ঢাকাবৃহস্পতিবার , ২০ অগাস্ট ২০২৬
  1. সর্বশেষ
  2. লাইফস্টাইল

বিশ্বের আট রঙিন ভবন, যেখানে স্থাপত্যে ফুটেছে রঙের নান্দনিকতা

প্রতিবেদক
বিপ্লব হোসাইন
২০ অগাস্ট ২০২৬, ১:৩৫ বিকাল

Link Copied!

স্থাপত্য শুধু ইট-পাথর, কংক্রিট কিংবা ধাতুর সমন্বয় নয়-রঙও একটি ভবনের চরিত্র ও সৌন্দর্যকে সম্পূর্ণ বদলে দিতে পারে। প্রাচীন মন্দির থেকে আধুনিক গ্রন্থাগার, কনসার্ট হল থেকে বর্জ্য দহনকেন্দ্র-বিশ্বের নানা প্রান্তে এমন কিছু স্থাপনা রয়েছে, যেগুলোর নকশায় রঙ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

স্থাপত্যে রঙের ব্যবহার অবশ্য নতুন কিছু নয়। প্রাচীন মিশর ও গ্রিসের বহুরঙা মন্দির, প্রাচীন রোমের রঙিন মার্বেল কিংবা মধ্যযুগীয় গির্জার বর্ণিল কাচ-সব ক্ষেত্রেই রঙ স্থাপত্যের নান্দনিকতা ও প্রতীকী অর্থকে আরও সমৃদ্ধ করেছে। আধুনিক সময়েও স্থপতি ও নকশাবিদেরা ভবনকে আলাদা বৈশিষ্ট্য দিতে রঙকে সৃজনশীলভাবে ব্যবহার করছেন।

অ্যাডাম নাথানিয়েল ফারম্যান ও কেট মাজাদেরের ‘ক্রোমাটিক আর্কিটেকচার-দ্য ক্রাফট অব কালার ইন ডিজাইন’ বইয়ে এমন আটটি রঙিন স্থাপত্যের কথা তুলে ধরা হয়েছে। ভবনগুলোতে রঙ কীভাবে নান্দনিকতা, সংস্কৃতি ও স্থাপত্যচিন্তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে, তারই চিত্র পাওয়া যায় এসব স্থাপনায়।

১. শ্রী রঙ্গনাথ স্বামী মন্দির, ভারত

ভারতের তামিলনাড়ুতে অবস্থিত শ্রী রঙ্গনাথ স্বামী মন্দির বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় স্থাপত্য কমপ্লেক্স। এর নির্মাণকাজ খ্রিস্টীয় প্রথম শতাব্দীতে শুরু হয়ে বিভিন্ন রাজবংশের আমলে কয়েক শতাব্দী ধরে বিস্তৃত হয়েছে।

১৫০ একরেরও বেশি এলাকাজুড়ে থাকা এই মন্দিরে রয়েছে ২১টি প্রবেশদ্বার বা গোপুরম। ত্রিমাত্রিক ভাস্কর্য ও স্থাপনাগুলো উজ্জ্বল রঙে সাজানো। রঙের ব্যবহার পুরো মন্দিরকে এমন এক আধ্যাত্মিক পরিবেশ দিয়েছে, যা দর্শনার্থীদের দৈনন্দিন বাস্তবতা থেকে ভিন্ন এক অনুভূতির জগতে নিয়ে যায়।

২. পালাউ দে লা মিউজিকা কাতালানা, স্পেন

বার্সেলোনার বিখ্যাত এই কনসার্ট হলটি ১৯০৮ সালে নির্মিত। স্থপতি লুইস দোমেনেচ ই মন্তানেরের নকশায় তৈরি ভবনটিতে আর্ট নুভো, রোমানেস্ক ও গথিক রিভাইভালের পাশাপাশি মুরিশ নকশার প্রভাব রয়েছে।

ভবনের পাথর, রেলিং, কাঠের অংশ, স্তম্ভ, আলোকসজ্জা ও বিভিন্ন অলংকরণে রঙের ব্যাপক ব্যবহার দেখা যায়। ফলে পুরো স্থাপনাটি যেন কোনো রূপকথার জগতের অংশ হয়ে উঠেছে।

৩. গার্ডিয়ান বিল্ডিং, যুক্তরাষ্ট্র

মিশিগানের ডেট্রয়েটে অবস্থিত গার্ডিয়ান বিল্ডিং ১৯২৯ সালে নির্মিত একটি উল্লেখযোগ্য আর্ট ডেকো স্থাপত্য। স্থানীয়দের কাছে এটি ‘ক্যাথেড্রাল অব ফাইন্যান্স’ নামেও পরিচিত।

ভবনটির বাইরের অংশে প্রায় ২০ লাখ কমলা রঙের ইট ও টেরাকোটা টাইলস ব্যবহার করা হয়েছে। ভেতরের প্রধান লবিতে রয়েছে তিনতলা উঁচু খিলান এবং উজ্জ্বল রঙের টাইলসের বিস্তৃত নকশা। ভবনটি ডেট্রয়েটের তৎকালীন বাণিজ্যিক সমৃদ্ধিরও প্রতীক হয়ে উঠেছে।

৪. ডি বিজেনকোর্ফ ডিপার্টমেন্ট স্টোর, নেদারল্যান্ডস

নেদারল্যান্ডসের আইনডহোভেনে অবস্থিত এই বিশাল ভবনটি ১৯৬৯ সালে ইতালীয় স্থপতি জিও পন্টি নকশা করেন। কথিত আছে, আকাশপথে ডাচ কৃষিজমির সবুজ ও বিচিত্র বিন্যাস দেখে তিনি ভবনটির রঙের ধারণা পেয়েছিলেন।

জানালাবিহীন বিশাল কাঠামোটিকে পন্টি উজ্জ্বল পান্না-সবুজ রঙে এমনভাবে রূপ দেন যে, একটি সাধারণ কংক্রিট ভবন পরিণত হয় শহরের অন্যতম দৃষ্টিনন্দন স্থাপনায়।

৫. রিভার্সিবল ডেস্টিনি লফটস, জাপান

টোকিওর এই আবাসন প্রকল্পটি ২০০৫ সালে মার্কিন প্রতিবন্ধী অধিকারকর্মী ও লেখিকা হেলেন কেলারের স্মরণে নকশা করা হয়। শিল্পী শুসাকু আরাকাওয়া ও কবি ম্যাডেলিন জিনসের পরিকল্পনায় তৈরি নয়টি লফটে সিলিন্ডার, কিউব, গোলকসহ নানা জ্যামিতিক কাঠামো ব্যবহার করা হয়েছে।

উজ্জ্বল রঙ, অসমতল মেঝে ও অপ্রচলিত ঘরবিন্যাসের মাধ্যমে বাসিন্দাদের প্রচলিত জীবনধারা থেকে বের করে এনে আরও সক্রিয় ও সচেতন করে তোলাই ছিল নকশার অন্যতম উদ্দেশ্য।

৬. মাইশিমা বর্জ্য দহন কেন্দ্র, জাপান

ওসাকার মাইশিমা বর্জ্য দহন কেন্দ্রটি অস্ট্রিয়ান শিল্পী ও স্থপতি ফ্রিডেনরাইখ হুন্ডার্টভাসারের নকশায় তৈরি। সাধারণ শিল্প স্থাপনার একঘেয়ে চেহারার বিপরীতে এটি যেন রূপকথার কোনো দুর্গ।

ভবনের বিভিন্ন অংশে হলুদ, লাল, নীল ও অ্যাকোয়া রঙের ব্যবহার রয়েছে। চিমনি, দেয়াল ও স্তম্ভের বৈচিত্র্যময় নকশা এটিকে একটি সাধারণ বর্জ্য ব্যবস্থাপনা স্থাপনার বদলে আকর্ষণীয় স্থাপত্যকর্মে পরিণত করেছে।

