
দেশীয়ভাবে উৎপাদিত তৈলবীজ ব্যবহার করে ভোজ্যতেল উৎপাদনকারী শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে উৎসাহ দিতে বড় ধরনের কর-সুবিধা ঘোষণা করেছে সরকার। নতুন এই সুবিধার আওতায় যোগ্য শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত ধাপে ধাপে আয়কর অব্যাহতি পাবে। আগামী ১ জুলাই থেকে এ সুবিধা কার্যকর হবে।
সম্প্রতি রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সচিব মো. আব্দুর রহমান খান।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, আয়কর আইন, ২০২৩-এর ধারা ৭৬-এর উপধারা (১) অনুযায়ী স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত তৈলবীজকে কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করে ভোজ্যতেল উৎপাদনকারী শিল্পপ্রতিষ্ঠানের অর্জিত আয় নির্দিষ্ট শর্ত সাপেক্ষে আয়কর থেকে অব্যাহতি পাবে।
ঘোষিত সুবিধা অনুযায়ী, প্রথম পাঁচ বছর প্রতিষ্ঠানগুলো শতভাগ কর অব্যাহতি পাবে। এরপর ষষ্ঠ, সপ্তম ও অষ্টম বছরে ৫০ শতাংশ এবং নবম ও দশম বছরে ২৫ শতাংশ কর অব্যাহতি দেওয়া হবে।
তবে এই সুবিধা পেতে প্রতিষ্ঠানগুলোকে কয়েকটি শর্ত পূরণ করতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে আয়কর আইন, ২০২৩-এর সব বিধান মেনে চলা, কোম্পানি আইন, ১৯৯৪-এর অধীনে নিবন্ধিত হওয়া এবং স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত তৈলবীজকে কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করে ভোজ্যতেল উৎপাদন করা।
এ ছাড়া কর অব্যাহতির সুবিধা শুধুমাত্র ভোজ্যতেল উৎপাদন কার্যক্রম থেকে অর্জিত আয়ের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। এজন্য সংশ্লিষ্ট আয় ও ব্যয়ের পৃথক হিসাব সংরক্ষণ করতে হবে। পাশাপাশি প্রতি আয়বর্ষে নিরীক্ষিত হিসাব বিবরণী এবং স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত তৈলবীজ ব্যবহারের তথ্য জমা দিতে হবে।
প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, অন্য ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে অর্থ পরিশোধের ক্ষেত্রে আয়কর আইনের বিধান অনুযায়ী প্রযোজ্য উৎসে কর (টিডিএস) কেটে সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতাও থাকবে।