
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ইন্দোনেশিয়ার বন ও পিটল্যান্ডে সৃষ্ট ভয়াবহ দাবানল থেকে নির্গত বিষাক্ত ধোঁয়ার কারণে তীব্র পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য সংকট দেখা দিয়েছে। এই আন্তঃসীমান্ত ধোঁয়া সংকট স্থায়ীভাবে সমাধানের লক্ষ্যে আসন্ন আসিয়ান পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে বিষয়টি তোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মালয়েশিয়া। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মাদ হাসান জানিয়েছেন, পরিবেশদূষণ মোকাবিলায় বর্তমান আঞ্চলিক প্রক্রিয়াগুলোকে আরও কার্যকর ও শক্তিশালী করার তাগিদ দেবে কুয়ালালামপুর।

চলতি বছরের ‘সুপার এল নিনো’ আবহাওয়া পরিস্থিতির দীর্ঘায়িত শুষ্ক মরসুমের কারণে আগস্ট থেকে শুরু হওয়া এই পরিবেশগত সংকট বর্তমানে চরম আকার ধারণ করেছে। বায়ুমণ্ডলের মান সূচক মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছে যাওয়ায় জোহর ও রাজধানী কুয়ালালামপুরসহ মালয়েশিয়ার একাধিক রাজ্যে সমস্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিশুকালীন যত্ন কেন্দ্র বন্ধ রাখতে হয়েছে। দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ায় ও বিষাক্ত বাতাসের কারণে বিভিন্ন আউটডোর অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়েছে। শুধু মালয়েশিয়া নয়, এই সংকটের প্রভাব ছড়িয়ে পড়েছে সিঙ্গাপুর ও ব্রুনাইতেও।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ানতোর সঙ্গে সরাসরি ফোনে কথা বলে জরুরি ও কার্যকর পদক্ষেপের অনুরোধ জানিয়েছেন। মালয়েশিয়ার পক্ষ থেকে ইন্দোনেশিয়াকে সহায়তার প্রস্তাব দেওয়া হলেও ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সুমাত্রা ও পশ্চিম কালিমান্তানে আগুন নেভাতে দেশটির সরকার ৬০ হাজারেরও বেশি কর্মী, ৪৮টি হেলিকপ্টার এবং ওয়াটার বোম্বিং ও কৃত্রিম বৃষ্টির জন্য বিশেষ বিমান মোতায়েন রেখেছে। তবে ঘন ধোঁয়া ও দুর্গম এলাকার কারণে আগুন নেভানোর কাজে চরম ব্যাহত হচ্ছে।
প্রতিবছর শুষ্ক মৌসুমে বনাঞ্চল পোড়ানোর ফলে এই ধরনের আঞ্চলিক দুর্যোগ সৃষ্টি হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ভুক্তভোগী দেশগুলো। মালয়েশিয়া মনে করে, এটি কেবল দ্বিপাক্ষিক আলোচনাতেই সীমাবদ্ধ না রেখে আসিয়ানের প্রতিটি সদস্য রাষ্ট্রের সম্মিলিত দায়িত্ব হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। তাই আসন্ন আসিয়ান শীর্ষ সম্মেলনের প্রাক্কালে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে আন্তঃসীমান্ত নজরদারি বাড়ানো এবং অবহেলা বা বেআইনি বন পোড়ানোর বিরুদ্ধে কঠোর নীতি নির্ধারণে চাপ দেবে মালয়েশিয়া।