
বাংলাদেশ রেলওয়েকে ২০০টি ব্রডগেজ যাত্রীবাহী কোচ সরবরাহের চুক্তির আওতায় প্রথম দফায় ১৮টি কোচ পাঠিয়েছে ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান রাইটস লিমিটেড। ভারতের পাঞ্জাবের কাপুরথালায় অবস্থিত রেল কোচ কারখানায় তৈরি এসব কোচে যাত্রীদের আরাম ও নিরাপত্তা বাড়াতে বেশ কিছু নতুন সুবিধা যুক্ত করা হয়েছে।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গত ১২ অক্টোবর প্রথম চালানে এসব কোচ পাঠানো হয়। চালানে রয়েছে ১১টি শীতাতপনিয়ন্ত্রণবিহীন শোভন চেয়ার কার, তিনটি শীতাতপনিয়ন্ত্রিত চেয়ার কার, দুটি শীতাতপনিয়ন্ত্রিত স্লিপার কোচ এবং দুটি শীতাতপনিয়ন্ত্রিত পাওয়ার কার। পাওয়ার কারগুলোতে গার্ডের জন্য পৃথক কক্ষ ও মালপত্র রাখার জায়গা রয়েছে।
চুক্তি অনুযায়ী, সাত ধরনের কোচ তৈরি করে বাংলাদেশ রেলওয়েকে সরবরাহ করা হবে। বাংলাদেশের রেল পরিচালনার বাস্তবতা ও যাত্রীদের ভ্রমণ আরামদায়ক করার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে কোচগুলোর নকশায় বিভিন্ন পরিবর্তন আনা হয়েছে। রেল মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এর কিছু বৈশিষ্ট্য এ ধরনের এলএইচবি কোচে প্রথমবারের মতো যুক্ত করা হয়েছে।
নতুন কোচগুলোতে বিশেষভাবে নকশা করা হেলানো যায় এমন আসন রয়েছে। এসব আসনে স্টেইনলেস স্টিলের হাতল ও পা রাখার জায়গা যুক্ত করা হয়েছে। এতে যাত্রীরা নিজেদের সুবিধা অনুযায়ী আসনের অবস্থান পরিবর্তন করে বসতে পারবেন।
শীতাতপনিয়ন্ত্রিত কোচগুলোতে যাত্রীদের সুবিধার জন্য পাখা, সমন্বিত সিসিটিভি নজরদারি ব্যবস্থা, জরুরি সংকেত দেওয়ার সুবিধা এবং আংশিক খোলা যায় এমন জানালা রাখা হয়েছে। এ ছাড়া শিশুর যত্ন নেওয়ার জন্য পৃথক কক্ষ এবং প্রার্থনার জন্য একটি কক্ষের ব্যবস্থা রয়েছে।
বাংলাদেশের রেল পরিচালনার বাস্তবতা বিবেচনায় কোচগুলোর কাঠামোতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। অতিরিক্ত যাত্রীর চাপ সামলাতে ছাদ আরও মজবুত করা হয়েছে। ব্যস্ত সময়ে যাত্রীরা কোচের ছাদে উঠলে সৃষ্ট অতিরিক্ত ওজন বহনের বিষয়টিও নকশায় বিবেচনা করা হয়েছে।
নতুন কোচগুলোর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো সংঘর্ষের সময় যাত্রীদের সুরক্ষা বাড়ানোর উপযোগী কাঠামো। কোচগুলো ইউরোপীয় মানদণ্ড ইএন ১৫২২৭ অনুসরণ করে তৈরি করা হয়েছে। নির্ধারিত নিরাপত্তার মান পূরণে কোচের বাইরের মূল কাঠামোর নকশায় পরিবর্তন আনা হয়েছে, যা সংঘর্ষের ধাক্কা সামলানোর সক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করবে।
বাংলাদেশ রেলওয়ের চাহিদা অনুযায়ী কোচগুলোর বিদ্যুৎ ব্যবস্থাতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। ভারতীয় রেলওয়ের প্রচলিত কোচে ৭৫০ ভোল্টের বিদ্যুৎ ব্যবস্থা ব্যবহার করা হলেও বাংলাদেশে সরবরাহের জন্য তৈরি কোচগুলো ৪১৫ ভোল্টের বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় চলার উপযোগী করে নির্মাণ করা হয়েছে।
রেল মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ভারতের রেল কোচ কারখানা ও বাংলাদেশ রেলওয়ের মধ্যে সহযোগিতা শুরু হয় ২০১৫-১৬ অর্থবছরে। ওই সময়ে বাংলাদেশ রেলওয়েকে ১২০টি এলএইচবি ধরনের ব্রডগেজ যাত্রীবাহী কোচ সরবরাহ করা হয়েছিল। এর ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালে রাইটসের মাধ্যমে নতুন করে ২০০টি ব্রডগেজ যাত্রীবাহী কোচ কেনার ক্রয়াদেশ দেয় বাংলাদেশ রেলওয়ে।
রাইটস জানিয়েছে, প্রতিষ্ঠানটি এ পর্যন্ত ২৮০টির বেশি রেল ইঞ্জিন, ১ হাজার ৮৫টির বেশি কোচ এবং একাধিক ডিজেলচালিত ইউনিটের ট্রেনসেট সরবরাহ করেছে। নবরত্ন মর্যাদাপ্রাপ্ত ভারতের এ রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানটি এশিয়া, আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকা, দক্ষিণ আমেরিকা ও পশ্চিম এশিয়ার ৫৫টির বেশি দেশে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে।