ঢাকাশনিবার , ১৮ এপ্রিল ২০২৬
  • অন্যান্য

ব্যাংক ও রাজস্ব খাতে অগ্রগতি না হলে ঝুঁকিতে আইএমএফ ঋণ

নিজস্ব প্রতিবেদক
এপ্রিল ১৮, ২০২৬ ১১:০৪ পূর্বাহ্ণ । ১০ জন

রাজস্ব ও ব্যাংকিং খাতে প্রত্যাশিত সংস্কার বাস্তবায়নে বাংলাদেশ পিছিয়ে রয়েছে বলে মন্তব্য করেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। এর পরিবর্তে অতিরিক্ত শর্ত যুক্ত করে একটি নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা শুরুর প্রস্তাব দিয়েছে সংস্থাটি।

এদিকে আইএমএফের ঋণের বকেয়া কিস্তি দ্রুত ছাড় নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি জানিয়েছেন, আগামী ১৫ দিনের মধ্যে ঝুলে থাকা বিষয়গুলোর সমাধান হবে বলে সরকার প্রত্যাশা করছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে অবস্থিত আইএমএফ সদর দফতরে শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের সঙ্গে সংস্থাটির দুটি টিমের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে বিষয়টি সাংবাদিকদের জানান অর্থমন্ত্রী।

জানা যায়, আইএমএফ থেকে বাংলাদেশ ৫.৫ বিলিয়ন ডলারের ঋণ কর্মসূচির আওতায় এখন পর্যন্ত কয়েকটি কিস্তি পেয়েছে। বাকি রয়েছে প্রায় ১.৮৬ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে চলতি অর্থবছরের জুনের মধ্যে প্রায় ১.৩ বিলিয়ন ডলার ছাড়ের প্রত্যাশা করছে বাংলাদেশ।

তবে ব্যাংক খাত সংস্কার, নতুন ব্যাংক রেজ্যুলেশন আইন এবং রাজস্ব আদায় পরিস্থিতির উন্নতিতে ধীরগতিকে কেন্দ্র করে কিস্তি ছাড়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে বলে খাত সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। যদিও অর্থমন্ত্রী এসব গণমাধ্যম প্রতিবেদনের সত্যতা নাকচ করেছেন।

২০২৩ সালে পূর্ববর্তী সরকারের সময় বাংলাদেশ আইএমএফের সঙ্গে প্রথমে ৪.৭ বিলিয়ন ডলারের ঋণচুক্তি স্বাক্ষর করে। পরবর্তীতে কর্মসূচির পরিধি বাড়িয়ে মোট ঋণ দাঁড়ায় ৫.৫ বিলিয়ন ডলারে। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত কয়েক দফায় কিস্তি হিসেবে অর্থ ছাড় হয়েছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, আইএমএফের নতুন শর্ত যুক্ত কর্মসূচি বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের আর্থিক খাতে সংস্কার প্রক্রিয়া আরও চাপের মুখে পড়তে পারে, তবে দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীলতা আনার সুযোগও তৈরি হতে পারে।