
ফেনীতে চলতি বছরের শুরু থেকে হামের উপসর্গ নিয়ে ২ হাজার ৪১৬ জন চিকিৎসা নিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি রোগী ফেনী পৌরসভা এলাকায়। এদিকে অক্টোবরের প্রথম ১২ দিনে জেলায় নতুন করে ৩০৯ জনের শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে।
জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১২ অক্টোবর পর্যন্ত জেলায় হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নেওয়া রোগীদের মধ্যে ২ হাজার ৩৭৫ জন সুস্থ হয়েছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ২৫ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন ২০ জন।
সোমবার (১২ অক্টোবর) রাতে জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
উপজেলাভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ফেনী পৌরসভা এলাকায় হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন ২ হাজার ১৩৯ জন। তাঁদের মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ২ হাজার ১০০ জন। এ ছাড়া সোনাগাজীতে ১৪৫ জন, দাগনভূঞায় ৫৬ জন, ছাগলনাইয়ায় ৪৩ জন, ফেনী সদরে ১৭ জন, পরশুরামে ৯ জন এবং ফুলগাজীতে ৭ জন চিকিৎসা নিয়েছেন।
হাসপাতালভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, ফেনীর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে চলতি বছরে হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন ২ হাজার ১৩৯ জন। তাঁদের মধ্যে ২ হাজার ১০০ জন ছাড়পত্র পেয়েছেন। বর্তমানে এ হাসপাতালে ৩৯ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন।
এ ছাড়া দাগনভূঞা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৫৬ জন, ছাগলনাইয়ায় ২৯ জন, ফুলগাজীতে ২ জন, পরশুরামে ৪ জন, সোনাগাজীতে ১৩২ জন এবং বেসরকারি হাসপাতালে ৩ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো. আরিফুজ্জামান বলেন, হাম প্রতিরোধে টিকাদান কার্যক্রমের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির পাশাপাশি বিশেষ ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে শিশুদের টিকার আওতায় আনার চেষ্টা চলছে, যাতে কোনো শিশু টিকাদান থেকে বাদ না পড়ে।
তিনি আরও বলেন, হাম প্রতিরোধে টিকাদানের পাশাপাশি শিশুদের পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করাও জরুরি। বিশেষ করে শিশুদের পুষ্টির বিষয়ে মায়েদের সচেতন থাকতে হবে। এসব উদ্যোগ শিশুদের সুস্থ রাখতে সহায়তা করবে।