
কক্সবাজারের টেকনাফে কয়েক দিনের টানা বর্ষণে পাহাড়ধসের ঝুঁকি আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। সম্ভাব্য প্রাণহানি ও দুর্ঘটনা এড়াতে ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি এলাকায় বসবাসকারী মানুষকে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।
সোমবার (২২ জুন) দিনব্যাপী উপজেলার বিভিন্ন পাহাড়ঘেঁষা এলাকায় মাইকিং করে বাসিন্দাদের সতর্ক করা হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভারি বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় যেকোনো সময় পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটতে পারে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, টানা বর্ষণের ফলে টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা, সদর ইউনিয়ন, শাহপরীর দ্বীপসহ বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে বহু বসতঘর, ফসলি জমি ও চিংড়িঘের পানির নিচে তলিয়ে গেছে। ফলে হাজারো মানুষ দুর্ভোগে পড়েছেন।

এদিকে বৈরী আবহাওয়ার কারণে শাহপরীর দক্ষিণপাড়া এলাকায় এক জেলের মাছ ধরার ট্রলার ডুবে গেছে। ট্রলারে থাকা জেলেরা সাঁতরে প্রাণে রক্ষা পেলেও ট্রলার, মাছ ও জালসহ প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, হোয়াইক্যং, হ্নীলা, বাহারছড়া, সদর ইউনিয়ন ও মহেশখালীপাড়া সংলগ্ন পাহাড়ি এলাকায় বহু পরিবার বসবাস করে। টানা বৃষ্টিতে এসব এলাকায় পাহাড়ধসের ঝুঁকি আরও বেড়েছে। তবে অনেক বাসিন্দা অভিযোগ করেছেন, নিরাপদ আশ্রয়ের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় তারা বাধ্য হয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাতেই অবস্থান করছেন।
কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, পাহাড়ধসের ঝুঁকি বিবেচনায় মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে সচেতনতামূলক প্রচারণাও চালানো হচ্ছে।
উখিয়া-টেকনাফ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী জানান, ভারি বৃষ্টিতে একটি নির্মাণাধীন সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া পাঁচ শতাধিক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছেন।
অব্যাহত বর্ষণ, জলাবদ্ধতা ও পাহাড়ধসের আশঙ্কায় টেকনাফজুড়ে উদ্বেগ বিরাজ করছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।