
দেশের ৫৫টি জেলায় তীব্র তাপপ্রবাহ ও ভ্যাপসা গরমে জনজীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। বাতাসে অতিরিক্ত আর্দ্রতার কারণে প্রকৃত তাপমাত্রার তুলনায় অনেক বেশি গরম অনুভূত হচ্ছে। আবহাওয়া পর্যবেক্ষকদের মতে, অনেক এলাকায় অনুভূত তাপমাত্রা (ফিলস লাইক) ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তারও বেশি হতে পারে। ফলে হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
তাপপ্রবাহ ও অস্বস্তিকর গরমের প্রভাব পড়েছে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, বাগেরহাট, চুয়াডাঙ্গা, যশোর, ঝিনাইদহ, খুলনা, কুষ্টিয়া, মাগুরা, মেহেরপুর, নড়াইল, সাতক্ষীরা, ঢাকা, ফরিদপুর, গাজীপুর, গোপালগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, মাদারীপুর, মানিকগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী, রাজবাড়ী, শরীয়তপুর, টাঙ্গাইল, বরগুনা, বরিশাল, ভোলা, ঝালকাঠি, পটুয়াখালী, পিরোজপুর, বগুড়া, জয়পুরহাট, নওগাঁ, নাটোর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, চাঁদপুর, লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালী, ফেনী, পাবনা, রাজশাহী, সিরাজগঞ্জ, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার, সুনামগঞ্জ, সিলেট, জামালপুর, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, কুমিল্লা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, সকাল থেকেই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তাপমাত্রা ৩৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে অবস্থান করছে। দুপুরের দিকে অধিকাংশ এলাকায় তাপমাত্রা ৩৪ থেকে ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকতে পারে। কোথাও কোথাও তা ৩৭ থেকে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেশি থাকায় গরম আরও তীব্রভাবে অনুভূত হবে।
আবহাওয়া পরিস্থিতি অনুযায়ী, দেশের বেশিরভাগ এলাকায় আকাশ পরিষ্কার বা আংশিক মেঘলা থাকতে পারে। অনেক স্থানে বাতাসের গতি কম থাকায় অস্বস্তি আরও বাড়তে পারে। লোডশেডিং ও বাতাসহীন পরিবেশ পরিস্থিতিকে আরও কষ্টদায়ক করে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
তবে আগামী ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বৃষ্টি হলে কিছু সময়ের জন্য গরমের তীব্রতা কমতে পারে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা পর্যাপ্ত পানি পান, লেবুর শরবতসহ বিভিন্ন তরল খাবার গ্রহণ, হালকা ও ঢিলেঢালা পোশাক পরা এবং দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৪টার মধ্যে অপ্রয়োজনে বাইরে না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিদের প্রতি বিশেষ নজর রাখারও আহ্বান জানানো হয়েছে।
হিটস্ট্রোকের লক্ষণ হিসেবে অতিরিক্ত দুর্বলতা, মাথা ঘোরা, বমি বমি ভাব, প্রচণ্ড মাথাব্যথা, শরীরের অস্বাভাবিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি, বিভ্রান্তি ও অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। এমন উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত ছায়াযুক্ত স্থানে গিয়ে শরীর ঠান্ডা করার পাশাপাশি প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
আবহাওয়া সংশ্লিষ্ট পর্যবেক্ষকদের মতে, যেসব এলাকায় বৃষ্টিপাত হবে না এবং বাতাসের গতি কম থাকবে, সেসব এলাকায় সন্ধ্যা পর্যন্ত ভ্যাপসা গরমের তীব্রতা অব্যাহত থাকতে পারে। তাই জনসাধারণকে প্রয়োজনীয় সতর্কতা মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।