
দেশে ফল উৎপাদনের বর্তমান অগ্রগতি অব্যাহত থাকলে আগামী দিনে ফল বাংলাদেশের অন্যতম শক্তিশালী রফতানি পণ্যে পরিণত হবে বলে মন্তব্য করেছেন কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকালে রাজধানীর ফার্মগেটে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) চত্বরে জাতীয় ফল মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশের অভ্যন্তরীণ ফলের চাহিদা পূরণে সক্ষমতা বাড়ছে, আমদানি কমছে এবং ইতোমধ্যে আম, আনারস ও কাঁঠাল রফতানি শুরু হয়েছে। খুব শিগগিরই ড্রাগন ফলসহ আরও বিভিন্ন ফল বিদেশে রফতানির সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, সরকারের লক্ষ্য দেশের মানুষের ফলের চাহিদা পূরণ করে উদ্বৃত্ত উৎপাদন বিদেশে রফতানি করা। জাতীয় ফল মেলা দেশে ফল উৎপাদন বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে এবং দেশীয় ও বিদেশি নানা জাতের ফল চাষে কৃষকদের আগ্রহ বাড়িয়েছে।
কৃষিমন্ত্রী জানান, কয়েক বছর আগেও দেশে ড্রাগন ফল আমদানি করতে হতো। এখন দেশীয় কৃষকেরা উন্নতমানের ড্রাগন ফল উৎপাদন করছেন, যা স্বাদ ও গুণগত মানে বিদেশি ফলের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে সক্ষম।
তিনি আরও বলেন, শুধু তাজা ফল নয়, ফলভিত্তিক প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্যের বাজারও দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে। কাঁঠাল দিয়ে তৈরি বিভিন্ন খাদ্যপণ্য দেশ-বিদেশে জনপ্রিয়তা পাচ্ছে এবং কয়েকটি দেশ বাংলাদেশ থেকে কাঁঠাল আমদানির আগ্রহ দেখিয়েছে।
মন্ত্রী জানান, চলতি বছরে কাঁঠাল রফতানি আরও বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে চীনের সঙ্গে একটি চুক্তির প্রক্রিয়া চলছে। ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশি ফলের বাজার সম্প্রসারণে বিদেশেও ফল মেলার আয়োজন করা হবে।
কৃষি বাজেট প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, গত অর্থবছরের তুলনায় কৃষি বাজেট ১০ শতাংশ এবং উন্নয়ন বাজেট ৫৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার কৃষি খাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।