
বর্তমান সরকারের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে দেশের প্রতিটি পরিবার বছরে অন্তত তিন থেকে চারবার একজন স্বাস্থ্যকর্মীর সেবা পাবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে যৌথ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ইপিআই পর্যালোচনার প্রাক্-আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।
ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, দেশের প্রান্তিক অঞ্চল থেকে শুরু করে নগর এলাকা পর্যন্ত সর্বস্তরে স্বাস্থ্যসেবার গুণগত মান নিশ্চিত করা এবং দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক অদক্ষতা দূর করতে সরকার বড় ধরনের পরিবর্তন আনছে। এ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দেশের প্রতিটি গ্রামীণ ইউনিয়ন ও শহরের প্রতিটি ওয়ার্ডে পৃথক প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ইউনিট গড়ে তোলা হবে।
তিনি জানান, জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে আরও এক লাখ ‘কমিউনিটি হেলথ অ্যান্ড ওয়েলবিং কর্মী’ নিয়োগের প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। প্রতিটি ইউনিয়ন বা ওয়ার্ডে নয় থেকে ১২ জন করে কমিউনিটি হেলথ কেয়ার অ্যান্ড ওয়েলবিং কর্মী নিয়োগ বা মোতায়েন করা হবে।
স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী বলেন, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা শক্তিশালী করা এবং স্বাস্থ্যব্যবস্থার দীর্ঘদিনের অদক্ষতা দূর করতে প্রতিটি স্থানীয় সরকার ইউনিটে এ সেবা কাঠামো গড়ে তোলা হবে। গ্রামীণ এলাকায় ইউনিয়ন এবং শহরাঞ্চলে ওয়ার্ডকে কেন্দ্র করে এসব ইউনিট পরিচালিত হবে।
তিনি আরও বলেন, টিকাদান ও রোগ নজরদারির ফলাফল শুধু টিকাদান কর্মসূচির জন্যই গুরুত্বপূর্ণ নয়; দেশের সামগ্রিক স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়ন ও জবাবদিহি বাড়াতেও এসব তথ্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাকে আরও টেকসই করা এবং অতীতের ভুলের পুনরাবৃত্তি রোধে সরকার সুনির্দিষ্ট ও বাস্তবভিত্তিক পদক্ষেপ নিচ্ছে।
অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) বাংলাদেশের ডেপুটি রিপ্রেজেন্টেটিভ ড. রাজেশ নরওয়েল, ইউনিসেফ বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন প্রতিনিধি জিলিয়ান মেলসপ, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস এবং পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. জিন্নাত রেহানাসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।