ঢাকাসোমবার , ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  1. সর্বশেষ
  2. নিরাপদ খাদ্য

বিশ্বে আনারস উৎপাদনে শীর্ষে ইন্দোনেশিয়া, তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশও

প্রতিবেদক
Ibrahim Khalil
২১ জুলাই ২০২৫, ১:০৪ বিকাল

Link Copied!

র‌্যাংকিং রয়্যালস ও জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (FAO) ২০২৩ সালের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, আনারস উৎপাদনের ক্ষেত্রে বিশ্বব্যাপী বেশ কিছু দেশ গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। ফল হিসেবে আনারস শুধু স্বাদে নয়, পুষ্টিতেও অনন্য। তাই বৈশ্বিক বাজারে এর চাহিদা দিনদিন বাড়ছে। ২০২৩ সালে বিশ্বের মোট আনারস উৎপাদনের চিত্রে সবচেয়ে উজ্জ্বল অবস্থানে রয়েছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একটি দেশ—ইন্দোনেশিয়া।

ইন্দোনেশিয়া বছরে প্রায় ৩১ লক্ষ ৫৬ হাজার টনেরও বেশি আনারস উৎপাদন করে, যা তাকে বিশ্বে প্রথম স্থানে নিয়ে গেছে। এর ঠিক পেছনে রয়েছে ফিলিপাইন, যাদের উৎপাদন ২৯ লাখ ৪৪ হাজার টনের মতো। তৃতীয় স্থানে থাকা কোস্টা রিকা ২৯ লাখ ৩৭ হাজার টনের আনারস উৎপাদন করেছে, যা মূলত রপ্তানির জন্য বিশ্ববাজারে বিশেষভাবে পরিচিত।

বিশ্বের বৃহত্তম জনসংখ্যার দেশ চীনও পিছিয়ে নেই। দেশটি ২৪ লাখ ৬৮ হাজার টনেরও বেশি আনারস উৎপাদন করেছে ২০২৩ সালে, যা তাকে চতুর্থ স্থানে নিয়ে এসেছে। ব্রাজিল রয়েছে পঞ্চম স্থানে, যাদের উৎপাদনের পরিমাণ প্রায় ২৩ লাখ ৮৭ হাজার টন। ভারতের অবস্থান ষষ্ঠ, প্রায় ১৮ লাখ ২৮ হাজার টন উৎপাদন নিয়ে। আফ্রিকার নাইজেরিয়া প্রায় ১৬ লাখ ১৫ হাজার টন উৎপাদন করে এই তালিকায় সপ্তম স্থানে রয়েছে। মেক্সিকো ও থাইল্যান্ড যথাক্রমে আট ও নয় নম্বরে, যারা প্রায় ১২ লাখ ৭২ হাজার এবং ১২ লাখ ৫৮ হাজার টন উৎপাদন করেছে।

বাংলাদেশও এই তালিকায় রয়েছে, যদিও অবস্থান কিছুটা নিচে। ২০২৩ সালে বাংলাদেশে মোট ১ লাখ ৯৬ হাজার টনের মতো আনারস উৎপাদিত হয়েছে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আরও কিছু দেশ যেমন মালয়েশিয়া, ভিয়েতনাম ও থাইল্যান্ড উৎপাদনের দিক থেকে এগিয়ে আছে। বাংলাদেশের তুলনায় এসব দেশের উৎপাদন ক্ষমতা অনেক বেশি হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তাদের অবস্থানও শক্ত।

এছাড়া আফ্রিকার দেশ যেমন ক্যামেরুন, মালাউই, তানজানিয়া, ঘানা ও বেনিনও উল্লেখযোগ্য হারে আনারস উৎপাদন করে। দক্ষিণ আমেরিকার ব্রাজিল, কলম্বিয়া, ভেনিজুয়েলা, পেরু ও ইকুয়েডরও বড় আকারের উৎপাদনে রয়েছে, যা রপ্তানি ও স্থানীয় চাহিদা পূরণে সহায়ক। মধ্য আমেরিকার দেশগুলো যেমন গুয়েতেমালা, পানামা ও হন্ডুরাসও বিশ্ববাজারে আনারস সরবরাহে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখছে।

বিশ্বের নানা প্রান্তে জলবায়ু পরিবর্তন, কৃষি প্রযুক্তির উন্নয়ন এবং চাষিদের দক্ষতার ওপর ভিত্তি করে এই উৎপাদনের পরিমাণ প্রতি বছর পরিবর্তিত হতে পারে। তবে ২০২৩ সালের চিত্রে দেখা যাচ্ছে, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং ল্যাটিন আমেরিকার দেশগুলিই মূলত বিশ্বব্যাপী আনারস উৎপাদনের কেন্দ্রস্থল হয়ে উঠেছে।

বাংলাদেশের জন্য এই তথ্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ দেশটি এখনো উন্নয়নশীল পর্যায়ে থাকলেও কৃষিখাতে বৈচিত্র্য আনতে এবং রপ্তানিমুখী ফলচাষে এগিয়ে যেতে পারে। উৎপাদনের আধুনিক পদ্ধতি, কৃষকদের প্রশিক্ষণ এবং সংরক্ষণ ও পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটাতে পারলে বাংলাদেশও ভবিষ্যতে আনারস রপ্তানিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখতে পারবে।

Facebook Comments Box

আরও পড়ুন

upay Rewards Winners of August 2026 Campaigns

আগস্টের তিন ক্যাম্পেইনের বিজয়ীদের পুরস্কৃত করল উপায়

হামের উপসর্গে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু, নতুন শনাক্ত ৯০৫

সাতক্ষীরায় বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিহত

ডিআর কঙ্গোতে ইবোলার সংক্রমণ ৭ হাজার ছাড়াল, মৃত্যু ৩৩৯৮

চুয়াডাঙ্গায় দ্রুতগতির পিকআপভ্যানের ধাক্কায় বৃদ্ধা নিহত

ময়মনসিংহে ট্রাকচাপায় অন্তঃসত্ত্বা নারী নিহত

খুলনা-ঢাকা মহাসড়কে বাসের ধাক্কায় সাংবাদিক নিহত

আগামী পাঁচ দিনজুড়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টির পূর্বাভাস

ইন্দোনেশিয়ায় ২৪৩ যাত্রী-ক্রু বহনকারী ফেরির যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

উদ্বোধনী দিনে কৃষক কার্ডের প্রণোদনা পাবেন ১ লাখ ১০ হাজার কৃষক

রামপালে ৪৪২ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প একনেকে অনুমোদনের আশা