আনোয়ার হোসেন বলেন, বর্তমানে সব ধরনের সবজির দাম কম। পানি নেমে যাওয়ায় উৎপাদন বেড়েছে এবং সরবরাহও বেড়েছে। ফলে পাইকারি বাজারে কম দামে সবজি পাওয়া যাচ্ছে, যার প্রভাব খুচরা বাজারেও পড়েছে।
রাজশাহী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক (শস্য) মিতা সরকার বলেন, ক্ষেত থেকে পানি নেমে যাচ্ছে। ফলে উৎপাদন স্বাভাবিক হচ্ছে। আগামী দিনে উৎপাদন আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। এতে সবজির দাম আরও ক্রেতাদের নাগালের মধ্যে চলে আসবে।