ঢাকাসোমবার , ১৮ মে ২০২৬
  • অন্যান্য

বাংলাদেশে ১৪ লাখ মানুষ নতুন করে দারিদ্র্যের ঝুঁকিতে: বিশ্বব্যাংক

নিজস্ব প্রতিবেদক
মে ১৮, ২০২৬ ৩:৫১ অপরাহ্ণ । ৫২ জন

বাংলাদেশে কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা দ্রুত বাড়লেও সেই অনুপাতে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি না হওয়ায় শ্রমবাজার দুর্বল হয়ে পড়ছে বলে জানিয়েছে বিশ্বব্যাংক।

সোমবার (১৮ মে) পিআরআই ও বিশ্বব্যাংক আয়োজিত ‘বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেট’ শীর্ষক সেমিনারে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।

বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে প্রায় ১৪ লাখ মানুষ নতুন করে দারিদ্র্যের মধ্যে চলে গেছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত গড় মূল্যস্ফীতি ছিল প্রায় ৮ দশমিক ৫ শতাংশ। ২০২২ সালের পর থেকে দেশে মূল্যস্ফীতি ধারাবাহিকভাবে বেড়ে চলেছে।

সংস্থাটি বলছে, পণ্য পরিবহনে উচ্চ ব্যয়, আমদানি ও বাজারজাতকরণ খরচ, মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য এবং জ্বালানি ব্যয় বৃদ্ধির কারণে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আসছে না। এতে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বেড়ে যাচ্ছে।

বিশ্বব্যাংকের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের সম্ভাব্য জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৯ শতাংশ হতে পারে। একই সঙ্গে গত ৩৫ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো বেসরকারি বিনিয়োগ কমেছে। সরকারি ঋণ বৃদ্ধির কারণে বেসরকারি খাত পর্যাপ্ত ঋণ সুবিধা পাচ্ছে না।

তথ্য অনুযায়ী, বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ফেব্রুয়ারিতে কমে ৬ শতাংশে নেমেছে, যা আগের অর্থবছরের জানুয়ারিতে ছিল ৬ দশমিক ৮ শতাংশ। যদিও নীতিগত সুদের হার ইতিবাচক থাকলেও দীর্ঘ সময়ের উচ্চ মূল্যস্ফীতি নীতি নির্ধারণে চাপ তৈরি করছে।

ব্যাংকিং খাত নিয়েও উদ্বেগ জানিয়েছে বিশ্বব্যাংক। সংস্থাটি জানায়, ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত ২২টি ব্যাংক মূলধন ঘাটতিতে রয়েছে, যেগুলোর হাতে পুরো ব্যাংকিং খাতের মোট সম্পদের প্রায় ৪৭ শতাংশ রয়েছে।

এছাড়া রাজস্ব আহরণেও দুর্বলতার চিত্র উঠে এসেছে প্রতিবেদনে। ২০২৫ অর্থবছরে রাজস্ব আদায় গত ১৫ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে। কর-জিডিপি অনুপাত কমে দাঁড়িয়েছে ৬ দশমিক ৯ শতাংশে। তবে ২০২৬ অর্থবছরে এতে সামান্য উন্নতি হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

অন্যদিকে সরকারি ঋণও বেড়েছে। সরকারি ঋণ-জিডিপি অনুপাত ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৩৭ দশমিক ৬ শতাংশ থেকে বেড়ে ৩৯ দশমিক ৫ শতাংশে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে বিশ্বব্যাংক।

Facebook Comments Box

Jaxx Liberty Wallet

Jaxx Wallet Download