
ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইতালির উদ্দেশে যাওয়ার পথে তিউনিসিয়া উপকূলের কাছে অভিবাসীবাহী একটি নৌকা ডুবে অন্তত ১৩ জন নিখোঁজ হয়েছেন। এ ঘটনায় দুজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।
শনিবার (২২ আগস্ট) তিউনিসিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটসের প্রধান মোস্তফা আবদেল কেবির বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছেন।
মোস্তফা আবদেল কেবির জানান, নৌকাটি বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) ভোরে তিউনিসিয়া থেকে ইতালির উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেছিল। পরে তিউনিসিয়ার উপকূলের কাছে নৌকাটি ডুবে যায়।
উদ্ধার হওয়া দুজনের একজন জানিয়েছেন, নৌকাটি উল্টে যাওয়ার পর তারা কয়েক ঘণ্টা সাগরে ভেসে ছিলেন। উদ্ধার হওয়া অপর ব্যক্তির অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন আবদেল কেবির।
একসময় ইউরোপে পৌঁছানোর জন্য ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেওয়া অভিবাসীদের অন্যতম প্রধান যাত্রাপথ ছিল তিউনিসিয়া। তবে গত দুই বছরে দেশটি থেকে সমুদ্রপথে অভিবাসীদের যাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। এর পেছনে তিউনিসিয়া সরকারের কঠোর অভিযান এবং সমুদ্রে নজরদারি বৃদ্ধি অন্যতম কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।
ইউরোপীয় অর্থায়নে, বিশেষ করে ইতালির সহায়তায় তিউনিসিয়ায় আধুনিক সীমান্ত নজরদারি সরঞ্জামও ব্যবহার করা হচ্ছে।
তবে গত মাসে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালসহ কয়েক ডজন মানবাধিকার সংগঠন অভিযোগ করে, ইইউ-তিউনিসিয়া অভিবাসন চুক্তির ফলে দেশটিতে অভিবাসী ও আশ্রয়প্রার্থীদের ওপর গুরুতর নির্যাতন বেড়েছে এবং তা অনেক ক্ষেত্রে স্বাভাবিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে।
সংগঠনগুলো তিউনিসিয়ার নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অভিবাসন ও সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়ন বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে।
এ বিষয়ে তিউনিসিয়া সরকারের পক্ষ থেকে সরাসরি কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে দেশটির সরকার বারবার বলে আসছে, বিপুলসংখ্যক অভিবাসীর চাপের বড় অংশ তিউনিসিয়াকেই বহন করতে হচ্ছে।