
স্বাস্থ্য আন্দোলনের বিবৃতি
আদ-দ্বীন হাসপাতালে ৬ নবজাতকের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় আমরা গভীরভাবে শোকাহত এবং মৃত শিশুদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি। এই অনাকাংক্ষিত ঘটনায় আমরা ক্ষোভ প্রকাশ করছি। এই ঘটনা কোনো আকস্মিক দুর্ঘটনা নয়; বরং সুস্পষ্ট অব্যবস্থাপনা, পেশাগত গাফিলতি এবং প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্বহীনতার ফল—যা তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে। আমরা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দ্রুত তদন্ত কমিটি গঠন, তদন্ত সম্পন্ন করা এবং প্রতিবেদন জনসম্মুখে প্রকাশ করার উদ্যোগকে স্বাগত জানাই ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি। একই সাথে আমরা আশা করি, এই প্রতিবেদন কেবল ঘটনার তথ্য প্রকাশে সীমাবদ্ধ না থেকে দায়িদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করা হবে।
বর্তমান বাস্তবতায় আমরা গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছি যে, স্বাস্থ্য সুরক্ষায় কোনো পূর্ণাঙ্গ আইন না থাকায় স্বাস্থ্যসেবা অবহেলার জন্য দায়িদের কার্যকরভাবে শাস্তির আওতায় আনা সম্ভব হচ্ছে না। দীর্ঘদিন ধরে স্বাস্থ্য অধিকার কর্মীরা একটি শক্তিশালী স্বাস্থ্য সুরক্ষা আইন প্রণয়নের দাবি জানিয়ে আসলেও এখনো তা বাস্তবায়িত হয়নি। এই আইনগত শূন্যতা রোগীর জীবনকে অনিরাপদ করে তুলছে এবং বারবার এমন মর্মান্তিক ঘটনার জন্ম দিচ্ছে যা অনেক পরিবারের জন্য সারাজীবন দুর্বিষহ শোকের কারণ হয়ে থাকবে। এভাবে চলতে থাকলে দেশের মানুষ স্বাস্থ্য সেবার ওপর আস্থা হারাবে।
স্বাস্থ্য আন্দোলনের পক্ষ থেকে আমাদের স্পষ্ট দাবি
১. স্বাস্থ্য সেবা প্রদানকারির দায়িত্ব নির্ধারণ ও গাফিলতির বিরুদ্ধে শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে: তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রকৃত দায়িদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে।
২. স্বাস্থ্য সুরক্ষা আইন দ্রুত প্রণয়ন করতে হবে:রোগীর জীবন ও অধিকার সুরক্ষায় একটি শক্তিশালী, যুগোপযোগী ও কার্যকর স্বাস্থ্য সুরক্ষা আইন অবিলম্বে প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করতে হবে, যাতে স্বাস্থ্যসেবা অবহেলার জন্য স্পষ্ট শাস্তির বিধান থাকে।
৩. হাসপাতাল অডিটের বাধ্যতামূলক ব্যবস্থা চালু করতে হবে: সরকারি ও বেসরকারি সব হাসপাতালের জন্য নিয়মিত, স্বচ্ছ ও স্বাধীন হাসপাতাল অডিট ব্যবস্থা চালু করতে হবে—যেখানে জনবল, যন্ত্রপাতি, সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ, জরুরি সেবা ও রোগী নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।
৪. ভুক্তভোগী পরিবারকে ন্যায়বিচার ও ক্ষতিপূরণ দিতে হবে: নিহত শিশুদের পরিবারকে রাষ্ট্রীয়ভাবে ন্যায়বিচার ও যথাযথ ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে হবে।
আমরা স্পষ্টভাবে জানাতে চাই—রোগীর জীবন নিয়ে কোনো অবহেলা মেনে নেওয়া হবে না। এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ বিচার, তদন্তের সুপারিশ বাস্তবায়ন এবং কাঠামোগত সংস্কার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত স্বাস্থ্য আন্দোলন তার প্রতিবাদ ও আন্দোলন অব্যাহত রাখবে।
বিবৃতিতের সমর্থনকারী হলেন, ফরিদা আখতার, সাবেক উপদেষ্টা, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও নির্বাহী পরিচালক উবেনীগ, সামিয়া আরেফিন, নারীপক্ষ, এডভোকেট সৈয়দ মাহবুবুল আলম-সেক্রেটারী, সেন্টার ফর ল এন্ড পলিসি এফেয়ার্স, আমিনূর রসুল, আহবায়ক,ন্যাশনাল ক্লাইমেট একশান ফোরাম।, সীমা দাস সীমু- উবিনীগ, সৈয়দা অনন্যা রহমান, তামাক নিয়ন্ত্রণ কর্মী, কামরুনিছা মুন্না-সিটিজেন নেটওয়ার্ক, ব্যারিষ্টার নিশাত মাহমুদ, সদস্য সচিব পাবলিক হেলথ লইয়ার্স নেটওয়ার্ক, ইকবাল মাসুদ, সভাপতি, এইড সোসাইটি, আমিনুল ইসলাম চেয়ারম্যান, আর্থ ডেভলাপমেন্ট ফাউন্ডেশন, এডভোকেট মুহাম্মদ আওলাদ হোসেন- চেয়ারম্যান, গ্লোবাল লিগ্যাল স্টাডিজ এন্ড ডেভেলপমেন্ট সেন্টার।