ঢাকামঙ্গলবার , ৩ নভেম্বর ২০২৬
  1. সর্বশেষ

জ্বালানি সংকটে কক্সবাজারে বোরো চাষ হুমকিতে, বন্ধ হাজারো সেচপাম্প

প্রতিবেদক
Ibrahim Khalil
২২ এপ্রিল ২০২৬, ১০:২৬ সকাল

Link Copied!

জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটে কক্সবাজার জেলায় বোরো ধানের চাষ মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে। প্রয়োজনীয় ডিজেল না পাওয়ায় হাজার হাজার সেচপাম্প বন্ধ হয়ে গেছে, ফলে মাঠে পানি সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। এতে জেলার অন্তত ২৫ হাজার হেক্টর জমির ধানখেত শুকিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

জেলা কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, কক্সবাজারের ৯টি উপজেলায় মোট ৭ হাজার ১৪৬টি সেচপাম্প রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৭০ শতাংশই ডিজেলচালিত। কিন্তু জ্বালানি সংকটের কারণে বর্তমানে ৪ হাজার ২০০টির বেশি পাম্প বন্ধ রয়েছে, যা সেচ কার্যক্রমকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে।

চলতি মৌসুমে জেলায় ৫৫ হাজার ৭০০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২ লাখ ৩৫ হাজার ৭৫২ মেট্রিক টন চাল। তবে বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন অনিশ্চিত হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সদরের ভারুয়াখালীর কৃষক রমিজ উদ্দিন জানান, তিন একর জমিতে বোরো ধান চাষ করলেও গত এক মাস ধরে ডিজেলের অভাবে সেচপাম্প ঠিকমতো চালাতে পারছেন না। তিনি আশঙ্কা করছেন, এভাবে আরও দুই সপ্তাহ চললে অধিকাংশ ধানগাছ নষ্ট হয়ে যাবে।

একই চিত্র দেখা গেছে মহেশখালীর কালারমারছড়া, হোয়ানক, মিজ্জিরপাড়া এবং সদরের ঝিলংজা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায়। প্রচণ্ড রোদে জমি ফেটে যাচ্ছে, কিন্তু সেচের পানির অভাবে কৃষকেরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

মহেশখালীর কৃষক আমির হামজা বলেন, গত বছর খালের পানি দিয়ে চাষ করা গেলেও এবার খাল শুকিয়ে যাওয়ায় অন্যের পাম্পের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে পর্যাপ্ত পানি পাওয়া যাচ্ছে না, ফলে ধানের গাছ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

অন্যদিকে, হোয়ানকের কৃষক জাহেদুল ইসলাম জানান, সাত কানি জমিতে চাষ করতে প্রায় লক্ষাধিক টাকা ব্যয় করেছেন তিনি। কিন্তু সেচের সংকটে ধান নষ্ট হলে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বেন।

কৃষকদের অভিযোগ, ফিলিং স্টেশনগুলোতে ডিজেল না থাকায় খুচরা বাজার থেকে বেশি দামে জ্বালানি কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাচ্ছে।

কৃষি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গভীর নলকূপ, লো-লিফট ও শ্যালো পাম্প চালাতে প্রতি ঘণ্টায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ডিজেল প্রয়োজন হয়। কিন্তু জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক না থাকায় সেচ কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। একই সঙ্গে ঘন ঘন লোডশেডিং পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

এ বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর কক্সবাজার অঞ্চলের উপপরিচালক ড. বিমল কুমার প্রামাণিক জানান, গত এক মাস ধরে জেলায় জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট চলছে। চাহিদামতো ডিজেল না পাওয়ায় অর্ধেকের বেশি সেচপাম্প চালানো যাচ্ছে না।

সংশ্লিষ্টদের দাবি, কৃষি উৎপাদন রক্ষায় জরুরি ভিত্তিতে ডিজেল সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। অন্যথায় কৃষকের লোকসান বাড়ার পাশাপাশি দেশের খাদ্য উৎপাদনেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

Facebook Comments Box

আরও পড়ুন

সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল তরুণ ইনফ্লুয়েন্সার জেজুনের

হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসক-নার্স সংকট নিরসনে দ্রুত পদক্ষেপের আহ্বান রাষ্ট্রপতির

সময়মতো ন্যায্যমূল্যে কৃষকের কাছে সার পৌঁছানোর নির্দেশ কৃষিমন্ত্রীর

৩৪ হাজার ৪৯৭ কোটি টাকায় পদ্মা ব্যারাজ, বদলে যাবে ১৯ জেলার চিত্র?

বাইন্যান্সের নিরাপত্তাব্যবস্থা ভেঙে ৬৩০ কোটি ডলার চুরি, নেপথ্যে কারা?

শুঁটকিতেও মিলল বিষাক্ত মাইক্রোপ্লাস্টিক: শীর্ষে লইট্টা ও চিংড়ি

যুদ্ধে বিপর্যস্ত কৃষ্ণসাগর: সাড়ে ৪ বছরে ১ লাখ ২০ হাজার ডলফিনের মৃত্যু

সড়ক দুর্ঘটনায় আহতদের জীবন বাঁচাতে তরুণদের প্রাথমিক চিকিৎসা ও সিপিআর প্রশিক্ষণ

হামের উপসর্গে ২৪ ঘণ্টায় দুই শিশুর মৃত্যু

কৃষকের কাছে সময়মতো ন্যায্যমূল্যে সার পৌঁছানোর তাগিদ কৃষিমন্ত্রীর

Tourism Fair Concludes with Tk 43 Crore in Business Over Three Days

তিন দিনে ৪৩ কোটি টাকার ব্যবসা, শেষ হলো পর্যটন মেলা