
জলবায়ু পরিবর্তন ও বৈশ্বিক প্রকৃতি সুরক্ষায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের অবস্থান থেকে সরে এসে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম ক্রান্তীয় রেইনফরেস্ট ‘কঙ্গো বেসিন’ রক্ষায় গৃহীত কোটি কোটি পাউন্ডের একাধিক উন্নয়ন ও সংরক্ষণ প্রকল্প বাতিল করেছে যুক্তরাজ্য সরকার। ইউকে সরকারের এই সিদ্ধান্তের পর রেইনফরেস্ট অঞ্চল রক্ষা এবং স্থানীয় দারিদ্র্যপীড়িত জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নের জন্য বরাদ্দকৃত কোটি কোটি পাউন্ডের তহবিল অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। পরিবেশভিত্তিক আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা ‘কার্বন ব্রিফ’ -এর বিশেষ প্রতিবেদনে এই তথ্য সামনে আসার পর বিশ্বজুড়ে পরিবেশবাদী ও আন্তর্জাতিক কূটনীতিবিদদের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
দক্ষিণ আমেরিকার আমাজন রেইনফরেস্টের পরেই আয়তনের দিক থেকে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম প্রাকৃতির বনভূমি হলো আফ্রিক মহাদেশের কঙ্গো বেসিন। প্রায় ৫০০ মিলিয়ন একর এলাকাজুড়ে বিস্তৃত এই বিশাল বনভূমি পৃথিবীর ‘দ্বিতীয় ফুসফুস’ হিসেবে পরিচিত। এটি বায়ুমণ্ডল থেকে বিপুল পরিমাণ কার্বন ডাই অক্সাইড শোষণ করে পৃথিবীর তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তন রোধে ঢাল হিসেবে কাজ করে। ছয়টি দেশকে স্পর্শ করা এই বনাঞ্চল বিরল প্রজাতির প্রাণী ও উদ্ভিদ প্রজাতির অভয়াশ্রম এবং প্রায় ১০ কোটি মানুষের প্রত্যক্ষ জীবিকার উৎস। পরিবেশবিদদের মতে, আমাজন বা কঙ্গোর মতো স্পর্শকাতর বনাঞ্চলের ক্ষয় বা ধ্বংস বৈশ্বিক জলবায়ু নিরাপত্তার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্যও বড় বিপর্যয় ডেকে আনবে।
যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র, কমনওয়েলথ ও উন্নয়ন দপ্তর (এফসিডিও) এর আন্তর্জাতিক উন্নয়ন ও প্রকৃতি তহবিল বাজেটে বড় ধরনের সমন্বয় আনার অংশ হিসেবে কঙ্গো বেসিন এলাকার প্রকল্পগুলো বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যদিও যুক্তরাজ্য সরকারের দাবি, তারা কঙ্গো অববাহিকাসহ রেইনফরেস্ট অঞ্চলগুলোকে এখনো ‘অগ্রাধিকার’ দিচ্ছে, তবে নতুন বৈদেশিক সাহায্য কৌশলে বন সুরক্ষার জন্য সুনির্দিষ্ট ও সংরক্ষিত তহবিল বাদ দেওয়ায় সিভিল সোসাইটি গ্রুপ ও ব্রিটিশ এমপিরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ব্রিটিশ পার্লামেন্টের ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান সারা চ্যাম্পিয়ন জানান, পরিবেশ সুরক্ষায় নির্দিষ্ট তহবিল বজায় রাখাই সবচেয়ে সাশ্রয়ী ও কার্যকর মাধ্যম।
পরিবেশ পর্যবেক্ষকদের মতে, একসময় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পরিবেশ ও প্রকৃতি সুরক্ষায় নেতৃত্ব দেওয়া যুক্তরাজ্য এখন তার দেওয়া প্রতিশ্রুতি ভাঙার দিকে এগোচ্ছে। আমাজন ও কঙ্গোর মতো রেইনফরেস্ট রক্ষা করা কেবল স্থানীয় পরিবেশের বিষয় নয়, এটি বিশ্বব্যাপী জলবায়ু সহনশীলতার মূল ভিত্তি। আন্তর্জাতিক আর্থিক সহায়তার এমন ঘাটতি বৈশ্বিক কার্বন নির্গমন বৃদ্ধি, বনাঞ্চল ধ্বংস এবং আফ্রিকান অঞ্চলের পরিবেশগত সংকটকে আরও ঘনীভূত করবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।