
পটুয়াখালীতে অটোরিকশার সঙ্গে সংঘর্ষের পর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ঢাকাগামী একটি বাস খাদে পড়ে চারজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ১০ জন। দুর্ঘটনার পর বাসের চালক ও সুপারভাইজার ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে গেছেন বলে জানা গেছে।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাত ১১টা ৪০ মিনিটের দিকে পটুয়াখালী সদর উপজেলার বসাক বাজারসংলগ্ন ধলু গাজীর মোড় এলাকায় ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন-কাইউম প্যাদা (৫৫), শিল্পী রানী (৩৫), তিথী (২৩) ও জাহাঙ্গীর হোসেন (৩২)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বরগুনার তালতলী থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে আসা ইমরান ট্রাভেলসের একটি বাস ধলু গাজীর মোড় এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি অটোরিকশার সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এতে বাস ও অটোরিকশাটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের খাদে পড়ে যায়।
দুর্ঘটনার শব্দ শুনে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা উদ্ধারকাজ শুরু করেন। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয়দের দাবি, নিহত চারজনই অটোরিকশাটির যাত্রী ছিলেন।
স্থানীয়রা জানান, দুর্ঘটনার পর বাসটি পানিতে পড়ে যায়। বাসটিতে প্রায় ৩৫ জন যাত্রী ছিলেন বলে জানা গেছে। তবে বাসের যাত্রীদের মধ্যে বড় ধরনের হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। বর্তমানে পুলিশের রেকার ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের সহায়তায় উদ্ধার অভিযান চলছে।
বাসের যাত্রী এমদাদুল বলেন, ‘বাসটি শুরু থেকেই খুব রাফ চালাচ্ছিল। তারপর কীভাবে কী হলো কিছুই বুঝতে পারলাম না। আল্লাহ তাআলা আমাদের বাঁচিয়েছেন।’
আরেক যাত্রী নজরুল ইসলাম বলেন, তারা ঢাকায় তাবলীগ জামাতে যাচ্ছিলেন। সঙ্গে পরিবারের সদস্যরাও ছিলেন। বাসটি খাদে পড়ে যাওয়ার পর তারা ভেতরে বসে ভেবেছিলেন, ‘এই মনে হয় জীবনের শেষ।’ তিনি জানান, নাতিকে কোলে নিয়ে তিনি অনেক দূরে ছিটকে পড়েন। পরে চিৎকার করে জানান, তিনি ও তার নাতি বেঁচে আছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা এনামুল বলেন, ‘ঝপ্পোড়াইয়া (ঝপ শব্দে) কিছু একটা পড়ার শব্দ শুনে আমরা দৌড়ে ছুটে আসি। এসে দেখি বাস পড়ে আছে। এর নিচে অটো চাপা পড়ে আছে। আশপাশের লোকজন ছুটে আসলে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।’
পটুয়াখালী ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার মো. রেজোয়ান বলেন, বর্তমানে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট উদ্ধারকাজ করছে। বাসের ভেতরে কেউ আটকে পড়েছেন কি না বা পানির মধ্যে আরও কোনো মরদেহ আছে কি না, তা দেখতে উদ্ধার কার্যক্রম চলছে।
পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, এখন পর্যন্ত চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার কার্যক্রম এখনো চলছে। উদ্ধারকাজ শেষ হওয়ার পর আর কেউ নিহত হয়েছেন কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যাবে। পরে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।