ঢাকাসোমবার , ১৮ মে ২০২৬
  • অন্যান্য

মাছ ধরা বন্ধে চালের বদলে এবার খাদ্যসামগ্রী, খুশি জেলেরা

নিজস্ব প্রতিবেদক
মে ১৮, ২০২৬ ৩:৩২ অপরাহ্ণ । ৩৭ জন

মার্চ ও এপ্রিলে ইলিশের অভয়াশ্রমে সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ ছিল। প্রতিবছর এ সময় জেলেরা ৪০ কেজি করে চাল সহায়তা পেলেও, চলতি বছর প্রথমবারের মতো নতুন ধরনের খাদ্য সহায়তা পাচ্ছেন নিবন্ধিত জেলে পরিবারগুলো। তবে একই সঙ্গে দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা চলাকালে এনজিও ঋণ মওকুফের দাবি জানিয়েছেন জেলেরা। মৎস্য বিভাগের আশা, এসব সহায়তা কার্যক্রমের ফলে জেলেরা মাছ ধরা থেকে বিরত থাকবে।

দেশের ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন ও জাটকা সংরক্ষণে প্রতি বছর মার্চ ও এপ্রিল মাসে মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীসহ ছয় জেলার পাঁচটি অভয়াশ্রমে ইলিশসহ সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ করে সরকার। এই সময়ে জেলেরা যাতে নদীতে না নামেন, সেজন্য ৪০ কেজি করে ভিজিএফ চালের পাশাপাশি এবার প্রথমবারের মতো চালু হয়েছে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ।

সরকারি সহায়তার আওতায় প্রতিটি জেলে পরিবারকে ১২ কেজি আটা, ১০ লিটার ভোজ্য তেল, ৮ কেজি মসুর ডাল, ৪ কেজি চিনি, ৪ কেজি লবণ এবং ১৬ কেজি আলু দেওয়া হচ্ছে। এতে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন অনেক জেলে পরিবার। তাদের মতে, এ ধরনের সহায়তা থাকলে নিষেধাজ্ঞার সময়ে নদীতে মাছ ধরার প্রয়োজন হবে না।

জেলে কাদের মাঝি বলেন, “বিগত বছরগুলোতে আমরা শুধু চাল পেতাম। কিন্তু এখন চালের পাশাপাশি খাদ্যসামগ্রী পেয়ে আমরা খুশি। এটা আমাদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল। সরকার তা পূরণ করেছে।”

আরেক জেলে মাঝি বারেক ঘরামী বলেন, “চালের পাশাপাশি বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রী পাওয়ায় আমরা আশা করছি, অবরোধের সময় কেউ নদীতে মাছ ধরতে যাবে না। তবে এনজিও ঋণের কিস্তি যদি মওকুফ বা স্থগিত করা হয়, তাহলে আমাদের আরও উপকার হবে।”

পটুয়াখালী জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিজন কুমার নন্দী বলেন, জেলেদের কথা বিবেচনা করেই সরকার খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করছে। আশা করা হচ্ছে, নিষেধাজ্ঞার সময় জেলেরা নদীতে মাছ ধরতে যাবে না।

জেলা মৎস্য দপ্তর জানায়, পটুয়াখালীতে নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা প্রায় ৮০ হাজার। এর মধ্যে তেঁতুলিয়া নদীসংলগ্ন চার উপজেলার ৩ হাজার ৮০০ জেলের মধ্যে এই খাদ্য সহায়তা বিতরণ করা হয়েছে।

Facebook Comments Box

Jaxx Liberty Wallet

Jaxx Wallet Download