ঢাকাসোমবার , ২ নভেম্বর ২০২৬
  1. সর্বশেষ
  2. নিরাপদ সড়ক
  3. লাইফস্টাইল

দেড় বছরে সাগরে ১৪০০ রোহিঙ্গার মৃত্যু, ৬৬% নারী ও শিশু

প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
২ অগাস্ট ২০২৬, ১০:২৪ সকাল

Link Copied!

উন্নত জীবন ও নিরাপত্তার খোঁজে অবৈধ ও ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রপথে পাড়ি জমাতে গিয়ে সাগরে সলিলসমাধি ঘটছে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের। গত দেড় বছরে বঙ্গোপসাগর ও আন্দামান সাগরে নৌকাডুবি এবং বিভিন্ন দুর্ঘটনায় অন্তত ১ হাজার ৪০০ রোহিঙ্গা শরণার্থীর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়াও অনেকে নিখোঁজ রয়েছেন। যার প্রায় ৬৬ শতাংশই ছিল নারী ও শিশু

জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)-এর পাশাপাশি মানবাধিকার পরিষদের নিযুক্ত জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা এই চিত্র তুলে ধরে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বিশেষ করে, চলতি বছরের জুলাই মাসে মিয়ানমার উপকূল ও বঙ্গোপসাগরে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ নৌকাডুবিতে পাঁচ শতাধিক রোহিঙ্গার প্রাণহানির আশঙ্কা এই সংকটকে এক নতুন ও ভয়াবহ মাত্রায় নিয়ে গেছে।

রোহিঙ্গা সংকটের নেপথ্যে থাকা মানবপাচারের ভয়াবহতা তুলে ধরে জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদ-নিযুক্ত বিশেষজ্ঞরা এক বিবৃতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, দীর্ঘমেয়াদি বাস্তুচ্যুতি এবং নাগরিক অধিকারহীনতা রোহিঙ্গাদের মানবপাচারের চরম ঝুঁকিতে ঠেলে দিচ্ছে, যার মর্মান্তিক পরিণতি শিকার হওয়া মানুষগুলোর জীবনকে এক অপূরণীয় ধ্বংসের মুখে দাঁড় করাচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা আরও উল্লেখ করেছেন, বর্তমানে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীর বড় একটি অংশ শিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং নিরাপদ বা নিয়মিত অভিবাসনের সুযোগ থেকে বঞ্চিত। আর এই সুযোগটিকে কাজে লাগিয়ে অপরাধী চক্র ও আন্তর্জাতিক মানবপাচারকারীরা নানা প্রলোভনে শরণার্থীদের প্রতারণার জালে ফেলছে। শরণার্থী শিবিরগুলোতে বসবাসকারী শিশু ও যুবকরা মানবপাচারের শিকার হওয়ার ঝুঁকিতে সবচেয়ে বেশি রয়েছে, অন্যদিকে নারী ও কিশোরীরা জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতার উচ্চ ঝুঁকির মুখোমুখি হচ্ছে।

জাতিসংঘের দুই সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, জুন মাসের শেষ সপ্তাহে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে যাত্রা শুরু করেছিল দুটি নৌকা। নৌকাগুলোতে মূলত রোহিঙ্গা শরণার্থীরাই ছিলেন। তাদের মধ্যে অনেকে আবার কক্সবাজারের শরণার্থী শিবির থেকেও বিপজ্জনক এই সমুদ্রযাত্রায় সামিল হয়েছিলেন।

প্রথম নৌকাটিতে প্রায় ২৫০ জন যাত্রী ছিলেন এবং যাত্রা শুরুর কিছুক্ষণের মধ্যেই নৌকাটির সঙ্গে সমস্ত যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। অন্যদিকে, প্রায় ২৮০ জন আরোহী নিয়ে চলা দ্বিতীয় নৌকাটি ৮ জুলাই মিয়ানমারের আয়েয়ারওয়াড়ি উপকূলের কাছে ডুবে যায়।

যদিও মিয়ানমার সরকারে স্তর থেকে সুনির্দিষ্ট মৃত্যুর সংখ্যা নিশ্চিত করা হয়নি, তবে জাতিসংঘ আশঙ্কা, এই দুর্ঘটনায় প্রাণহানির পরিমাণ ৫০০ ছাড়িয়ে যেতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্ষাকালে প্রবল বৃষ্টি, উত্তাল ঢেউ এবং খারাপ আবহাওয়া বঙ্গোপসাগরে এই সমুদ্রযাত্রাকে চরম ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে।

