ঢাকামঙ্গলবার , ১৯ মে ২০২৬
  • অন্যান্য

পিরোজপুরে শ্রমিক সংকটে মাঠেই নষ্ট হচ্ছে পাকা ধান

নিজস্ব প্রতিবেদক
মে ১৯, ২০২৬ ১:০৭ অপরাহ্ণ । ৪০ জন

পিরোজপুরে শ্রমিক সংকটের কারণে পাকা ধান কাটতে না পেরে বিপাকে পড়েছেন কৃষকেরা। জমির ধান পেকে গেলেও কৃষাণীর অভাবে সময়মতো কাটতে না পারায় অনেক জায়গায় ধান নুয়ে পড়ছে, কোথাও আবার ঝরে নষ্ট হচ্ছে। এতে লোকসানের আশঙ্কায় দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে কৃষকদের।

জেলার বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে এখন দুলছে সোনালি ধান। তবে অধিকাংশ জমির ধান পেকে গেলেও শ্রমিক সংকটে তা ঘরে তুলতে পারছেন না কৃষকেরা।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এ বছর জেলায় ৩৫ হাজার ৯৩ হেক্টর জমিতে বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও আবাদ হয়েছে ৩৪ হাজার ৫ হেক্টর জমিতে। অনুকূল আবহাওয়ায় ফলনও ভালো হয়েছে।

কিন্তু উৎপাদন ভালো হলেও শ্রমিক সংকটের কারণে সেই সুফল ঘরে তুলতে হিমশিম খাচ্ছেন কৃষকেরা। বর্ষা ও বাতাসে অনেক জমির ধান নুয়ে পড়ছে। ফলে ফসল নষ্ট হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

শ্রমিক না পেয়ে অনেক কৃষক নিজেরাই ধান কাটতে মাঠে নেমেছেন। আবার শ্রমিক পাওয়া গেলেও দিতে হচ্ছে অতিরিক্ত মজুরি।

পিরোজপুর সদর উপজেলার রায়েরকাঠী এলাকার কৃষক ফজলু হাওলাদার জানান, এ বছর তিনি ৫ বিঘা জমিতে লাল তীর ময়না ও হীরা-টু জাতের ধান চাষ করেছেন। ফলন ভালো হলেও শ্রমিক সংকটে ধান কাটতে পারছেন না।

তিনি বলেন, আগে যেখানে একজন শ্রমিকের মজুরি ছিল ৭০০ টাকা, এখন সেখানে ৯০০ থেকে ১ হাজার টাকা দাবি করা হচ্ছে। এর সঙ্গে দুই বেলার খাবারও দিতে হচ্ছে। সব মিলিয়ে খরচ অনেক বেড়ে গেছে। অথচ ধানের দাম তুলনামূলক কম হওয়ায় লাভের বদলে লোকসানের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

কৃষি বিভাগের উপ-পরিচালক সৌমিত্র সরকার জানান, জেলায় ইতোমধ্যে প্রায় ৫৫ শতাংশ ধান কাটা হয়েছে। সমস্যা সমাধানে কৃষকদের বিভিন্ন পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি যান্ত্রিক পদ্ধতিতে ধান কাটতে কৃষকদের উৎসাহিত করা হচ্ছে।

এ বছর জেলায় ২ লাখ ৫০ হাজার ৩০ মেট্রিক টন বোরো ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

 

Facebook Comments Box

Jaxx Liberty Wallet

Jaxx Wallet Download