ঢাকামঙ্গলবার , ২৩ জুন ২০২৬
  1. সর্বশেষ

এবার ক্ষতিকর নিকোটিন পাউচ ও ই-সিগারেট আমদানিতে সম্পূর্ণ কর প্রত্যাহারের আবদার বিএটির!

প্রতিবেদক
Ibrahim Khalil
২৩ জুন ২০২৬, ১২:৫০ বিকাল

Link Copied!

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ (বিএটিবি) জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭ চূড়ান্ত হওয়ার আগে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টার কাছে তামাক ও নিকোটিনজাত পণ্যের কর কাঠামো সংশোধনের প্রস্তাব দিয়েছে। একইসঙ্গে প্রতিষ্ঠানটি জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর নিকোটিন পাউচ, হিটেড টোব্যাকো ও ভ্যাপিং পণ্য আমদানির জন্য কমার্শিয়াল ইমপোর্ট রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট (সি-আইআরসি) প্রদানেরও অনুরোধ জানিয়েছে। পাশাপাশি এসব পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে সরকার নির্ধারিত কর হার প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে তারা।

গতকাল সোমবার (২২ জুন ২০২৬) পাঠানো এক চিঠিতে বিএটিবি দাবি করেছে, সিগারেট উৎপাদনে ব্যবহৃত অ্যাসিটেট টো (Acetate Tow) ও ফিল্টার রডের (Filter Rod) ওপর নতুন সম্পূরক শুল্ক আরোপ করা হলে তামাকজাত দ্রব্যের উৎপাদন ব্যয় বাড়বে এবং বাজারে বিক্রি কমে যেতে পারে। কোম্পানির মতে, এ ধরনের কর আরোপের ফলে সরকারের রাজস্ব আদায়েও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। ফলে ২৫ শতাংশ শুল্ক শূন্য শতাংশ করার দাবি জানিয়েছে তারা।

যদিও দেশের জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘদিন ধরে এসব পণ্যকে করারোপের মাধ্যমে বৈধতা না দিয়ে নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়ে আসছে।

চিঠিতে বিএটিবি জানায়, তারা ২০২৩ সালে সি-আইআরসি পাওয়ার জন্য আবেদন করেছিল এবং ২০২৬ সালে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) এ বিষয়ে ইতিবাচক সুপারিশও করেছে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, সি-আইআরসি পেলে তারা নিকোটিন পাউচ, হিটেড টোব্যাকো ও ভ্যাপিং পণ্য আমদানি করতে পারবে।

এছাড়া বাজেট প্রস্তাবে বিএটিবি নিকোটিন পাউচ ও হিটেড টোব্যাকো পণ্যের ওপর প্রচলিত সিগারেটের তুলনায় কম কর আরোপের সুপারিশ করেছে। পাশাপাশি আমদানির ক্ষেত্রে যে ৩৫০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপ করা হয়েছে সেটা বাদ দিয়ে শূন্য শতাংশ করার প্রস্তাব দিয়েছে বিএটিবি। তাদের যুক্তি, এসব পণ্য প্রচলিত সিগারেটের তুলনায় তুলনামূলকভাবে কম ক্ষতিকর। পাশাপাশি স্থানীয় উৎপাদন উৎসাহিত করতে আমদানিকৃত পণ্যের তুলনায় দেশীয় উৎপাদনের ক্ষেত্রে কম কর নির্ধারণের প্রস্তাবও দিয়েছে কোম্পানিটি।

তবে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছেন, ক্ষতিকর নিকোটিন পাউচ, হিটেড টোব্যাকো ও ই-সিগারেটের মতো নতুন তামাক ও নিকোটিনজাত পণ্য তরুণদের নিকোটিন আসক্তির ঝুঁকি বাড়ায় এবং জনস্বাস্থ্যের জন্য ব্যাপক ক্ষতিকর। ফলে এসব পণ্যে করারোপের মাধ্যমে বৈধতা না দিয়ে নিষিদ্ধের দাবি জানিয়েছে তারা। যদি এসব পণ্য জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর বিবেচনায় নিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার নিষিদ্ধ করেছিলো। কিন্তু বর্তমান সরকার রাজস্ব বৃদ্ধির কথা বলে জনস্বাস্থ্যকে বিবেচনায় না নিয়ে এসব পণ্যকে বৈধতা দিয়েছে। একইসঙ্গে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশোধনে তামাকের সংজ্ঞায় অন্তর্ভূক্ত করেছে।

 

Facebook Comments Box

আরও পড়ুন