ঢাকাসোমবার , ১৫ জুন ২০২৬
  1. সর্বশেষ

পটুয়াখালীর সংরক্ষিত বন ঘিরে অবৈধ দখল-বাণিজ্যের অভিযোগ

প্রতিবেদক
Ibrahim Khalil
১৫ জুন ২০২৬, ১২:৫৬ অপরাহ্ণ

Link Copied!

পটুয়াখালীর উপকূলীয় সংরক্ষিত বনাঞ্চল ঘিরে বন কর্মকর্তাদের যোগসাজশে লাখ লাখ টাকার অবৈধ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। এতে প্রভাবশালীদের দখলে চলে গেছে বনাঞ্চলের খাল ও আশপাশের এলাকা, ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন স্থানীয় জেলে ও পশুপালনকারীরা।

অভিযোগ অনুযায়ী, দশমিনা উপজেলার চর হায়দর, লাল চর ও আগলা চরের প্রায় ২,২৯৫ একর সংরক্ষিত বনাঞ্চলে অনিয়ম ও অবৈধ দখল দীর্ঘদিন ধরে চলছে। স্থানীয়দের দাবি, বন বিভাগের কিছু কর্মকর্তা ও প্রভাবশালীদের সমন্বয়ে এসব এলাকায় অবৈধভাবে খাল দখল, বাঁধ নির্মাণ এবং মাছ ধরার নিয়ন্ত্রণ নেওয়া হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বন বিভাগের দশমিনা রেঞ্জ অফিসার মো. জাহাঙ্গীর হোসেন ও চর হায়দর বিট অফিসার রওশন হাসানের মাধ্যমে মৌখিকভাবে অর্থের বিনিময়ে কিছু ব্যক্তিকে বনাঞ্চল ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এরপর ওই ব্যক্তিরা বনের ভেতরে থাকা খালে শতাধিক অবৈধ বাঁধ দিয়ে নিষিদ্ধ জাল ব্যবহার করে মাছ শিকার নিয়ন্ত্রণ করছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

এতে সাধারণ জেলেদের কাছ থেকে বিপুল অর্থ আদায়ের অভিযোগও উঠেছে। টাকা না দিলে খালে মাছ ধরার সুযোগ না দেওয়ার ফলে অনেক জেলে পেশা হারানোর ঝুঁকিতে পড়েছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

এছাড়া বনাঞ্চলে মহিষ চড়ানোর জন্য প্রতিটি পশুর বিপরীতে ২ হাজার টাকা করে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন স্থানীয় পশুপালনকারীরাও। অভিযোগের বিরুদ্ধে কথা বললে হামলা, মামলা ও হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে বলেও দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে দশমিনা রেঞ্জ অফিসার মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, কাউকে বনাঞ্চল লিজ দেওয়া হয়নি। কিছু ব্যক্তি রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে অবস্থান করছে বলে তিনি দাবি করেন। গাছ কাটার ঘটনায় মামলা হওয়ায় প্রতিশোধ হিসেবে এসব অভিযোগ আনা হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

পটুয়াখালী জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিজন কুমার নন্দী বলেন, বনের ভেতরে খাল দখল ও নিষিদ্ধ জাল ব্যবহার করে মাছ ধরা মৎস্য সম্পদের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।

অন্যদিকে উপকূলীয় বন বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষণ কর্মকর্তা মোসা. নুরুন্নাহার জানান, সংরক্ষিত বনভূমি লিজ দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং খালগুলো দ্রুত দখলমুক্ত করা হবে।

পটুয়াখালী জেলার মোট ভূমির প্রায় ২ শতাংশ বনাঞ্চল, যার বেশিরভাগই সমুদ্রতীরবর্তী ম্যানগ্রোভ ও শ্বাসমূলীয় বন। পরিবেশবিদদের মতে, এসব বনাঞ্চল শুধু জীববৈচিত্র্য নয়, উপকূলীয় দুর্যোগ মোকাবিলাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই অবৈধ দখল ও বন ধ্বংস রোধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

Facebook Comments Box

আরও পড়ুন

ব্যাটারিচালিত রিকশার সিসা দূষণে ঝুঁকিতে শিশু ও ভবিষ্যৎ প্রজন্ম

এক থেকে দেড় বছরের মধ্যে পেঁয়াজ আমদানির প্রয়োজন হবে না: কৃষিমন্ত্রী

স্মার্ট সরকারি ব্যয় বাড়ালে কৃষিতে উৎপাদন ও কর্মসংস্থান বাড়বে: বিশ্বব্যাংক

টানা দ্বিতীয় দফায় বাড়ল রুপার দাম

চরফ্যাশনে কোস্ট গার্ডের অভিযানে মাছসহ তিন জেলে আটক

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতার খবরে বিশ্ববাজারে স্বস্তি

আবারও বাড়ল স্বর্ণের দাম, ভরি কত?

রিওতে দুই হেলিকপ্টারের সংঘর্ষে ছয়জন নিহত

দেশের তিন অঞ্চলে ঝড়ো হাওয়ার সতর্কতা

ব্যাকটেরিয়া নিধনে নতুন অস্ত্র ‘ব্যাকটেরিওফায’ ভাইরাস

জয়পুরহাটে একদিনেই দ্বিগুণ কাঁচা মরিচের দাম

কারওয়ান বাজার মেট্রো স্টেশনের নিচে অবৈধ দোকান উচ্ছেদে অভিযান