
চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে (জানুয়ারি–মার্চ) ভারতের মহারাষ্ট্র রাজ্যে আত্মহত্যা করেছেন ৭৬৭ জন কৃষক। বিধানসভায় রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে জমা দেওয়া এই তথ্য কৃষক আত্মহত্যা ইস্যুতে ফের চরম উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। আত্মহননের এই চিত্র সামনে আসতেই রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের কৃষিনীতি নিয়ে বিরোধীদের তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে।
বিধানসভায় কংগ্রেসের সদস্যদের প্রশ্নের লিখিত জবাবে রাজ্যের ত্রাণমন্ত্রী মরকন্দ পাটিল জানান, আত্মহত্যার শিকার কৃষকদের বেশিরভাগই পশ্চিম মহারাষ্ট্রের বিদর্ভ অঞ্চলের বাসিন্দা। শুধু এই অঞ্চলেই আত্মহত্যা করেছেন ২৫৭ জন কৃষক।
আত্মহত্যার পেছনে কারণ কী?
কৃষক আত্মহত্যার জন্য সরকার যে কারণগুলোর কথা বলেছে তার মধ্যে রয়েছে:
কৃষিকাজে ঘন ঘন লোকসান, ফসলের ন্যায্যমূল্য না পাওয়া, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ফসল নষ্ট হওয়া, অতিরিক্ত ঋণের বোঝা
অনেক কৃষক ঋণের দায়ে দিশেহারা হয়ে আত্মহননের পথ বেছে নিচ্ছেন বলে মনে করা হচ্ছে।
সহায়তা পেল কতজন?
ত্রাণমন্ত্রী জানান, আত্মহত্যাকারী কৃষকদের মধ্যে সরকারিভাবে সহায়তার যোগ্য হিসেবে বিবেচিত হয়েছেন মাত্র ৩৭৬ জন। তাঁদের পরিবারকে এক লাখ টাকা করে সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
বাকি ২০০ জনকে সরকারি সহায়তার বাইরে রাখা হয়েছে “যোগ্যতা না পূরণ” করার অজুহাতে। আরও অনেকের আত্মহত্যার তথ্য এখনও যাচাই হয়নি।
বিরোধীদের ক্ষোভ
কংগ্রেস এবং অন্যান্য বিরোধী দলগুলো অভিযোগ করেছে, সরকার মানবিকতার বদলে আমলাতান্ত্রিক কঠোরতা দেখাচ্ছে। ক্ষতিপূরণ পাওয়ার শর্তগুলো এতটাই জটিল যে অনেক প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক তার বাইরে পড়ে যাচ্ছেন।
তাঁদের অভিযোগ, বিজেপির নেতৃত্বাধীন রাজ্য সরকার কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় সম্পূর্ণ ব্যর্থ। বরং করপোরেট স্বার্থ রক্ষায় কৃষকদের বঞ্চিত করা হচ্ছে।
বিরোধীরা আরও বলেন, ২০২৩ সালে যেখানে কৃষক আত্মহত্যার সংখ্যা ছিল ২,৮৫১ জন, ২০২৪ সালে তা কিছুটা কমে হয় ২,৬৩৫ জন। কিন্তু চলতি বছর মাত্র তিন মাসেই ৭৬৭ জনের আত্মহত্যা প্রমাণ করে পরিস্থিতি আবার খারাপের দিকে যাচ্ছে। সরকার কার্যকর কোনো প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিতে পারেনি।
সরকারের প্রতিশ্রুতি যথেষ্ট নয়?
রাজ্য সরকার জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী কিসান সম্মান নিধি প্রকল্পের আওতায় কৃষকদের বছরে ৬ হাজার টাকা দেওয়া হচ্ছে এবং রাজ্য সরকারও আলাদাভাবে সমপরিমাণ সহায়তা প্রদান করছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এই নগণ্য সহায়তা কৃষকদের বাস্তব সংকট দূর করতে পারছে না।
মহারাষ্ট্রে কৃষকদের আত্মহত্যা দীর্ঘদিন ধরেই একটি সংকট হিসেবে রয়ে গেছে। একদিকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ, অন্যদিকে ঋণের বোঝা ও বাজার ব্যবস্থার অনিশ্চয়তা মিলিয়ে কৃষক সমাজ চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছে। বিরোধীদের প্রশ্ন, সহানুভূতির বদলে যদি নিয়মের ফাঁদে পড়েই কৃষকদের বঞ্চিত হতে হয়, তবে আত্মহত্যার মিছিল থামবে কীভাবে?