ঢাকাশনিবার , ২০ জুন ২০২৬
  1. সর্বশেষ

বিশ্বের প্রবীণ জনগোষ্ঠীর বর্তমান চিত্র

প্রতিবেদক
Ibrahim Khalil
১৪ মার্চ ২০২৫, ১০:২৩ পূর্বাহ্ণ

Link Copied!

বিশ্বব্যাপী জনসংখ্যার বয়সভিত্তিক কাঠামো দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। বর্তমানে উন্নত দেশগুলোর বেশিরভাগই প্রবীণ জনগোষ্ঠীর দ্রুত বৃদ্ধির মুখোমুখি, যেখানে উন্নয়নশীল দেশগুলো এখনো তুলনামূলকভাবে তরুণ জনগণের ভারসাম্য বজায় রেখেছে। জাতিসংঘের জনসংখ্যা বিভাগ কর্তৃক প্রকাশিত ২০২২ সালের “ওয়ার্ল্ড পপুলেশন প্রসপেক্টস” অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী মানুষের গড় অনুপাত ১০% হলেও, এই হার দেশভেদে ব্যাপক পার্থক্য দেখা যায়।

উন্নত দেশগুলোতে প্রবীণ জনগণের অনুপাত অত্যন্ত বেশি, যেমন মোনাকো (৩৬%), জাপান (৩০%), ইতালি (২৪%), ফিনল্যান্ড (২৩%), এবং গ্রিস (২৩%)। এসব দেশের উন্নত স্বাস্থ্যসেবা, দীর্ঘায়ু এবং নিম্ন জন্মহারই এই বৃদ্ধির প্রধান কারণ। স্বাস্থ্যসেবা উন্নত হওয়ায় মানুষের গড় আয়ু বেড়েছে, আর জন্মহার কমে যাওয়ার ফলে নতুন প্রজন্মের সংখ্যা হ্রাস পেয়েছে। নগরায়ণ এবং চাকরির বাজারের পরিবর্তনের কারণে অনেক দেশেই কম পরিবার গঠনের প্রবণতা দেখা গেছে। এর ফলে, কর্মক্ষম জনগণের সংখ্যা কমে যাচ্ছে, যা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং পেনশন, স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় চাপ সৃষ্টি করছে। প্রবীণদের যত্ন ও সেবার জন্যও বাড়তি জনবল প্রয়োজন হচ্ছে।

বিভিন্ন দেশগুলোর প্রবীণ জনগণের হার যদিও উচ্চ নয়, তবুও ভবিষ্যতে তাদের জন্যও বার্ধক্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, জার্মানি (২২%), ফ্রান্স (২১%), যুক্তরাজ্য (১৯%), কানাডা (১৯%) এবং যুক্তরাষ্ট্র (১৭%) এখনও তরুণ কর্মক্ষম জনগণের উপস্থিতি বজায় রেখেছে, তবে এগুলোও মধ্যম স্তরের প্রবীণ জনগণের হারে রয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়া এবং চীনের মতো দেশগুলোও জনসংখ্যার বার্ধক্যের পথে রয়েছে, বিশেষ করে চীনে এক সন্তান নীতির ফলস্বরূপ ভবিষ্যতে প্রবীণ জনগণের হার আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অপরদিকে, উন্নয়নশীল দেশগুলোতে প্রবীণ জনগণের অনুপাত তুলনামূলকভাবে কম, যেমন ভারত (৭%), ইন্দোনেশিয়া (৭%), পাকিস্তান (৪%), নাইজেরিয়া (৩%), সৌদি আরব (৩%) এবং আফগানিস্তান (২%)। এর কারণ হচ্ছে, এসব দেশে উচ্চ জন্মহার এবং স্বাস্থ্যসেবার সীমাবদ্ধতা, ফলে গড় আয়ু কম। এসব দেশে প্রবীণদের জন্য একটি সুরক্ষিত সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেই, যা তাদের অর্থনৈতিক অবস্থাকে দুর্বল করে রাখছে।

বিশ্বব্যাপী জনসংখ্যার বার্ধক্য অর্থনৈতিক, সামাজিক এবং স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে নতুন চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করছে। বিশেষ করে উন্নত দেশগুলোর জন্য এটি একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায়, এসব দেশগুলোর জন্য সম্ভাব্য সমাধান হিসেবে অভিবাসন নীতি পুনর্বিন্যাস, প্রবীণদের জন্য স্বাস্থ্যসেবা আরও কার্যকরী ও সহজলভ্য করা এবং কর্মসংস্থানে প্রবীণদের অন্তর্ভুক্ত করার জন্য অর্থনৈতিক নীতি পরিবর্তন করা যেতে পারে। উন্নয়নশীল দেশগুলোকে এখন থেকেই ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে, যাতে তারা প্রবীণদের জন্য সঠিক সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও অর্থনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখতে পারে।

এভাবে, বিশ্বের বেশিরভাগ দেশই প্রবীণ জনগণের বৃদ্ধির ধারা মোকাবিলার প্রস্তুতি নিচ্ছে, তবে ভবিষ্যতের জন্য সঠিক পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে, যাতে তারা একটি সুষ্ঠু এবং সুষম সমাজ গড়ে তুলতে পারে।

Facebook Comments Box

আরও পড়ুন

টানা দ্বিতীয় দফায় আবারও কমল স্বর্ণের দাম

vivo Empowers Students Through Nationwide University Photography Contest

বিশ্ববিদ্যালয় ফটোগ্রাফি প্রতিযোগিতায় শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতায় ভিভো

realme Tops Smartphone Sales on Daraz and Pickaboo

স্মার্টফোন বিক্রিতে দারাজ ও পিকাবুতে শীর্ষে রিয়েলমি

ফেঞ্চুগঞ্জে বজ্রাঘাতে দুই জেলের মৃত্যু

মায়ের কাজের চাপে পুষ্টিহীনতায় শিশু: গবেষণা

করোনা নিয়ে গোপন তথ্য প্রকাশ করলেন মার্কিন গোয়েন্দাপ্রধান

নারীর ক্ষমতায়ন ও জলবায়ু অভিযোজনে ইউএন উইমেনের আরও সহযোগিতা চাইল বাংলাদেশ

দুপুরের মধ্যে ৯ জেলার ওপর ঝড়ো হাওয়ার সতর্কতা

অফিসার্স ক্লাবে রূপালী ব্যাংকের এটিএম বুথ উদ্বোধন

তরুণীদের জন্য টাইপ-২ ডায়াবেটিস এখন মরণফাঁদ