ঢাকাশুক্রবার , ২৩ অক্টোবর ২০২৬
  1. সর্বশেষ

তিস্তার ভাঙনে বিলীন স্কুল, পরে ফেলা হচ্ছে জিওব্যাগ

প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
২০ অগাস্ট ২০২৬, ১১:০০ সকাল

Link Copied!

‘এখন হামার স্কুলেই নাই, আর ওমরা আইসছে ব্যাগ নিয়া। এ্যালানিয়া কি করি হামরা ওমার জিও ব্যাগ। ওমাক কন ওমরা ওমার ব্যাগ নিয়া যাউক।’-তিস্তার ভাঙনে বিদ্যালয় বিলীন হওয়ার পর ক্ষোভ প্রকাশ করে এ কথা বলেন গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার চরবাসীর অভিভাবক মোজাম্মেল হক।

সুন্দরগঞ্জ উপজেলার চরাঞ্চলের একমাত্র শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ‘ভোরের পাখি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়’ নদীভাঙনে বিলীন হয়ে গেছে। বিদ্যালয়টি রক্ষায় আগে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় ক্ষোভ জানিয়েছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয়রা। বিদ্যালয়ের একটি অংশ নদীতে বিলীন হওয়ার পর বুধবার সকাল থেকে সেখানে জিওব্যাগ ফেলা শুরু হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, মঙ্গলবার ভোর থেকে তিস্তার তীব্র ভাঙনে বিদ্যালয়টির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ নদীগর্ভে চলে যায়। পরে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয় বিদ্যালয়ের অবশিষ্ট অংশের বিভিন্ন সরঞ্জাম।

তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই বিদ্যালয়টি তিস্তার ভাঙনের ঝুঁকিতে ছিল। বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের জানানোসহ বিদ্যালয় রক্ষায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে ইউপি চেয়ারম্যান, স্থানীয় সংসদ সদস্য, উপজেলা ও জেলা প্রশাসন এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা এলাকা পরিদর্শনও করেন।

সর্বশেষ গত ৮ আগস্ট পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন। এরপর বিদ্যালয়টি রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে প্রত্যাশা করেছিলেন স্থানীয়রা। কিন্তু কয়েক দিনের ব্যবধানেই বিদ্যালয়ের একটি বড় অংশ নদীতে বিলীন হয়ে যায়।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাইফুর রহমান মণ্ডল বলেন, ‘আজকে ট্রলারে ট্রলারে জিওব্যাগ ফেলা হচ্ছে। এই কাজটা যদি ওনারা আর দুই দিন আগে করত, তাহলে এত বড় বিপদ দেখতে হতো না আমাদের। অথচ বহুদিন বহু জায়গায় অভিযোগ দিয়েছিলাম। কেউ গুরুত্ব দেননি এতদিন। সবকিছু শেষ হয়ে যাওয়ার পর এসেছেন।’

স্থানীয়দের দাবি, বিদ্যালয়ের অবশিষ্ট অংশ রক্ষার পাশাপাশি দ্রুত নিরাপদ স্থানে এটি পুনঃস্থাপনের উদ্যোগ নিতে হবে। একই সঙ্গে তিস্তার ভাঙনপ্রবণ এলাকায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও জনবসতি রক্ষায় আগাম ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ঈফফাত জাহান তুলি বলেন, ভাঙন শুরু হওয়ার পর বিদ্যালয়ের সবকিছু খুলে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার জন্য চেয়ারম্যানকে বলা হয়েছিল। পরে তারা সেগুলো নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়েছেন।

গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম বলেন, ভাঙনের খবর পাওয়ার পরপরই জিওব্যাগ ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে সেখানে জিওব্যাগ ফেলার কাজ চলছে।

Facebook Comments Box

আরও পড়ুন

দেশব্যাপী হাতি জরিপ পরিচালনা করবে অরণ্যক ফাউন্ডেশন

বিশ্বের সেরা নতুন ভবনের স্বীকৃতি পেল রংপুরের ‘গ্রিন ফিল্ড ফ্যাক্টরি’

আম-লিচু বাগানে প্রথমবারের মতো মিলল নতুন প্রজাতির ঝিঁঝিঁ পোকা

জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় তামাক নিয়ন্ত্রণে দেশের রোল মডেল হতে পারে বরিশাল

পাট খাতে চীনের প্রযুক্তি ও গবেষণা সহযোগিতা চায় বাংলাদেশ

Xiaomi Launches Xiaomi TV S Pro Mini LED and Xiaomi TV X Mini LED Series in Bangladesh

বাংলাদেশে শাওমি টিভি এস প্রো মিনি এলইডি ও শাওমি টিভি এক্স মিনি এলইডি নিয়ে এলো শাওমি

স্তন ও জরায়ুমুখের ক্যানসার শনাক্তে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা জোরদার করছে সরকার

তৃণমূল পর্যায়ে স্তন ক্যান্সার শনাক্তে স্ক্রিনিং চালুর উদ্যোগ সরকারের

হামের উপসর্গে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু, নতুন রোগী ১,২৫৪

সিলেটে হামের উপসর্গে আরও ২ শিশুর মৃত্যু, মোট ১৯৫

সোনাইমুড়ীতে ট্রলির চাপায় মাদরাসাছাত্রের মৃত্যু