৭. লেগানেস সেন্ট্রাল লাইব্রেরি, স্পেন

স্পেনের লেগানেসে ২০১৯ সালে নির্মিত এই পাবলিক লাইব্রেরি ও পৌর আর্কাইভ ভবনটির নকশা করেছে বিএন অ্যাসোসিয়াডোস আর্কিটেক্টোস।

ভবনের সম্মুখভাগে ব্যবহার করা হয়েছে বড় আকারের প্যাস্টেল রঙের সিরামিক। গোলাকার ও ঢেউখেলানো এই নকশা ভেতরের বইয়ের তাকগুলোর বৈচিত্র্য ও বিপুল পরিমাণের প্রতীক হিসেবে কাজ করে। সূর্যের আলো সিরামিকের ওপর পড়লে ভবনটির প্যাস্টেল রঙ ও ম্যাট টেক্সচার আরও আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে।

৮. ক্রয়ডন কলোনেড, যুক্তরাজ্য

লন্ডনের ক্রয়ডনে পথচারীদের জন্য নির্মিত ৫০ মিটার দীর্ঘ এই স্থাপনাটি ২০২৩ সালে তৈরি করা হয়। নকশাকার অ্যাডাম নাথানিয়েল ফারম্যানের পরিকল্পনায় ১৬টি বিশাল স্তম্ভ ও দুটি দেয়াল হাজার হাজার হাতে তৈরি পোর্সেলিন টাইলসে আবৃত করা হয়েছে।

গভীর নীল থেকে ধীরে ধীরে ক্রিম-সাদা রঙে মিশে যাওয়া টাইলসের নকশা পুরো স্থাপনাটিকে আলাদা বৈশিষ্ট্য দিয়েছে। এর রঙ ও সিরামিক নকশায় বিশ্বের বিভিন্ন প্রাচীন সভ্যতার স্থাপত্য ঐতিহ্যের প্রভাবও তুলে ধরা হয়েছে।

রঙ যখন স্থাপত্যের ভাষা

এই আটটি স্থাপনা দেখিয়ে দেয়, রঙ শুধু ভবনকে সুন্দর করে তোলার উপকরণ নয়; এটি স্থাপত্যের ইতিহাস, সংস্কৃতি, পরিবেশ ও মানুষের অনুভূতির সঙ্গেও গভীরভাবে যুক্ত। কোথাও রঙ আধ্যাত্মিকতার প্রকাশ, কোথাও এটি নগর পরিচয়ের অংশ, আবার কোথাও প্রচলিত স্থাপত্যধারার বিরুদ্ধে সৃজনশীল প্রতিবাদের ভাষা।

Facebook Comments Box

আরও পড়ুন

কলেরা হলে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসা নিন: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

মনো-সামাজিক পরিচর্যায় পুলিশকে প্রশিক্ষণ, ভুক্তভোগীকে উন্নত সেবা দেওয়ার ওপর গুরুত্ব

মানুষের বদলে দেওয়া পৃথিবীতে দ্রুত বদলে যাচ্ছে প্রাণিজগৎ

রোগ প্রতিরোধে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

আগামী পাঁচ দিন বৃষ্টির পূর্বাভাস, কোথাও হতে পারে ভারী বর্ষণ

জাপানে ট্রেনের ধাক্কায় চার রেলশ্রমিক নিহত

স্বর্ণের দাম আবারও বাড়ল, ভরি কত?

অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বিস্কুট উৎপাদন, বেকারিকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা

ঢাকায় ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনে ১ হাজার ৮৪১ মামলা

তিস্তার ভাঙনে বিলীন স্কুল, পরে ফেলা হচ্ছে জিওব্যাগ

বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় অব্যবস্থাপনা, বরগুনা পৌরসভায় বাড়ছে জনভোগান্তি

দুপুরের মধ্যে ৬ জেলায় ঝড়সহ বজ্রবৃষ্টির শঙ্কা