
বাংলাদেশে জলবায়ু-সহনশীল খাদ্যব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে পিকেএসএফ এবং আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থাগুলোর মধ্যে সম্ভাব্য সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (১৫ জুন) ঢাকায় অনুষ্ঠিত এই সভাটি প্রস্তাবিত “Growth for Climate Resilient and Environmental Entrepreneurship and Nutrition (GREEN)” প্রকল্পের আওতায় আয়োজন করা হয়। এতে অংশ নেয় আন্তর্জাতিক কৃষি উন্নয়ন তহবিল (ইফাদ), জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) এবং বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি)-এর প্রতিনিধিরা।
সভায় বাংলাদেশের জলবায়ু-সহনশীল কৃষি, খাদ্য নিরাপত্তা, পুষ্টি, কৃষি-প্রযুক্তি, টেকসই উদ্যোক্তা উন্নয়ন এবং সামগ্রিক খাদ্যব্যবস্থা রূপান্তরের বিষয়ে অংশীদারিত্ব আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
পিকেএসএফ-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ফজলুল কাদেরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় বক্তব্য দেন ইফাদ বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ড. ভ্যালেন্টাইন আচাঞ্চো, বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির ডেপুটি হেড অব প্রোগ্রাম মাইবেথ ব্ল্যাঙ্ক, এফএও-এর বাংলাদেশ ডেপুটি রিপ্রেজেন্টেটিভ দিয়া সানো এবং পিকেএসএফ-এর উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. আকন্দ মোহাম্মদ রফিকুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
ড. আচাঞ্চো বলেন, টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে ইফাদ উপকারভোগীদের কারিগরি প্রশিক্ষণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে বাংলাদেশ সরকারের মাধ্যমে অর্থায়ন সহায়তা দিয়ে থাকে।
সভায় পিকেএসএফ-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ফজলুল কাদের ক্ষুদ্র উদ্যোগ খাতের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে এ খাতের প্রসার জরুরি। তিনি বলেন, শুধু অর্থায়ন যথেষ্ট নয়; টেকসই পরিবর্তনের জন্য প্রয়োজন কারিগরি সহায়তা, বাজারে প্রবেশাধিকার, উদ্ভাবন এবং সক্ষমতা উন্নয়নের সমন্বিত উদ্যোগ।
তিনি আরও বলেন, পিকেএসএফ চাহিদাভিত্তিক কারিগরি সহায়তা, স্বল্পব্যয়ী উদ্যোগ, মূল্য সংযোজনমূলক কৃষি, সম্পদ-সাশ্রয়ী ও পরিচ্ছন্ন উৎপাদন (RECP) এবং বাজারভিত্তিক টেকসই সমাধানে গুরুত্ব দিচ্ছে।
সভায় খাদ্য নিরাপত্তা, গুণগত মান নিশ্চিতকরণ এবং রপ্তানি সক্ষমতা বাড়াতে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন খাদ্য পরীক্ষাগার ও সনদায়ন ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই ধরনের সমন্বিত উদ্যোগ বাংলাদেশের কৃষি ও খাদ্য ব্যবস্থাকে আরও টেকসই ও জলবায়ু-সহনশীল করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।