ঢাকাশনিবার , ৩১ অক্টোবর ২০২৬
  1. সর্বশেষ

রেস্টুরেন্টে ধূমপানের স্থান, মরণ ফাঁদ

প্রতিবেদক
Ibrahim Khalil
৭ মার্চ ২০২৪, ৪:১৭ বিকাল

Link Copied!

করোনার পর হতে ঢাকার রেস্টুরেন্টগুলোর ভিতরে বহুজাতিক সিগারেট কোম্পানির মদদে গড়ে উঠছে ধূমপানের স্থান। যার মূল উদ্দেশ্য নতুন প্রজন্মকে আকৃষ্ট করা এবং সিগারেটকে মানুষের কাছে সহজলভ্য করা। সিগারেট কোম্পানিগুলো টাকা দিয়ে এসব ধূমপানের স্থান করে দেয়। আর মালিকরা টাকার লোভে সেই সুবিধা করে দিচ্ছে। ফলে ধূমপায়ীদের পাশাপাশি অধূমপায়ীরাও এই স্মোকিং জোন থেকে পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হচ্ছে। একইসঙ্গে রেস্টুরেন্টে এ ধরনের স্মোকিং জোন শুধুমাত্র পরোক্ষ ধূমপানেরই কারণ নয় বরং এর ফলে অগ্নিকান্ডের মতো ভয়াবহ দূর্ঘটনা ঘটার সম্ভবনা রয়েছে। অনেক এসি রুমের ভিতরে আছে ধূমপানের কক্ষ। রেস্টুরেন্টে এসব ধূমপানের স্থান যেনো মরণ ফাঁদ। যে কোন সময় প্রাণ যেতে পারে শত মানুষের। রেস্টুরেন্টে মানুষ স্বাস্থ্যকর খাবার খেতে ও বিনোদনের জন্য যায়, সেখানে ভাল ওয়াশরুম, ছোট লাইব্রেরি, বাচ্চাদের খেলার স্থান, ব্রেস্টফিডিং কর্নার মতো মানসিক ও স্বাস্থ্য সম্মত বিষয়ক রাখা জরুরি। অথচ এসকল গুরুত্বপুর্ণ বিষয় বাদ দিয়ে সিগারেট কোম্পানির মদদে গড়ে তুলছে ধূমপানে কক্ষ। ফলে বিঘ্নিত হচ্ছে জননিরাপত্তা।

আজ বৃহস্পতিবার (৭ মার্চ ২০২৪) সকাল ১১:০০ টায় বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের সম্মেলন কক্ষে ‘রেস্টুরেন্টে ধূমপানের জন্য নির্ধারিত স্থান : জনস্বাস্থ্য হুমকিতে’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন। এইড ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোট, বাংলাদেশ নেটওয়ার্ক ফর টোব্যাকো ট্যাক্স পলিসি (বিএনটিটিপি), ডেভেলপমেন্ট এক্টিভিটিস অব সোসাইটি (ডাস্), গ্রাম বাংলা উন্নয়ন কমিটি, মাদকদ্রব্য ও নেশা নিরোধ সংস্থা (মানস), জাতীয় যক্ষা নিরোধ সমিতি (নাটাব), ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্ট এবং ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির টোব্যাকো কন্ট্রোল এন্ড রিসার্চ সেল (টিসিআরসি) সমন্বিতভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মাদকদ্রব্য ও নেশা নিরোধ সংস্থা-মানস এর সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক ড. অরূপরতন চৌধুরী। বিশেষজ্ঞ আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেলের সাবেক সমন্বয়কারী হোসেন আলী খোন্দকার, বাংলাদেশ ক্যান্সার সোসাইটির সভাপতি ও ক্যান্সার বিশেষ ডা. গোলাম মহিউদ্দীন ফারুক, ঢাকা আহছানিয়া মিশনের পরিচালক ইকবাল মাসুদ, প্রত্যাশা মাদক বিরোধী সংগঠনের সভাপতি ও বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোটের ভারপ্রাপ্ত সমন্বয়কারী হেলাল আহমেদ, ডব্লিউবিবি ট্রাস্টের ডিরেক্টর গাউস পিয়ারী, গ্রামবাংলা উন্নয়ন কমিটির ডিরেক্টর একেএম মাকসুদ ও ভাইটাল স্ট্রাটেজিসের কারিগরি পরামর্শক ফাহিমুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সহযোগী অধ্যাপক ও টিসিআরসি’র প্রজেক্ট ডিরেক্টর মো.বজলুর রহমান এবং মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ম্যানেজার ফারহানা জামান লিজা। এছাড়া অনুষ্ঠানে ভাইটাল স্ট্রাটেজিসের কারিগরি উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট সৈয়দ মাহবুবুল আলমসহ তামাক বিরোধী বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীরা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে মতামত ব্যক্ত করেন।

প্রকাশিত গবেষণার ফলাফলে বলা হয়েছে, ঢাকায় ৪০.৭ শতাংশ রেস্টুরেন্টগুলোতে ধূমপানের জন্য নির্ধারিত স্থান রয়েছে। এর মধ্যে ৮.৬ শতাংশ রেস্টুরেন্টে সিগারেট বিক্রি হয়। অথচ এগুলো এক সময় কোথাও ছিলো না। প্রতিনিয়ত তামাক কোম্পানির সহায়তায় এসব স্থান গড়ে তোলা হচ্ছে। উদ্বেগের বিষয় হলো, এসব রেস্টুরেন্টের মধ্যে ২৩.৫ শতাংশ রেস্টুরেন্টে বাচ্চাদের খেলার স্থান এবং মাত্র ৪.৯ শতাংশ রেস্টুরেন্টে ব্রেস্টফিডিং কর্নার রয়েছে। ফলে তারাও মারাত্বকভাবে পরোক্ষভাবে ধূমপানের শিকার হচ্ছে।

