
গুরুত্বপূর্ণ কোনো কাজের আগে পেটে অস্বস্তি, পরীক্ষার আগে বমি বমি ভাব বা দুশ্চিন্তার সময় হজমের সমস্যা-এমন অভিজ্ঞতা অনেকেরই হয়। চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা বলছেন, এগুলো কেবল মানসিক অনুভূতি নয়; এর পেছনে রয়েছে শরীরের জটিল জৈবিক প্রক্রিয়া। এ কারণেই মানবদেহের অন্ত্রকে ‘দ্বিতীয় মস্তিষ্ক’ বলা হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মানুষের পরিপাকতন্ত্রের কাজ শুধু খাবার হজম করা নয়। অন্ত্রে থাকা কোটি কোটি স্নায়ুকোষ বা এন্টেরিক নার্ভাস সিস্টেম মস্তিষ্কের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রেখে শরীরের নানা কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
গবেষণায় দেখা গেছে, মানুষের শরীরের মেজাজ নিয়ন্ত্রণকারী হরমোন সেরোটোনিনের প্রায় ৯৫ শতাংশই অন্ত্রে উৎপন্ন হয়। ফলে অন্ত্রের স্বাস্থ্য খারাপ হলে তা মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
চিকিৎসকদের ভাষ্য, অন্ত্রে থাকা ট্রিলিয়ন অণুজীব খাবার হজম, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং শরীরের ভারসাম্য রক্ষায় সহায়তা করে। তবে অতিরিক্ত মানসিক চাপের সময় মস্তিষ্ক থেকে অন্ত্রে বিশেষ সংকেত পৌঁছায়, যা পেটে খিঁচুনি, ফোলাভাব বা অস্বস্তির কারণ হতে পারে।
এছাড়া অন্ত্রের অণুজীবের ভারসাম্য নষ্ট হলে মানুষের মেজাজ, মনোযোগ ও চিন্তাশক্তিও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এমনকি নির্দিষ্ট কোনো খাবারের প্রতি হঠাৎ তীব্র আকাঙ্ক্ষা বা ‘ফুড ক্রেভিং’-এর পেছনেও অন্ত্রের অণুজীবের ভূমিকা থাকতে পারে।
অন্ত্র সুস্থ রাখার কয়েকটি উপায়
প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ধীরে-সুস্থে খাবার খাওয়া। অতিরিক্ত মানসিক চাপ কমানোর চেষ্টা করা। খাদ্যতালিকায় পর্যাপ্ত আঁশযুক্ত খাবার ও পর্যাপ্ত পানি রাখা। টক দই, পান্তা ভাত বা অন্যান্য গাঁজানো খাবারের মতো প্রাকৃতিক প্রোবায়োটিক গ্রহণ করা। ভারী খাবারের পর কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটি করা।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিয়মিত স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ এবং সামান্য জীবনযাত্রার পরিবর্তনের মাধ্যমে অন্ত্র সুস্থ রাখা সম্ভব। আর অন্ত্র সুস্থ থাকলে শুধু হজমই ভালো হয় না, মানসিক সুস্থতাও বজায় থাকে।