ঢাকামঙ্গলবার , ৪ অগাস্ট ২০২৬
  1. সর্বশেষ
  2. জনস্বাস্থ্য

সুস্থ কোষের ক্ষতি ছাড়াই টিউমার ধ্বংস করবে ব্যাকটেরিয়া

প্রতিবেদক
Ibrahim Khalil
২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১১:১৫ বিকাল

Link Copied!

ক্যান্সার চিকিৎসায় এক অভাবনীয় সাফল্যের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছেন বিজ্ঞানীরা। দীর্ঘদিনের গবেষণার পর কানাডার ইউনিভার্সিটি অফ ওয়াটারলুর একদল গবেষক এমন এক বিশেষ ‘প্রকৌশলকৃত ব্যাকটেরিয়া’ তৈরি করেছেন, যা শরীরের সুস্থ কোষের কোনো ক্ষতি না করে সরাসরি ক্যান্সার টিউমারের ভেতরে ঢুকে সেটিকে ধ্বংস করতে সক্ষম।

গত বুধবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী ‘সায়েন্স ডেইলি’তে এই গবেষণার ফলাফল প্রকাশিত হওয়ার পর বিশ্বজুড়ে চিকিৎসাবিজ্ঞানে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। বাংলাদেশের মতো দেশগুলোতে যেখানে ক্যান্সারের আধুনিক চিকিৎসা অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও কষ্টসাধ্য, সেখানে এই আবিষ্কার নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে।

সাধারণত ক্যান্সার টিউমারের কেন্দ্রস্থলে অক্সিজেনের পরিমাণ খুব কম থাকে, যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় ‘অ্যানক্সিক জোন’ বলা হয়। প্রচলিত কেমোথেরাপি বা রেডিয়েশন অনেক সময় এই অক্সিজেনহীন গভীর অংশে পৌঁছাতে পারে না, ফলে ক্যান্সার পুরোপুরি নির্মূল হয় না।

গবেষক দল মাটির সাধারণ ব্যাকটেরিয়াকে ‘ক্লোস্ট্রিডিয়াম স্পোরোজেনস’ জেনেটিক্যালি মডিফাই বা পরিবর্তন করেছেন। এই ব্যাকটেরিয়াগুলো অক্সিজেনহীন পরিবেশে দ্রুত বংশবৃদ্ধি করতে পারে। ইনজেকশনের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করানোর পর এগুলো রক্তপ্রবাহের মাধ্যমে সরাসরি টিউমারের অক্সিজেনহীন অংশে গিয়ে জমা হয় এবং টিউমারটিকে ভেতর থেকে ‘খেতে’ বা ধ্বংস করতে শুরু করে।

এই চিকিৎসার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল ব্যাকটেরিয়াগুলো যেন সুস্থ কোষের ক্ষতি না করে। গবেষক দলের প্রধান ড. মার্ক অকয়েন জানান, তারা ব্যাকটেরিয়ার ডিএনএ-তে একটি বিশেষ ‘জেনেটিক সেফটি সুইচ’ যুক্ত করেছেন। এর ফলে ব্যাকটেরিয়াগুলো যখনই টিউমারের সীমানা পেরিয়ে সুস্থ কোষে (যেখানে পর্যাপ্ত অক্সিজেন আছে) প্রবেশ করার চেষ্টা করে, তখনই সেগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে মারা যায়। এতে কেমোথেরাপির মতো ভয়াবহ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হওয়ার ঝুঁকি নেই বললেই চলে।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই পদ্ধতিটি মূলত একটি ‘বায়োলজিক্যাল সার্কিট’ বা জৈবিক যন্ত্রের মতো কাজ করবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে ব্যাকটেরিয়াগুলোর এই মুভমেন্ট নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। বর্তমানে এটি প্রাক-ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল পর্যায়ে রয়েছে। সফল হলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই এটি মানুষের ওপর পরীক্ষামূলকভাবে প্রয়োগ করা হতে পারে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এটি কেমোথেরাপির বিকল্প বা সহায়ক হিসেবে কাজ করতে পারবে। কেমোথেরাপির তুলনায় এই ব্যাকটেরিয়া উৎপাদন ও প্রয়োগ অনেক বেশি সাশ্রয়ী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এবং এটি কেবল ক্যান্সার কোষকেই লক্ষ্যবস্তু বানায়, তাই পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া অত্যন্ত কম।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, ২০৩০ সাল নাগাদ বিশ্বে ক্যান্সার আক্রান্তের সংখ্যা কয়েক গুণ বাড়তে পারে। এমন পরিস্থিতিতে ওয়াটারলু বিশ্ববিদ্যালয়ের এই ‘ব্যাকটেরিয়া থেরাপি’ ক্যান্সার নির্মূলে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করল।

সূত্র: সায়েন্স ডেইলি

Facebook Comments Box

আরও পড়ুন

৫ আগস্ট বান্দরবানের ৪ পর্যটনকেন্দ্রে ফ্রি প্রবেশ

তীব্র গরমে ইংল্যান্ডে দুই মাসে প্রায় তিন হাজার মৃত্যু

পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যকর নদীই এশিয়ার খাদ্য ব্যবস্থার রূপান্তরের চাবিকাঠি: এডিবি

সন্ধ্যার মধ্যে ৬ অঞ্চলে ঝড়ের আশঙ্কা

realme Bringing Next C-Series Smartphone to Provide All-Day Power

সারাদিন নিরবচ্ছিন্ন পাওয়ার নিশ্চিতে নতুন সি-সিরিজ স্মার্টফোন নিয়ে আসছে রিয়েলমি

Australia provides another $25.25 million in aid for Rohingya

রোহিঙ্গাদের জন্য অস্ট্রেলিয়ার আরও ২৫.২৫ মিলিয়ন ডলার সহায়তা

দেশজুড়ে আরও কয়েকদিন বৃষ্টি, কোথাও কোথাও ভারী বর্ষণের পূর্বাভাস

দেশ-বিদেশে চাহিদা বাড়ায় পাট চাষে ফিরছে কৃষকের আস্থা

মোবাইল ছেড়ে মাঠে, কৃষি শিখছে টাঙ্গাইলের কলেজ শিক্ষার্থীরা

এক মাস দুই দিনে দেশে এলো ৩.১৩ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স