
চোখে আলো নেই, তবু তাঁর জীবনে কখনো অন্ধকার নামেনি গফুর মল্লিকের। তিনি জন্মান্ধ হয়েও নিজেকে গড়ে তুলেছেন মনের আলোয় আলোকিত এক মানুষ হিসেবে। শৈশব থেকে শত ঘাত-প্রতিঘাত, অবহেলা আর দুঃখ সহ্য করে অসম্ভবকে সম্ভব করে বৃদ্ধ বয়সেও হয়ে উঠেছেন অনুকরণীয়! জন্মান্ধের আলোয় আলোকিত গফুর মল্লিকের অদম্য চেষ্টায় পরাজিত হয়েছে প্রতিবন্ধীতা।
ছোটবেলায় একদল ব্যবসায়ী আব্দুল গফুর মল্লিকের বাবাকে পরামর্শ দিয়েছিলো, “ছেলেটা তো চোখে দেখে না, ওকে কোরআন শেখাও। দুই সিপারা মুখস্থ করলে হাত পেতে ভাতের অভাব হবে না।”
কিন্তু ছোট্ট গফুরের শিশুমন তখনই দৃঢ় হয়ে ওঠে। নিজেকে বলেছিলেন- “আমি কখনো হাত পেতে খাব না, আমি নিজের হাতে রোজগার করব।”

যৌবনে গফুর মল্লিক অন্যের বাড়ির নারকেল গাছে উঠতেন। চোখে না দেখলেও গাছের ডাল-পাতার ভেতর নিজের পথ খুঁজে নিতেন নিখুঁতভাবে। ভাগে পাওয়া নারকেলগুলো দিয়ে বানাতেন নাড়ু, আর সেই নাড়ুই ছিল তাঁর জীবিকার অবলম্বন। পাঁচ বছর আগেও তিনি নিজ হাতে বানানো নাড়ু বিক্রি করতেন। বয়সের ভারে গাছে ওঠা বন্ধ হলেও, নারকেল কুড়ানো আর নাড়ু বানানোর কাজ ছাড়েননি কখনো।
২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ট্রেনে ট্রেনে ঘুরে নিজের হাতে বানানো নারকেলের নাড়ু ও বাদাম বিক্রি করে সংসার চালাতেন এই জন্মান্ধ মানুষটি। ভোরবেলা খাটের নিচে রাখা নারকেলগুলো বের করে নিজেই খোসা ছাড়াতেন, ভাঙতেন, কুরাতেন—সব একা। বিপজ্জনক কাজ, কিন্তু সাহায্য নিতেন না কারো।
এরপর নারু বানিয়ে স্থানীয় খানখানাপুর রেলস্টেশন থেকে ট্রেনে চড়ে বিক্রি করেন তিনি। চোখে না দেখা মানুষটি অনেকবার পড়ে গিয়েছেন ট্রেনে উঠতে গিয়ে ও ভেতরে মালামাল নিয়ে হাঁটার সময়।
তার এমন জীবন সংগ্রামের চিত্র উঠে আসে মুন্সী এনায়েতের প্রামাণ্যচিত্রে। সেই প্রামান্যচিত্রে যুক্ত করা তার মোবাইল ব্যংকিং নাম্বারে টাকা পাঠান অসংখ্য মানুষ।
মুন্সী এনায়েতের ফেসবুক পেজে ভিডিওটি ৪০ মিলিয়ন মানুষ দেখেছেন। এর পাশাপাশি অনেকেই ডাউনলোড দিয়ে আপলোড করলে মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়। প্রতি ৩/৪ মাস অন্তর কারো না কারো পেজে ভাইরাল হলেই অনেকেই সহযোগিতার হাত বাড়ান। তারপর থেকে আর ট্রেনে চড়তে হয়নি আব্দুল গফুর মল্লিকের।
সম্প্রতি একটি পত্রিকা তাকে নিয়ে নিউজের জন্য আবারও ট্রেনে নাড়ু বিক্রির চিত্রায়ণ করেন। সেটিও মুহূর্তে ভাইরাল হয় এবং সেটি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমানের নজরে আসে। সেটি আজ, ৩০ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে গফুর মল্লিকের সাথে ভিডিও কলে কথা বলবেন এবং সূত্রমতে নগদ অর্থ প্রদান করবেন।