ঢাকারবিবার , ২৫ অক্টোবর ২০২৬
  1. সর্বশেষ

কপ৩১-এর স্পন্সর কোক হোল্ডিংয়ের বিরুদ্ধে নীতি লঙ্ঘনের অভিযোগ

প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
২৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩:৫৬ বিকাল

Link Copied!

আসন্ন জাতিসংঘ জলবায়ু সম্মেলনের অন্যতম প্রধান বৈশ্বিক অংশীদার (স্পন্সর) হিসেবে নাম লিখিয়েছে তুরস্কের অন্যতম বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠী ‘কোক হোল্ডিং’। তবে সম্মেলনে যোগ দেওয়ার আগেই জলবায়ু সংক্রান্ত নিজস্ব লক্ষ্যমাত্রা কমিয়ে দেওয়া এবং তেল শোধনাগারের মাধ্যমে রেকর্ড ব্যবসা করায় তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে তুর্কি এই করপোরেট জায়ান্ট। ক্লাইমেট হোম নিউজের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গত সেপ্টেম্বরে নিউইয়র্কে কপ-৩১-এর তুর্কি প্রেসিডেন্সির পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিক ব্যবসায়িক নেতাদের সামনে জলবায়ু অগ্রাধিকার তুলে ধরার বক্তব্য দেওয়া হয়। ওই সময় বক্তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন কোক হোল্ডিংয়ের বোর্ডের ভাইস চেয়ার আলী কোক। সেখানে তিনি দাবি করেন, তাদের পারিবারিক এই কোম্পানির জলবায়ু রেকর্ড অন্যদের জন্য ‘অনুপ্রেরণাদায়ক’।

কিন্তু কোম্পানির অভ্যন্তরীণ রেকর্ড ও নথি বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। কোক হোল্ডিংয়ের সবচেয়ে বড় আয়ের উৎস হলো তুরস্কের বৃহত্তম তেল শোধনাগার ‘তুপ্রাশ’। কোম্পানিটি তাদের শোধনাগারগুলো ‘সর্বোচ্চ সক্ষমতায়’ চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছে। শুধু তাই নয়, গত বছর মূল কোম্পানি ও এর সহযোগী প্রতিষ্ঠান উভয়ই তাদের ২০৩০ সালের জলবায়ু লক্ষ্যমাত্রা উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমিয়ে দিয়েছে, যা তারা ইতিমধ্যেই প্রায় অর্জন করে ফেলেছিল।

পরিবেশবাদী ও জলবায়ু গবেষকদের মতে, যে সমস্ত কোম্পানি জীবাশ্ম জ্বালানি (তেল পরিশোধন) থেকে তাদের মূল আয় করে, তাদের কপ-এর মতো বৈশ্বিক জলবায়ু সম্মেলনের স্পন্সর করা চরম বিতর্কিত এবং জাতিসংঘের ‘জলবায়ু সততা’ নীতিমালার পরিপন্থী। করপোরেট লবিং পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান ‘করপোরেট ইউরোপ অবজারভেটরি’-এর গবেষক পাসকো সাবিদো বলেন, ‘যারা তেল পরিশোধন করে শত শত কোটি টাকা কামায়, তারা কীভাবে জলবায়ু সম্মেলনের স্পন্সর হতে পারে? এটি ইউএনএফসিসিসির জলবায়ু সততা চেকের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলেছে।’

২০২১ সালে কোক হোল্ডিং ও তুপ্রাশ ২০৫০ সালের মধ্যে কার্বন-নিউট্রালের (শূন্য কার্বন নির্গমন) প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু ২০২৫ সালে এসে তারা নিজেরাই ২০৩০ সালের মধ্যে নিজেদের কার্যক্রমের কার্বন নির্গমন কমানোর লক্ষ্যমাত্রা ২৭ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২০ শতাংশে নামিয়ে আনে। একই সঙ্গে কোম্পানিটি জানায়, পরিবর্তিত ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি, অর্থনৈতিক বাস্তবতা এবং বিশ্ববাজারে জীবাশ্ম জ্বালানির ক্রমবর্ধমান চাহিদার কারণে তাদের এই অবস্থান পরিবর্তন করতে হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জীবাশ্ম জ্বালানি খাতকে টিকিয়ে রেখে কেবল লোক দেখানো নবায়নযোগ্য জ্বালানির কথা বলা বৈশ্বিক জলবায়ু লক্ষ্য অর্জনে বড় ধরনের বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। অথচ বর্তমান তেল ও গ্যাস সংকটের বাজারে তুরস্কের এই তেল ব্যবসায়ী গোষ্ঠীটি রেকর্ড মুনাফা লুফে নিচ্ছে।

Facebook Comments Box

আরও পড়ুন

বিমানবন্দরের আদলে মেট্রোরেল স্টেশনে বসছে নিরাপত্তা সরঞ্জাম

খাদ্য নিরাপত্তায় যুক্তরাষ্ট্রের কারিগরি সহায়তা চায় বাংলাদেশ

ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কার মধ্যে দেশের যেসব অঞ্চলে বৃষ্টি হতে পারে

হাতিয়ায় নদীভাঙন রোধে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের দাবি

কাজীপুরে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় ঘটনাস্থলেই বৃদ্ধের মৃত্যু

সাভারে বায়ুদূষণ রোধে নাগরিকদের সম্পৃক্ততার আহ্বান

আজ বৃষ্টি হবে যেসব এলাকায়, বাড়তে পারে দিনের তাপমাত্রা

পঞ্চগড়ে তাপমাত্রা ১৭.৪ ডিগ্রি, শীতের আগমনী বার্তা

টানা চতুর্থবার কমল স্বর্ণের দাম, ভরি কত?

বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ, অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কা

৮,০০০ এমএএইচ ব্যাটারি ও স্মার্ট ফিচারে ভিভো ওয়াই৩২

vivo Y32: An All-in-One Smart Performer