
শ্রীলঙ্কায় ডেঙ্গুর সংক্রমণ ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। দেশটিতে চলতি বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ৫০ হাজার মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। হাসপাতালগুলোতে প্রতিদিন গড়ে ১ হাজারের বেশি রোগী ভর্তি হচ্ছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দেশটির সরকার সামরিক বাহিনী মোতায়েন করেছে।
মঙ্গলবার স্থানীয় সংবাদমাধ্যম আদা দেরানা জানায়, প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিসানায়েকে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে মশার প্রজনন ক্ষেত্র ধ্বংস ও প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম জোরদারে সশস্ত্র বাহিনীকে সহায়তার নির্দেশ দিয়েছেন।
সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, জনস্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর সদস্যরা সমন্বিতভাবে কাজ করবে। তারা এডিস মশার প্রজননস্থল শনাক্ত ও ধ্বংসে অভিযান চালাবে।
এছাড়া স্থানীয় প্রশাসন, জনস্বাস্থ্য পরিদর্শক ও স্বেচ্ছাসেবকদের নিয়ে একটি পর্যবেক্ষণ ইউনিট গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাসাবাড়ি, কারখানা ও সরকারি প্রতিষ্ঠানে জমে থাকা পানি এবং মশার প্রজননক্ষেত্র চিহ্নিত করে তা ধ্বংস করা হবে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যেসব স্থাপনার মালিক তাদের এলাকায় মশার বংশবৃদ্ধি রোধে ব্যর্থ হবেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আগামীকাল বুধবার থেকেই দেশব্যাপী বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু হবে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) সতর্ক করেছে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ডেঙ্গু ও অন্যান্য মশাবাহিত রোগ দ্রুত ও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ছে।
শ্রীলঙ্কার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে বৃষ্টি, বন্যা ও জমে থাকা পানির কারণে ডেঙ্গু পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। চলতি বছর এখন পর্যন্ত ৫০ হাজারের বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছে এবং ২৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ২০১৭ সালের পর এটি দেশটির অন্যতম ভয়াবহ ডেঙ্গু প্রাদুর্ভাব। ওই বছর ১ লাখ ৮৬ হাজার মানুষ আক্রান্ত হয়েছিলেন এবং ৪৪০ জন মারা যান।
কর্তৃপক্ষ জনগণকে নিয়মিতভাবে বাড়ি, স্কুল ও কর্মস্থলে জমে থাকা পানি পরিষ্কার করার এবং মশা নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।