
ভালো ফলন, বাজারে ন্যায্য মূল্য এবং পাটজাত পণ্যের চাহিদা বৃদ্ধির কারণে নাটোরে আবারও বাড়ছে পাট চাষ। চলতি মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। ফলে জেলার বিভিন্ন এলাকায় এখন পাট কাটা, জাগ দেওয়া, আঁশ ছাড়ানো ও শুকানোর ব্যস্ততায় মুখর হয়ে উঠেছে গ্রামাঞ্চল।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর জেলায় ৩০ হাজার ৮৮০ হেক্টর জমিতে পাট আবাদ করার লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও আবাদ হয়েছে ৩৫ হাজার ৬৬ হেক্টরে। ইতোমধ্যে ১৪ হাজার ৮০০ হেক্টর জমির পাট কাটা শেষ হয়েছে এবং উৎপাদন হয়েছে প্রায় ৩০ হাজার ৯৯০ টন।
সরেজমিনে জেলার সিংড়া, গুরুদাসপুর ও নাটোর সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, জলাশয় ও নদীর তীরে চলছে পাট পচানো, আঁশ ছাড়ানো ও শুকানোর কাজ। এসব কাজে নারী-পুরুষ সমানভাবে অংশ নিচ্ছেন। অনেক শিক্ষার্থীও ছুটির দিনে পরিবারের সঙ্গে পাটের কাজ করছেন।
সিংড়া উপজেলার শ্রমিক হারেস মিয়া জানান, তারা দলবদ্ধভাবে পাটের আঁশ ছাড়ানোর কাজ করছেন। কেউ দৈনিক ৭০০ টাকা মজুরিতে, আবার কেউ প্রতি আঁটি হিসেবে পারিশ্রমিক পাচ্ছেন। অন্যদিকে অনেক নারী শ্রমিক পাটকাঠি নেওয়ার শর্তে এ কাজে অংশ নিচ্ছেন।
কৃষকরা বলছেন, চলতি মৌসুমে পর্যাপ্ত বৃষ্টির কারণে পাট জাগ দেওয়া সহজ হয়েছে। তবে রোদ কম থাকায় আঁশ শুকাতে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। এরপরও ভালো ফলন ও বাজারদরের কারণে তারা সন্তুষ্ট।
সিংড়ার কৃষক জুবায়ের হোসেন জানান, এবার সাত বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছেন। প্রতি বিঘায় প্রায় ১০ মণ ফলনের আশা করছেন। অন্যদিকে নলডাঙ্গার কৃষক আরিফুল ইসলাম বলেন, আমন মৌসুমের আগে পাট চাষ করলে জমির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত হয় এবং কৃষক বাড়তি লাভ পান।
নাটোরের বিভিন্ন পাটহাটে ইতোমধ্যে নতুন পাটের বেচাকেনা শুরু হয়েছে। বর্তমানে প্রতি মণ পাট ৩ হাজার থেকে ৪ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কৃষকদের আশা, মৌসুমের সঙ্গে সঙ্গে দাম আরও বাড়বে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. হাবিবুল ইসলাম খান বলেন, পরিবেশবান্ধব পণ্য হিসেবে দেশে-বিদেশে পাটের চাহিদা বাড়ছে। ভালো বাজারদর পাওয়ায় কৃষকরা লাভবান হচ্ছেন এবং পাট চাষে আগ্রহও বাড়ছে। কৃষকদের প্রণোদনা, প্রশিক্ষণ ও আধুনিক প্রযুক্তি সহায়তা দিয়ে কৃষি বিভাগ পাশে রয়েছে বলেও তিনি জানান।