ঢাকারবিবার , ২৬ জুলাই ২০২৬
  1. সর্বশেষ
  2. নিরাপদ খাদ্য

মাটি থেকেই তৈরি হচ্ছে খাঁটি লবণ!

প্রতিবেদক
বিপ্লব হোসাইন
২৬ জুলাই ২০২৬, ৩:৩০ বিকাল

Link Copied!

সমুদ্রের লোনা পানি থেকে লবণ উৎপাদনের বিষয়টি আমাদের সবারই জানা। কিন্তু যদি বলা হয়, পানি নয়, সরাসরি মাটি থেকেই তৈরি হচ্ছে খাঁটি লবণ! শুনতে অবিশ্বাস্য মনে হলেও, গত প্রায় পাঁচ দশক ধরে এমন অসাধ্যকেই সাধন করে আসছেন পিরোজপুরের ডুবি গ্রামের সাধারণ মানুষ। ১৯৭৪ সালের ভয়াল দুর্ভিক্ষের সময় নিছক বেঁচে থাকার তাগিদে এবং লবণের তীব্র সংকট মোকাবিলায় যে অভিনব পদ্ধতির সূচনা হয়েছিল, তা আজ ওই গ্রামের বহু মানুষের জীবিকার প্রধান উৎসে পরিণত হয়েছে।

মাটির বুক থেকে নুন ছেঁকে আনার এই অবিশ্বাস্য লড়াই, ৫০ বছরের পুরনো ঐতিহ্য এবং হাড়ভাঙা খাটুনির আড়ালে থাকা স্বল্প আয়ের শ্রমিকদের জীবনসংগ্রামের এক অনন্য চিত্র তুলে ধরা হলো।

যেভাবে শুরু এই অভিনব পদ্ধতির


এই লবণ উৎপাদনের পেছনের ইতিহাসটি বেশ পুরনো। ১৯৭৪ সালের ভয়াবহ দুর্ভিক্ষের সময় দেশজুড়ে খাবারের তীব্র হাহাকারের পাশাপাশি লবণেরও চরম সংকট দেখা দেয়। সেই সময় ছারছীনার একটি লবণ পরিশোধন কারখানার আশপাশে পড়ে থাকা লবণ-মিশ্রিত মাটি থেকে ব্যক্তিগত প্রয়োজনে প্রথম লবণ তৈরির উদ্যোগ নেন ডুবি গ্রামের এক বাসিন্দা। সময়ের পরিক্রমায় সেই উদ্যোগটিই আজ গ্রামের মানুষের অন্যতম প্রধান পেশায় পরিণত হয়েছে।

মাটি থেকে লবণ তৈরির ধাপসমূহ

বর্তমানে এই লবণ তৈরির জন্য চট্টগ্রাম থেকে লবণ-মিশ্রিত মাটি কিনে আনা হয়। পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে কয়েকটি ধাপ অনুসরণ করা হয়:

মিশ্রণ: প্রথমেই চট্টগ্রাম থেকে আনা লবণ-মিশ্রিত মাটি বড় ট্যাংকিতে পানির সঙ্গে মেশানো হয়।

থিতানো: এরপর সেই মিশ্রণ ছোট ছোট চৌবাচ্চায় রেখে কিছু সময় অপেক্ষা করা হয়, যেন মাটির ভেতরের লবণ পানির সঙ্গে ভালোভাবে মিশে যায়।

জ্বাল দেওয়া: লবণাক্ত পানি আলাদা করে বড় চুলায় টানা ৬ থেকে ৭ ঘণ্টা ধরে জ্বাল দেওয়া হয়। পানি বাষ্প হয়ে উড়ে গেলে নিচে লবণ জমতে শুরু করে।

শুকানো: চুলা থেকে তুলে লবণগুলো ঝুড়ি বা বাক্সে রেখে সারা দিন ও রাত শুকানো হয় যাতে বাড়তি পানি ঝরে যায়।

প্রক্রিয়াজাতকরণ ও প্যাকেটজাত: পরদিন সকালে শুকানো লবণ মেপে প্যাকেজিং ঘরে নেওয়া হয়। সেখানে আরও একদিন শুকানোর পর আয়োডিন মিশিয়ে প্যাকেট করে বাজারে বিক্রির উদ্দেশ্যে পাঠানো হয়।

হাড়ভাঙা খাটুনি, তবে মজুরি মাত্র দেড় টাকা
বর্তমানে ডুবি গ্রামের ঘরে ঘরে এই ধরনের ছোট ছোট উৎপাদন কেন্দ্র গড়ে উঠেছে। প্রতিদিন ভোর ৪টা থেকে শুরু হয়ে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলে এই নিরলস কর্মযজ্ঞ। এসব কারখানায় কাজ করেন মূলত স্থানীয় শ্রমিকরাই।

তবে আক্ষেপের বিষয় হলো, আগুনের আঁচে এই হাড়ভাঙা খাটুনির পর শ্রমিকদের প্রাপ্তি খুবই সামান্য। প্রতি কেজি লবণ উৎপাদনে তারা মজুরি পান মাত্র ১ টাকা ৫০ পয়সা (দেড় টাকা)।

সময়ের সাথে অনেক কিছুই বদলেছে, জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে। কিন্তু পিরোজপুরের ডুবি গ্রামের এই মানুষগুলো অভাবের দিনে জন্ম নেওয়া মাটি থেকে লবণ তৈরির এই অনন্য ঐতিহ্য আজও পরম যত্নে ধরে রেখেছেন।

Facebook Comments Box

আরও পড়ুন

আধুনিক সুবিধায় দ্রুত চালু হবে খানজাহান আলী বিমানবন্দর

২০২৭ সালের মধ্যে রাজশাহীতে মিলবে পদ্মার বিশুদ্ধ পানি

২০৫০ সালের মধ্যে ১৯ লাখ গাঁট তুলা উৎপাদনের লক্ষ্য সরকারের

অল্প জায়গায় শিং মাছ চাষে বছরে ১০-১২ লাখ টাকা আয়

তৃতীয় টার্মিনালে শক্তিশালী হচ্ছে মোবাইল নেটওয়ার্ক, ব্যয় ৪৭ কোটি টাকা

স্মৃতিশক্তি ধরে রাখতে খাদ্যতালিকায় রাখুন এই ১০ খাবার

৪ সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত, বাড়ছে ঝড়ের শঙ্কা

লঘুচাপের প্রভাবে আগামী ৫ দিনজুড়ে বৃষ্টি, কোথাও হতে পারে ভারী বর্ষণ

সন্ধ্যার মধ্যে ৬ অঞ্চলে ঝড়-বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস

সিরিয়ায় দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত ৩৫

শাহজালাল বিমানবন্দরের ময়লার স্তূপে আগুন

মতিঝিল মেট্রো স্টেশনে অবৈধ দখলের বিরুদ্ধে অভিযান