ঢাকাবৃহস্পতিবার , ৬ অগাস্ট ২০২৬
  1. সর্বশেষ

অর্থনীতি, সংস্কৃতি ও পরিবেশ সুরক্ষায় স্থানীয়করণ জরুরি

প্রতিবেদক
Ibrahim Khalil
২১ জুন ২০২৬, ৪:৫৯ বিকাল

Link Copied!

বর্তমানে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিশ্বব্যাপী মানবজাতি, প্রাণীকুল এবং প্রকৃতি চরম হুমকির মুখে পড়েছে। বৈশ্বিক বাজার ব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা এবং স্থানীয় সংস্কৃতি ও অর্থনীতির অবমূল্যায়ন, পরিবেশ ও সমাজের জন্য দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকি তৈরি করছে। এই বাস্তবতায় স্থানীয় উৎপাদন, দেশীয় জ্ঞান, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে পুনরুজ্জীবিত করা জরুরি। স্থানীয় অর্থনীতি, সংস্কৃতি ও দেশীয় জ্ঞানচর্চাকে শক্তিশালী করার আহ্বান জানিয়ে আজ ২১ জুন ২০২৬ (রোববার ) পালিত হয় বিশ্ব স্থানীয়করণ দিবস-২০২৬। দিবসটি উদ্‌যাপন উপলক্ষ্যে ইনস্টিটিউট অব ওয়েলবীইং বাংলাদেশ এবং ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ (ডাব্লিউবিবি) ট্রাস্ট যৌথভাবে আলোচনা সভা, প্রদর্শনী, ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলা ও কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করে।

“জলবায়ু ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় স্থানীয় অর্থনীতি, সংস্কৃতি ও জ্ঞানের প্রসার” শীর্ষক প্রতিপাদ্যে ডাব্লিউবিবি ট্রাস্টের কার্যালয়ে আয়োজিত উক্ত অনুষ্ঠানে পরিবেশবাদী সংগঠন, জনস্বাস্থ্য কর্মী, আইনজীবী, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধি, গণমাধ্যমকর্মী, শিক্ষক, প্রায় শতাধিক শিক্ষার্থী এবং তরুণ স্বেচ্ছাসেবীগণ অংশগ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল দেশীয় ঐতিহ্য ও জীববৈচিত্র্যভিত্তিক প্রদর্শনী। এতে দেশীয় ফলমূল ও শাকসবজি, ঔষধি গাছ, আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ব্যবহৃত তৈজসপত্র ও পোশাক, এবং ঐতিহ্যবাহী বিভিন্ন খেলাধুলা উপস্থাপন করা হয়। এছাড়া অনুষ্ঠানে দেশীয় পাখির সচিত্র পোস্টার প্রদর্শন করা হয়। ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলার আয়োজন তরুণ প্রজন্মকে স্থানীয় সংস্কৃতি ও শেকড়ের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ করে দেয়। শিক্ষার্থীদের জন্য আয়োজিত কুইজ প্রতিযোগিতায় স্থানীয় সংস্কৃতি, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য বিষয়ক কুইজে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

ডাব্লিউবিবি ট্রাস্টের নির্বাহী পরিচালক সাইফুদ্দিন আহমেদ বলেন, “বাংলাদেশ একটি সমৃদ্ধ ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির দেশ। কিন্তু বিশ্বায়নের প্রভাবে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ধীরে ধীরে নিজেদের সংস্কৃতি থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে। তিনি আরও বলেন, “দেশীয় সংস্কৃতি, কৃষি ও স্থানীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে না পারলে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। স্থানীয়করণভিত্তিক উন্নয়ন মডেল পরিবেশ ও জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।”

আলোচনা সভায় অন্যান্য বক্তারা বলেন, স্থানীয়করণ শুধু অর্থনৈতিক ধারণা নয়; এটি পরিবেশ সংরক্ষণ, সামাজিক ন্যায়বিচার ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য রক্ষার একটি কার্যকর উপায়। স্থানীয় কৃষি, স্থানীয় বাজার এবং দেশীয় পণ্যের ব্যবহার বৃদ্ধি পেলে একদিকে যেমন কৃষক ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা লাভবান হবেন, অন্যদিকে বৈশ্বিক বাজারের অস্থিরতার প্রভাবও কমে আসবে।

বক্তারা আরো বলেন, দেশের উন্নয়ন পরিকল্পনায় পরিবেশ ও জলবায়ু সংরক্ষণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। কৃষক ও কৃষিজমি সুরক্ষায় কার্যকর প্রণোদনা, মাঠ-পার্ক-জলাধার সংরক্ষণ এবং দেশীয় পণ্যের ব্যবহার বৃদ্ধির মাধ্যমে স্থানীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে হবে। একইসঙ্গে তরুণ প্রজন্মের মাঝে দেশীয় জ্ঞান, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিচর্চা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

অনুষ্ঠান শেষে অংশগ্রহণকারীরা স্থানীয় সংস্কৃতি ও পরিবেশ রক্ষায় সম্মিলিতভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

Facebook Comments Box

আরও পড়ুন

Xiaomi Launches REDMI 17: Bigger Battery & Stronger Protection

৭,৫০০ এমএএইচ ব্যাটারি নিয়ে বাজারে এলো শাওমির রেডমি ১৭

ডিএনসিসির উদ্যোগে তামাক বিক্রি ও প্রচারণার বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রাখার আহ্বান

ভারতে বন্যা-ভূমিধসে শতাধিক প্রাণহানি

সন্ধ্যার মধ্যে ৭ অঞ্চলে ঝড়ের আভাস

জুলাইয়ে সড়কে ঝরল ৪১৬ প্রাণ, এর এক-তৃতীয়াংশ মোটরসাইকেল আরোহী

অরক্ষিত রেলক্রসিংয়ে ট্রেনের ধাক্কায় পাওয়ার টিলারচালক নিহত

আগামী ৫ দিন যেমন থাকবে দেশের আবহাওয়া

জলবায়ু পরিবর্তনে বিশ্বজুড়ে বাসস্থান বদলাচ্ছে প্রজাপতি

বৃষ্টি কমছে, ফসল নষ্ট হচ্ছে-জলবায়ু সংকটে চাপে ইউরোপের কৃষকেরা

তীব্র তাপপ্রবাহে ইতালির ২৭ শহরে সর্বোচ্চ সতর্কতা

চরম গরমে ভুগছে যুক্তরাজ্য, বাড়ছে সরকারি সেবার সংকট