গবেষণার ফলাফলে আরও বলা হয়েছে, ধূমপানের জন্য নির্ধারিত স্থানে ব্যবহারকারীদের বয়স ১৫ থেকে ১৮ বছর বয়সীদের মধ্যে ৫ শতাংশ এবং ১৮ থেকে ২৫ বছর বয়সীদের মধ্যে ৬০ শতাংশ ব্যবহারকারী পাওয়া গেছে। ফলে রেস্টুরেন্টে ধূমপানের স্থান তরুণদের উদ্দেশ্যে করা হচ্ছে এতে কোনো সন্দেহ নেই। অথচ তাদের সুরক্ষায় ৪৫.৫ শতাংশ রেস্টুরেন্টে পর্যাপ্ত অগ্নি নির্বাপক ব্যবস্থা নেই। এ গবেষণার জন্য মোট ৮১টি রেস্টুরেন্ট নির্বাচন করা হয়েছে। যার মধ্যে ৩৩টি রেস্টুরেন্টে ধূমপানের স্থান রয়েছে।

বক্তারা বলেন, ইলেক্ট্রিক শর্ট-সার্কিটের পর সিগারেট বাংলাদেশে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দ্বিতীয় প্রধান কারণ। ২০২৩ সালে ২৭,৬২৪ টি অগ্নিকাণ্ড হয়েছে তার মধ্যে ৪৪১৯টি সিগারেটের কারনে হয়েছে। এটি মোট অগ্নিকাণ্ডের ১৬ শতাংশ এবয় বিগত পাঁচ বছরে সর্বোচ্চ। এসব অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতি হয়েছে ৩৪ কোটি ৬৪ লাখ টাকার বেশি। আর এ অবস্থায় কিছু রেষ্টুরেন্ট মালিকরা রেস্টুরেন্টগুলোকে সিগারেটের অগ্নিকান্ডে ঝুকির ডিপো বানাচ্ছে। রেস্টুরেন্টে যেহেতু রান্না করা হয়, তাই সেখানে একাধিক গ্যাস সিলিন্ডার থাকে। এছাড়াও অধিকাংশ রেষ্টুরেন্ট এসিযুক্ত। এমন স্থানে ধূমপানের জলন্ত সিগারেটের টুকরো নিমিষেই পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ করে তুলতে পারে তার প্রমাণ গত ২৯ ফেব্রুয়ারি ঘটে যাওয়া বেইলি রোডের অগ্নিকান্ড থেকেই পাওয়া যায়।

গবেষণার সুপারিশে বলা হয়েছে, রেস্টুরেন্ট থেকে জননিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ সকল ধূমপানের জন্য নির্ধারিত স্থান তুলে দিতে হবে, রেস্টুরেন্টে জনস্বাস্থ্যকে অগ্রাধিকার দিতে হবে, স্মোকিং জোনের পরিবর্তে ভাল ওয়াশরুম, ছোট লাইব্রেরি, বাচ্চাদের খেলার জায়গা, ব্রেস্টফিডিং কর্নার গড়ে তুলতে আইনী বাধ্যবাধকতায় রাখতে এবং পাবলিক প্লেসে ধূমপানের স্থান না রাখার বিধান স্থানীয় সরকার আইন, তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনসহ বিভিন্ন আইনে যুক্ত করতে হবে।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন চিকিৎসক, তামাক নিয়ন্ত্রণ ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, উন্নয়নকর্মী ও বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

Facebook Comments Box

আরও পড়ুন

পাবনায় বজ্রপাতে নিহত ৬ জনের দাফন সম্পন্ন

BACCO and Banglalink sign MoU to expand business opportunities for BPO and ITES sector

বিপিও ও আইটিইএস খাতে ব্যবসার সুযোগ বাড়াতে বাক্কো-বাংলালিংকের চুক্তি

Country’s Largest International Tourism Fair Begins, With 20 Countries Participating

দেশের সবচেয়ে বড় আন্তর্জাতিক পর্যটন মেলা শুরু, অংশ নিচ্ছে ২০ দেশ

Anti-Aging Specialist Mr. A Jeya Prakash Expresses Gratification with JK Lifestyle

জেকে লাইফস্টাইলে অ্যান্টি-এজিং স্পেশালিস্ট মি. এ জয়া প্রকাশ-এর সন্তুষ্টি

মানবাধিকার বিধ্বংসী তিন আইন নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে আইনমন্ত্রীকে অ্যামনেস্টির চিঠি

১৫টি দেশে প্রসারিত হলো জাতিসংঘের ‘ফার্ম’ কর্মসূচি

বৈশ্বিক স্বাস্থ্যসেবার বৈষম্যে ভূগোলের চেয়ে আয়ের প্রভাব বেশি: গবেষণা

সবার জন্য সাশ্রয়ী আবাসন নিশ্চিতের আহ্বান

নিষেধাজ্ঞা শেষ হচ্ছে রাতে, মাছ ধরতে প্রস্তুত হাতিয়ার জেলেরা