দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসে শিশুরা নতুন করে হাম (Measles) সংক্রমিত হচ্ছে-এমন অভিযোগে উদ্বেগ বাড়ছে। আক্রান্ত শিশুদের পরিবার ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের দাবি, হাসপাতাল থেকেই সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ছে, যদিও কর্তৃপক্ষ বিষয়টি পুরোপুরি মানতে নারাজ।
নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ১০ মাসের শিশু সোহামনি প্রথমে মাদারীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়। একই কক্ষে হামে আক্রান্ত আরও দুই শিশু থাকায় কয়েক দিনের মধ্যেই সোহামনির শরীরেও হাম ধরা পড়ে। অবস্থার অবনতি হলে তাকে রাজধানীর বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট-এ নেওয়া হয়, কিন্তু সেখানে আইসিইউতে একদিন পরই তার মৃত্যু হয়।
শুধু সোহামনি নয়, হাসপাতালটিতে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে হামে আক্রান্ত হয়ে একাধিক শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ পরিবারের সদস্যদের। তাদের দাবি, অন্য রোগের চিকিৎসায় ভর্তি হওয়া শিশুরা হাসপাতালে থাকাকালীনই হামে আক্রান্ত হয়েছে।
হাসপাতালটির তথ্য অনুযায়ী, গত মার্চ থেকে হামে আক্রান্ত হয়ে কমপক্ষে ২৯ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। অনেক অভিভাবক জানান, ভর্তি হওয়ার পরই তাদের সন্তানের শরীরে হামের লক্ষণ দেখা দেয়।
একই ধরনের ঘটনা দেখা গেছে দেশের অন্যান্য হাসপাতালেও। নিউমোনিয়ার চিকিৎসায় ভর্তি শিশুদের অনেকেই পরবর্তীতে হামে আক্রান্ত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। কুমিল্লা সদর হাসপাতাল থেকে ঢাকায় আনা শিশু ফারুকও চিকিৎসাধীন অবস্থায় হামে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম অত্যন্ত সংক্রামক একটি রোগ, যা বাতাসের মাধ্যমে দ্রুত ছড়াতে পারে। একজন আক্রান্ত শিশুর সংস্পর্শে আসলে একাধিক শিশু সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকে। ফলে হাসপাতালে আলাদা আইসোলেশন ব্যবস্থা না থাকলে সংক্রমণ ছড়ানো স্বাভাবিক।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশে অনেক হাসপাতালে পর্যাপ্ত বেড ও আইসোলেশন ওয়ার্ডের অভাবে একই কক্ষে একাধিক রোগী রাখতে হয়, যা সংক্রমণ বৃদ্ধির ঝুঁকি আরও বাড়াচ্ছে।
তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি ভিন্ন। ডা. মো. মাহবুবুল হক বলেন, হাসপাতালে থেকে হাম ছড়ানোর দাবি সঠিক নয়; বরং অনেক শিশুর শরীরে আগে থেকেই সংক্রমণ ছিল, যা হাসপাতালে এসে প্রকাশ পেয়েছে।
অন্যদিকে স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে এবং মৃত্যুর ঘটনাও অব্যাহত রয়েছে। সংস্থাটির মতে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হাসপাতাল পর্যায়ে আলাদা ব্যবস্থাপনা ও আইসোলেশন সুবিধা বাড়ানো জরুরি।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আগে দেশে সংক্রামক রোগের জন্য আলাদা ওয়ার্ড থাকলেও সময়ের সঙ্গে অনেক হাসপাতালেই তা কমে গেছে। এখন হামের মতো সংক্রমণ আবার বাড়ায় সেই ব্যবস্থা পুনর্বহালের প্রয়োজনীয়তা সামনে এসেছে।
অন্যদিকে স্বাস্থ্য অধিদফতরের রোগ নিয়ন্ত্রণ বিভাগের পরিচালক মো. হালিমুর রশীদ বলেছেন, সব হাসপাতালে আলাদা আইসোলেশন ব্যবস্থা করা বাস্তবসম্মত নয়, তবে কিছু নির্দিষ্ট হাসপাতালে বিশেষ ব্যবস্থা রয়েছে।


