ঢাকামঙ্গলবার , ৩ নভেম্বর ২০২৬
  1. সর্বশেষ
  2. লাইফস্টাইল

কর্মক্ষেত্রের মনস্তাত্ত্বিক ঝুঁকিতে বছরে ৮.৪ লাখ মৃত্যু: আইএলও

প্রতিবেদক
Ibrahim Khalil
২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১২:১৬ বিকাল

Link Copied!

কর্মক্ষেত্রে মনস্তাত্ত্বিক ঝুঁকির কারণে প্রতি বছর বিশ্বে ৮ লাখ ৪০ হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হচ্ছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও)। সংস্থাটির নতুন বৈশ্বিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দীর্ঘ কর্মঘণ্টা, চাকরির অনিশ্চয়তা এবং কর্মক্ষেত্রে হয়রানি ও উৎপীড়নের মতো কারণগুলো এসব মৃত্যুর মূল উৎস।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, এই ঝুঁকিগুলোর কারণে প্রতি বছর প্রায় ৪ কোটি ৫০ লাখ ‘প্রতিবন্ধিতা-সমন্বিত জীবন বছর’ (DALYs) হারিয়ে যাচ্ছে। এতে অসুস্থতা, অক্ষমতা বা অকালমৃত্যুর কারণে সুস্থ জীবনের বছরগুলো নষ্ট হচ্ছে। এর ফলে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে প্রতি বছর প্রায় ১.৩৭ শতাংশ জিডিপির সমান ক্ষতি হচ্ছে বলে অনুমান করা হয়েছে।

মনস্তাত্ত্বিক-সামাজিক কর্মপরিবেশ কী

প্রতিবেদনে মনস্তাত্ত্বিক-সামাজিক কর্মপরিবেশকে কাজের নকশা, সংগঠন, ব্যবস্থাপনা এবং কর্মক্ষেত্র পরিচালনার নীতি ও পদ্ধতির সাথে সম্পর্কিত উপাদান হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। এসব উপাদান এককভাবে ও সম্মিলিতভাবে কর্মীদের স্বাস্থ্য, মানসিক সুস্থতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক কর্মক্ষমতাকে প্রভাবিত করে।

মৃত্যুর হিসাব কীভাবে করা হয়েছে

প্রতি বছর ৮ লাখ ৪০ হাজার মৃত্যুর এই হিসাব নির্ধারণে দুটি প্রধান উৎস ব্যবহার করা হয়েছে—

বৈশ্বিক প্রাদুর্ভাব তথ্য, যেখানে পাঁচটি ঝুঁকি বিশ্লেষণ করা হয়েছে:

১. উচ্চ কাজের চাপ (উচ্চ চাহিদা/কম নিয়ন্ত্রণ)
২. প্রচেষ্টা–পুরস্কারের ভারসাম্যহীনতা
৩. চাকরির অনিশ্চয়তা
৪. দীর্ঘ কর্মঘণ্টা
৫. কর্মক্ষেত্রে উৎপীড়ন ও হয়রানি

বৈজ্ঞানিক গবেষণা, যেখানে এসব ঝুঁকিকে হৃদরোগ, স্ট্রোক এবং আত্মহত্যাসহ মানসিক অসুস্থতার সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে।

এই বিশ্লেষণে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এবং গ্লোবাল বার্ডেন অব ডিজিজ (GBD) সমীক্ষার তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে।

পরিবর্তিত কর্মপরিবেশের প্রভাব

প্রতিবেদনে বলা হয়, এসব ঝুঁকি নতুন নয়, তবে ডিজিটালাইজেশন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, দূরবর্তী কর্মপরিবেশ এবং নতুন কর্মসংস্থান কাঠামোর কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে।

আইএলও-এর পেশাগত সুরক্ষা ও স্বাস্থ্য (OSH) নীতি ও সিস্টেম টিম লিড মানাল আজি বলেন, আধুনিক কর্মজগতে মনস্তাত্ত্বিক ঝুঁকিগুলো এখন পেশাগত সুরক্ষা ও স্বাস্থ্যের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ।

তিনি আরও বলেন, শ্রমিকদের মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্য রক্ষা শুধু প্রয়োজনীয় নয়, এটি উৎপাদনশীলতা, প্রাতিষ্ঠানিক কর্মক্ষমতা এবং টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্যও অপরিহার্য।

আইএলও’র মতামত ও সুপারিশ

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মনস্তাত্ত্বিক ঝুঁকিগুলোকে সক্রিয়ভাবে মোকাবেলা করা গেলে স্বাস্থ্যকর কর্মপরিবেশ তৈরি সম্ভব। এতে কর্মী ও প্রতিষ্ঠান উভয়ই উপকৃত হবে এবং বৈশ্বিক উৎপাদনশীলতা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বাড়বে।

Facebook Comments Box

আরও পড়ুন

স্ন্যাপড্রাগন ফাইভজি প্রসেসরসহ রেডমি ১৭ ফাইভজি উন্মোচন করল শাওমি

আগামী গ্রীষ্মের আগে ৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যুক্ত হবে জাতীয় গ্রিডে: প্রধানমন্ত্রী

পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ গড়তে সব প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান

ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে দুই বিভাগে বৃষ্টির সম্ভাবনা

নেপালে অবতরণের সময় দুই হেলিকপ্টারের সংঘর্ষ, নিহত ১

বুয়েটের মানদণ্ডে উত্তীর্ণ হলেই মিলবে ই-রিকশার নিবন্ধন

সার ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম হলে ডিলারশিপ বাতিল: কৃষিমন্ত্রী

গ্যাস সংকটের মধ্যে নোয়াখালীতে নতুন গ্যাসের সন্ধান

এক দিনে রেমিট্যান্স বেড়েছে পাঁচ গুণের বেশি

হিমালয়ে বড় বিপর্যয়ের শঙ্কা, ঝুঁকির মুখে প্রায় ৩ লাখ মানুষ

বিশ্বজুড়ে বাড়ছে জরুরি প্রস্তুতি, কীসের আশঙ্কায় খাবার-পানি মজুতের পরামর্শ?

ঢাকায় মেঘলা আকাশ, আবহাওয়া থাকবে শুষ্ক