ঢাকাশনিবার , ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  1. সর্বশেষ

পদ্মা ব্যারাজ জাতীয় পানি ব্যবস্থাপনার সমন্বিত পরিকল্পনা: ড. তিতুমীর

প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
৪ অগাস্ট ২০২৬, ১০:৪২ সকাল

Link Copied!

পদ্মা ব্যারাজকে শুধু একটি অবকাঠামো প্রকল্প নয়, বরং পরিবেশ, মানুষ ও নদীর সমন্বয়ে গড়ে ওঠা জাতীয় পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনার একটি সমন্বিত পরিকল্পনা হিসেবে বিবেচনা করা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।

সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে ‘পদ্মা ব্যারাজ: সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। ইনস্টিটিউট ফর গ্লোবাল কো-অপারেশন ফাউন্ডেশন (আইজিসিএফ) এ সংলাপের আয়োজন করে।

ড. তিতুমীর বলেন, দেশীয় প্রযুক্তি ও জনগণের বাস্তব চাহিদাকে সামনে রেখেই পদ্মা ব্যারাজের নকশা প্রণয়ন করা হয়েছে। স্থানীয় মানুষের মতামত ও পরিবেশগত বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় প্রকল্পের নকশায় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে।

তিনি বলেন, ভাটির দেশ হিসেবে বাংলাদেশের ন্যায্য পানির হিস্যা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক আইন ও তথ্যভিত্তিক কৌশল অনুসরণ করছে সরকার। একই সঙ্গে নাগরিক সমাজ ও বিশেষজ্ঞদের গঠনমূলক মতামতকে সরকার ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করছে।

আলোচনায় জানানো হয়, পদ্মা ব্যারাজ বাস্তবায়িত হলে প্রায় ২ হাজার ৯০০ মিলিয়ন ঘনমিটার পানি সংরক্ষণ সম্ভব হবে, যা শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকট কমাতে সহায়ক হবে। এছাড়া প্রকল্প থেকে প্রায় ১১৩ মেগাওয়াট পরিবেশবান্ধব জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং ব্যারাজকে কেন্দ্র করে সাতটি আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব টাউনশিপ গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের পরিবেশগত সংকট তুলে ধরে ড. তিতুমীর বলেন, সাতক্ষীরা, খুলনা ও বাগেরহাটে লবণাক্ততা বৃদ্ধি এবং সুপেয় পানির সংকট মোকাবিলায় মিঠা পানির প্রবাহ বাড়ানো জরুরি। এ উদ্যোগ সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি গড়াই, মাথাভাঙা, মধুমতি, চন্দনা ও ইছামতী নদীর পুনরুজ্জীবনের মাধ্যমে ভবদহসহ বিভিন্ন অঞ্চলের জলাবদ্ধতা নিরসনের পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি আরও জানান, পদ্মা ব্যারাজের মাধ্যমে বৃহত্তর কুষ্টিয়া, ফরিদপুর, যশোর, খুলনা, বরিশাল, পাবনা ও রাজশাহী অঞ্চলের প্রায় ৪৬ লাখ ৯০ হাজার হেক্টর জমিতে সেচ সুবিধা নিশ্চিত হবে। এতে খাদ্য নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি দেশের মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) শূন্য দশমিক ৫ থেকে ১ শতাংশ পর্যন্ত প্রবৃদ্ধি যোগ হতে পারে।

প্রকল্পটি ২০৩৩ সালের মধ্যে সম্পন্ন হওয়ার লক্ষ্য থাকলেও ২০২৯ সালের মধ্যেই প্রথম ধাপের কাজ শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

গোলটেবিলে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. বুলবুল সিদ্দিকীর সঞ্চালনায় বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, গবেষক, পানি বিশেষজ্ঞ ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকরা প্রকল্পের কারিগরি, পরিবেশগত ও টেকসই উন্নয়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে মতামত দেন।

Facebook Comments Box

আরও পড়ুন

টিসিবির কার্যক্রমে ডিজিটাল রূপান্তর, সাশ্রয় হবে ৩০০-৩৫০ কোটি টাকা

দুর্গম এলাকায় চিকিৎসাসেবা দিতে ভাসমান হাসপাতাল ‘স্বাস্থ্য তরী’ নির্মাণ করবে সরকার

চীনে বাংলাদেশি রোগীদের চিকিৎসায় বিশেষ সুবিধার ঘোষণা

বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড়ের সম্ভাবনা, সম্ভাব্য নাম ‘অর্নব’

‘সমন্বিত জলবায়ু পদক্ষেপ’ রক্ষা করতে পারে কোটি কোটি মানুষের প্রাণ

২০২৬ সালের ১২ সিনেমায় ৭৫১ বার দেখানো হয় ধূমপান ও তামাক ব্যবহারের দৃশ্য

রাজস্ব বৃদ্ধি ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় জাতীয় তামাক কর নীতি প্রণয়ন জরুরি

চাকরি স্থায়ীকরণের দাবিতে কুষ্টিয়ায় ফের বিএটিবি কর্মীদের মানববন্ধন

ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরকে প্রযুক্তি ও জনবলে শক্তিশালী করা হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী

হাওরে হাঁস চড়াতে গিয়ে বজ্রপাতে যুবকের মৃত্যু

টিসিবির কার্যক্রমে আসছে ডিজিটাল নজরদারি, বাদ ৫৯ লাখ অযোগ্য আবেদনকারী

আগামী মাসে রূপপুর থেকে জাতীয় গ্রিডে যাবে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ: রুশ রাষ্ট্রদূত