
আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামে বড় ধরনের পতন দেখা গেছে। বুধবার (১০ জুন) স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম প্রায় ২ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৭৪ দশমিক ৭০ ডলারে নেমে এসেছে। একই সময়ে আগস্ট ডেলিভারির মার্কিন স্বর্ণের ফিউচারও ২ দশমিক ৪ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৯৮ দশমিক ৮২ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা, তেলের দাম বৃদ্ধি এবং মুদ্রাস্ফীতি ও সুদের হার বাড়ার আশঙ্কা স্বর্ণবাজারে চাপ সৃষ্টি করেছে। মার্কিন ডলারের মূল্য শক্তিশালী হওয়ায় অন্যান্য মুদ্রাধারীদের জন্য স্বর্ণ কেনা ব্যয়বহুল হয়ে পড়েছে, যা চাহিদা কমিয়ে দিতে পারে।
এদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম প্রায় ১ শতাংশ বেড়েছে। এতে দীর্ঘ সময় উচ্চ সুদের হার বহাল থাকার সম্ভাবনা জোরালো হয়েছে। বাজারের ধারণা, চলতি বছরের শেষ নাগাদ যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার বাড়াতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্বর্ণকে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে ধরা হলেও উচ্চ সুদের পরিবেশে এর আকর্ষণ কমে যায়, কারণ স্বর্ণ থেকে সরাসরি কোনো সুদ বা আয় পাওয়া যায় না।
বিশ্ববাজারের এই মূল্যপতনের প্রভাব দেশের বাজারেও পড়তে পারে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমলে সাধারণত দেশীয় বাজারেও স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়।
সবশেষ গত ৬ জুন বাজুস ২২ ক্যারেট স্বর্ণের প্রতি ভরির দাম ৫ হাজার ৪৮২ টাকা কমিয়ে ২ লাখ ২৯ হাজার ৩৭৩ টাকা নির্ধারণ করে। বর্তমানে ২১ ক্যারেট স্বর্ণের প্রতি ভরি বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ১৮ হাজার ৯৩৩ টাকায়, ১৮ ক্যারেট ১ লাখ ৮৭ হাজার ৬৭৪ টাকায় এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণ ১ লাখ ৫২ হাজার ৮৫৭ টাকায়।
স্বর্ণের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে রুপা, প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের দামও কমেছে। ফলে মূল্যবান ধাতুর বাজারে সামগ্রিকভাবে নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।