
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০০৫ (সংশোধিত ২০২৬)’-এর সংশ্লিষ্ট বিধানসমূহ যথাযথভাবে বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছে জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেল (এনটিসিসি)।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেল থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়ে চিঠি দেওয়া হয়।
চিঠিতে বলা হয়েছে, বিদ্যমান ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০০৫ (সংশোধিত ২০২৬)’-এর পাবলিক প্লেস সম্পর্কিত ধারা-২(চ), পাবলিক প্লেসে ধূমপানের জন্য এলাকা নির্ধারণ সংশ্লিষ্ট ধারা-৪(১), তামাক কোম্পানি কর্তৃক সামাজিক দায়বদ্ধতা কর্মসূচি পরিচালনা সংক্রান্ত ধারা-৫(৩) এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ নির্দিষ্ট স্থাপনার সীমানার ১০০ মিটারের মধ্যে তামাক ও তামাকজাত দ্রব্য বিক্রয়সংক্রান্ত ধারা-৬(খ)(১)-এর বিধান রয়েছে।
আইনের ধারা-২(চ) অনুযায়ী, ‘পাবলিক প্লেস’ বলতে সরকারি-বেসরকারি মালিকানা নির্বিশেষে জনসাধারণ কর্তৃক সম্মিলিতভাবে ব্যবহার্য যেকোনো স্থানকে বোঝায়। এর মধ্যে রয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সরকারি অফিস, আধা-সরকারি অফিস, স্বায়ত্তশাসিত অফিস ও বেসরকারি অফিস, গ্রন্থাগার, লিফট, আচ্ছাদিত কর্মক্ষেত্র, হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার ভবন, আদালত ভবন, বিমানবন্দর, সমুদ্রবন্দর, নৌবন্দর, রেলওয়ে স্টেশন ভবন ও প্লাটফর্ম, বাস টার্মিনাল ভবন, প্রেক্ষাগৃহ, প্রদর্শনী কেন্দ্র, থিয়েটার হল, বিপণী ভবন, হোটেল, রেস্টুরেন্ট, খাবার দোকান, কফি হাউজ এবং এসব পাবলিক প্লেসের প্রাঙ্গণ।
এ ছাড়া কমিউনিটি সেন্টারসহ যেকোনো ধরনের সামাজিক অনুষ্ঠানস্থল, পাবলিক টয়লেট, শিশুপার্ক, মেলা, পাবলিক পরিবহনে আরোহণের উদ্দেশ্যে যাত্রীদের অপেক্ষার জন্য নির্দিষ্ট সারিসহ সেবাগ্রহণের নিমিত্ত মানুষের যেকোনো সারি এবং সরকার বা স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান কর্তৃক সাধারণ বা বিশেষ আদেশে সময় সময় ঘোষিত অন্য যেকোনো বা সকল স্থানও পাবলিক প্লেসের আওতাভুক্ত।
ধারা-৪(১) অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি কোনো পাবলিক প্লেস এবং পাবলিক পরিবহনে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার করতে পারবেন না। তবে সরকার কোনো পাবলিক প্লেসে ধূমপানের জন্য এলাকা নির্দিষ্ট করার উদ্দেশ্যে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিতে পারবে।
ধারা-৫(৩) অনুযায়ী, সামাজিক দায়বদ্ধতা কর্মসূচির (Corporate Social Responsibility) নামে কোনো তামাক বা তামাকজাত দ্রব্যের উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের নাম, সাইন, ট্রেডমার্ক ও প্রতীক ব্যবহার করা যাবে না। একই সঙ্গে কোনো বাণিজ্যিক গোষ্ঠী বা প্রতিষ্ঠানকে অথবা কোনো অনুষ্ঠান বা কর্মসূচির নামে কোনো ধরনের সহায়তা প্রদান করা যাবে না।
অন্যদিকে, ধারা-৬(খ)(১) অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, ক্লিনিক, খেলাধুলার স্থান ও শিশুপার্কের সীমানার ১০০ মিটারের মধ্যে তামাক ও তামাকজাত দ্রব্য বিক্রি করতে পারবেন না বা করাতে পারবেন না।
চিঠিতে বলা হয়েছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অধিক্ষেত্রাধীন এলাকায় ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০০৫ (সংশোধিত ২০২৬)’-এর যথাযথ প্রতিপালন নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
চিঠির সঙ্গে ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০০৫ (সংশোধিত ২০২৬)’-এর একটি কপি এবং ধারা-৫(৩)-এর বিধান প্রতিপালন নিশ্চিতকরণে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনাপত্র সংযুক্ত করা হয়েছে।