
টিনের চর , জামালপুর জেলার দেওয়ানগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত এক বিচ্ছিন্ন জনপদ। এই জনপদের মানুষের প্রধান জীবিকা কৃষিকাজ। কৃষি পন্যের মধ্যে সবচেয়ে বেশি উৎপাদন করেন ধান , ভুট্টা ও মরিচ। এই চরের অধিকাংশ মানুষ নিজের উৎপাদিত ধান ভাত খান, তাই ধানের নির্ভরশীলতা কৃষি অর্থনীতির উপর।
এর পাশাপাশি শীতকালে তারা বিস্তৃত মাঠ জুড়ে মরিচ বুনেন। এই মরিচ প্রথমে কাচা অবস্থায় বিক্রি করেন এবং একটা পর্যায়ে শুকিয়ে বিক্রি করেন। যা থেকে প্রচুর নগদ অর্থ তারা জোগাড় করেন। এর পাশাপাশি তারা মরিচকে শুকনো করেও বিক্রি করেন। মরিচ শুকিয়ে বাড়িতে রেখে দেন এবং হাটের দিনগুলোতে বিক্রি করে অন্যান্য জিনিসপত্র কিনে আনেন।
যমুনা নদীর বুক জেগে উঠা এই চরের মানুষদের শহরে আসা যাওয়া করতে নির্ভর করতে হয় খেয়ার উপর। বর্ষায় পুরো চর প্লাবিত হলে সহজেই নৌকা দিয়ে এপারে আসতে পারেন।তবে বিপত্তি বাধে যখন শুষ্ক মৌসুম হয়।

ঘাট থেকে লোকালয়ের দূরত্ব ৫ কিলোমিটার। এই পুরোটা পথ তারা পায়ে হেঁটে চলাফেরা করেন। চরে কোন চিকিৎসা কেন্দ্র নেই, রাতে কেউ অসুস্থ হলে অপেক্ষা করতে হয় সকালের খেয়া নৌকার জন্য। আর মরুময় এই পথ আসতে হয় হেটে, অবস্থা খুব খারাপ হলে কখনো কাঠের চৌকির শুইয়ে কাঁধে করে বয়ে আনেন আবার কখনো ঘোড়ার গাড়িতে করে।
দেশের অধিকাংশ চরগুলোতে বিদ্যুৎ থাকলেও এই জনপদে নেই কোন বিদ্যুৎ। এখানকার শিক্ষার্থীরা লেখাপড়া করে কেরোসিনের বাতি অথবা সৌর বিদ্যুতের আলোতে। এই চরে শিশুদের লেখাপড়া করার জন্য একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় থাকলেও নেই কোন মাধ্যমিক স্কুল, যার ফলে শিক্ষার্থীদেরকে প্রতিদিন এই দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে আসতে হয় শহরে।

বর্ষাকালে মাঝেমধ্যেই ঝড়তুফানের কবলে পড়ে তারা। তাই অনেক সময় পরিবারের অভিভাবকেরাও তাদেরকে স্কুলে পাঠাতে চায়না। তাই প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণ করে ঝড়ে পড়ে অধিকাংশ শিশু।
ভারত সীমান্তে অবস্থিত এই চরে মাঝেমধ্যেই নেমে আসে পাহাড়ি ঢল, তাই তাদের বাড়ির গোলার ধানও ভাসিয়ে নিয়ে যায় হরকা বান। কৃষকদের ধান নিরাপদ রাখতে ব্রাক তৈরি করে দিয়েছে ৭ টি গোলাঘর। যা দেওয়ানগঞ্জের নীচু অঞ্চলের মানুষদের ফসল সুরক্ষায় কাজ করছে। সুখ দুঃখে মিলেমিশে চলা এই জনপদ দেখতে দারুণ। এক মুহূর্তের জন্য মনে হয় যেন ফিরে এসেছি নব্বই দশকে।