
বিওয়াইডি বাংলাদেশ তাদের অগ্রণী উদ্যোগ ‘ইউথ অ্যাপ্রেন্টিসশিপ প্রোগ্রাম ২০২৫’-এর প্রথম ধাপ সফলভাবে সম্পন্ন করেছে। দেশের অটোমোটিভ খাতে ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব গড়ে তুলতে এটি একটি কাঠামোগত ও কর্পোরেট-চালিত শিক্ষানবিশ কর্মসূচি, যা বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য বাস্তবমুখী শিল্পজ্ঞান অর্জনের নতুন সুযোগ তৈরি করেছে।
এই প্রোগ্রামের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের নিউ এনার্জি ভেহিকল (এনইভি) আর্কিটেকচার এবং বিওয়াইডির নিজস্ব উদ্ভাবনী প্রযুক্তির সঙ্গে সরাসরি পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে কর্পোরেট ও একাডেমিক শিক্ষার মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরির ক্ষেত্রে এটি একটি নতুন মানদণ্ড স্থাপন করেছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
প্রথম ধাপে বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট), আহসানউল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (এইউএসটি), ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ (আইইউবি), মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (এমআইএসটি) এবং ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (ইউআইইউ)—এই পাঁচটি স্বনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে বাছাই করা ১০ জন মেধাবী শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন।
অংশগ্রহণকারীরা কয়েকদিনব্যাপী বিশ্বমানের অটোমোটিভ শিল্পের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ তাত্ত্বিক জ্ঞানের পাশাপাশি সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ও কৌশলগত শিল্প জ্ঞান অর্জনের সুযোগ পান। ইভি পাওয়ারট্রেন, হাইব্রিড সিস্টেমসহ আধুনিক মোবিলিটির বিভিন্ন দিক নিয়ে পাঠ্যক্রম পরিচালনা করেন বিওয়াইডি বাংলাদেশের ইন-হাউস ট্রেইনার ও প্রোডাক্ট স্পেশালিস্ট মো. রেজওয়ান রহমান এবং প্রোডাক্ট ডেভেলপমেন্ট এক্সিকিউটিভ নাকিবুল ইসলাম।
প্রশিক্ষণে বিওয়াইডির সিগনেচার ‘ব্লেড ব্যাটারি’ প্রযুক্তির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। পাশাপাশি সাপ্লাই চেইন অপারেশন, কানেক্টিভিটি এবং সেফটি প্রোটোকল সংক্রান্ত মডিউলের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের অটোমোটিভ খাত সম্পর্কে একটি সামগ্রিক ধারণা প্রদান করা হয়।
সনদ প্রদান অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রোগ্রামের প্রথম ধাপের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটে। অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের সনদ প্রদান করেন বিওয়াইডি বাংলাদেশের চিফ মার্কেটিং অফিসার ইমতিয়াজ নওশের এবং হেড অব সাপ্লাই চেইন হোসেন মোহাম্মদ ইমতিয়াজ। এ সময় শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার পরিকল্পনা নিয়েও দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে চিফ মার্কেটিং অফিসার ইমতিয়াজ নওশের বলেন, “প্রথম ধাপের এই সফল পরিসমাপ্তি আমাদের জন্য অত্যন্ত গর্বের মুহূর্ত। আমরা বাংলাদেশের সবুজ বিপ্লবে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য মেধাবী তরুণদের প্রয়োজনীয় দক্ষতায় গড়ে তুলছি। বিশ্বমানের এনইভি প্রযুক্তির মাধ্যমে এই শিক্ষার্থীদের ক্ষমতায়ন মানে শুধু প্রযুক্তি শেখানো নয়, বরং একটি টেকসই ও ভবিষ্যৎমুখী মোবিলিটি ইকোসিস্টেমের ভিত্তি নির্মাণ।”
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই উদ্যোগ দেশের ক্রমবর্ধমান অটোমোটিভ খাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ। এটি কর্পোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) ও উদ্ভাবনের প্রতি বিওয়াইডির দীর্ঘমেয়াদি অঙ্গীকারকে প্রতিফলিত করে। ভবিষ্যতে কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণের পাশাপাশি আগামী প্রজন্মের বাংলাদেশি প্রকৌশলী ও তরুণ প্রতিভাদের ক্ষমতায়িত করতে ‘ইউথ অ্যাপ্রেন্টিসশিপ প্রোগ্রাম’ অব্যাহত রাখবে বিওয়াইডি বাংলাদেশ।