
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) এলাকায় ব্যাটারিচালিত তিন চাকার স্বল্পগতির রিকশা বা ই-রিকশার নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। আগামীকাল মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) থেকে প্রতিটি ১০০ টাকা মূল্যে নিবন্ধনের আবেদন ফরম বিতরণ করা হবে। একজন ব্যক্তি একটি জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) বিপরীতে সর্বোচ্চ পাঁচটি আবেদন ফরম সংগ্রহ করে নিবন্ধনের জন্য আবেদন করতে পারবেন।
সোমবার (২ নভেম্বর) নগর ভবনে সংবাদ ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান ডিএসসিসির প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম।
তিনি বলেন, ই-রিকশা চলাচলে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা এবং নগরবাসীর নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে নতুন বিধিমালা অনুযায়ী এ কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে। তবে শুধু আবেদন ফরম সংগ্রহ করলেই নিবন্ধন পাওয়া যাবে না। নির্ধারিত শর্ত পূরণ, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) কারিগরি মানদণ্ড অনুসরণ এবং প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে কেবল যোগ্য যানবাহনকে নিবন্ধন সনদ দেওয়া হবে।
ডিএসসিসির নগর ভবন ও সব আঞ্চলিক কার্যালয় থেকে আবেদন ফরম সংগ্রহ করা যাবে। স্থানীয় সরকার বিভাগ জারি করা ‘সিটি করপোরেশন এলাকায় তিন চাকার স্বল্পগতির ব্যাটারিচালিত রিকশা (ই-রিকশা) চলাচল বিধিমালা, ২০২৬’ অনুসরণ করে এ নিবন্ধন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
নিবন্ধনের জন্য আবেদনকারীকে বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে। আবেদনপত্রের সঙ্গে জাতীয় পরিচয়পত্রের সত্যায়িত অনুলিপি, সদ্য তোলা দুই কপি পাসপোর্ট আকারের ছবি, ফি জমার মূল রসিদ এবং নির্ধারিত ফরমে ফিটনেস সার্টিফিকেট জমা দিতে হবে।
আবেদন ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাইয়ের পাশাপাশি বুয়েটের নির্ধারিত প্রযুক্তিগত মানদণ্ড ও নিরাপত্তাবৈশিষ্ট্য অনুযায়ী ই-রিকশার উপযুক্ততা পরীক্ষা করা হবে। এ ক্ষেত্রে কারিগরি ছাড়পত্র গ্রহণ বাধ্যতামূলক। আবেদন ফরম সংগ্রহ বা জমা দিলেই নিবন্ধন নিশ্চিত হবে না। সব নির্ধারিত মানদণ্ডে উত্তীর্ণ যানবাহনকেই নিবন্ধন সনদ দেওয়া হবে।
ডিএসসিসি এলাকায় ই-রিকশা চলাচল নিয়ন্ত্রণে পুরো এলাকাকে চারটি জোনে ভাগ করে রুট নির্ধারণ ও যানবাহনের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ট্রাফিক পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে জোনভিত্তিক এ ব্যবস্থাপনা কার্যকর করা হবে।
নতুন বিধিমালা বাস্তবায়নের মাধ্যমে সড়কে অননুমোদিত ও অনুপযুক্ত ই-রিকশার সংখ্যা কমানো, যানজট হ্রাস এবং নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও জনবান্ধব নগর পরিবহনব্যবস্থা গড়ে তোলার আশা প্রকাশ করেছে ডিএসসিসি।