এত ঝুঁকি জেনেই বা কেন রোহিঙ্গারা সমুদ্রে জীবন বাজি রাখছেন? জাতিসংঘ বলছে, এর পেছনে রয়েছে বহুমুখী সংকট। বিশেষ করে মিয়ানমারে দীর্ঘকাল ধরে নাগরিকত্ব থেকে বঞ্চিত থাকা এবং ২০১৭ সাল থেকে সশস্ত্র বাহিনী ও পুলিশের নির্মম হামলার মুখে পড়ে এই মুসলিম জনগোষ্ঠী দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়। জাতিসংঘ যাদের বর্ণনা করেছে বিশ্বের সবচেয়ে নির্যাতিত সংখ্যালঘু হিসেবে। ২০১৭ সালের আগস্টে প্রায় সাড়ে ৭ লাখ রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে এসে বিশ্বের বৃহত্তম শরণার্থী শিবির গড়ে তোলে।

বর্তমানে বাংলাদেশের প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন। আন্তর্জাতিক সাহায্য, বিশেষ করে বিভিন্ন দাতা দেশের আর্থিক সহায়তা কমে যাওয়ায় ক্যাম্পগুলোতে খাদ্য ও প্রয়োজনীয় সামগ্রীর সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে।

এর পাশাপাশি মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সেনাবাহিনী ও বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর সংঘর্ষ অব্যাহত থাকায় রোহিঙ্গাদের নিরাপদে নিজ দেশে ফেরার কোনো বাস্তবসম্মত সুযোগ নেই। ২০১৭ সালের গণহত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত সামরিক বাহিনী এখনও ক্ষমতায় থাকায় চরম বিধিনিষেধের মধ্যে তাদের দিন কাটছে।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, এর আগে ২০২৫ সালে ৬ হাজার ৫০০ বেশি রোহিঙ্গা সমুদ্রপথে পালানোর চেষ্টা করেছিলেন। তাদের মধ্যে প্রায় ৯০০ জন সমুদ্রেই মারা যান। আবার নিখোঁজ হয়েছেন অনেকে, যার প্রায় ৬৬ শতাংশই ছিল নারী ও শিশু।

বর্তমানের নতুন এই দুর্ঘটনাগুলো যুক্ত হয়ে বিগত দেড় বছরে প্রাণহানি ও নিখোঁজের সংখ্যা ১ হাজার ৪০০ ছাড়িয়ে গেছে। এর ফলে বঙ্গোপসাগর ও আন্দামান সাগরের এই রুটটি বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে প্রাণঘাতী শরণার্থী সমুদ্রপথ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কেবল সামুদ্রিক টহল বাড়িয়ে বা জোড়াতালি দিয়ে এই মানবপাচার রোধ করা সম্ভব নয়। এই ভয়াবহ ট্র্যাজেডি বন্ধ করতে হলে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে একযোগে জোরালো পদক্ষেপ নিতে হবে। একই সঙ্গে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধান খুঁজে বের করা এবং বর্তমান ক্যাম্পগুলোতে মানবিক সহায়তা ও জীবিকার সুযোগ নিশ্চিত করার কোনো বিকল্প নেই।

Facebook Comments Box

আরও পড়ুন

সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল তরুণ ইনফ্লুয়েন্সার জেজুনের

হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসক-নার্স সংকট নিরসনে দ্রুত পদক্ষেপের আহ্বান রাষ্ট্রপতির

সময়মতো ন্যায্যমূল্যে কৃষকের কাছে সার পৌঁছানোর নির্দেশ কৃষিমন্ত্রীর

৩৪ হাজার ৪৯৭ কোটি টাকায় পদ্মা ব্যারাজ, বদলে যাবে ১৯ জেলার চিত্র?

বাইন্যান্সের নিরাপত্তাব্যবস্থা ভেঙে ৬৩০ কোটি ডলার চুরি, নেপথ্যে কারা?

শুঁটকিতেও মিলল বিষাক্ত মাইক্রোপ্লাস্টিক: শীর্ষে লইট্টা ও চিংড়ি

যুদ্ধে বিপর্যস্ত কৃষ্ণসাগর: সাড়ে ৪ বছরে ১ লাখ ২০ হাজার ডলফিনের মৃত্যু

সড়ক দুর্ঘটনায় আহতদের জীবন বাঁচাতে তরুণদের প্রাথমিক চিকিৎসা ও সিপিআর প্রশিক্ষণ

হামের উপসর্গে ২৪ ঘণ্টায় দুই শিশুর মৃত্যু

কৃষকের কাছে সময়মতো ন্যায্যমূল্যে সার পৌঁছানোর তাগিদ কৃষিমন্ত্রীর

Tourism Fair Concludes with Tk 43 Crore in Business Over Three Days

তিন দিনে ৪৩ কোটি টাকার ব্যবসা, শেষ হলো পর্যটন মেলা