ঢাকাসোমবার , ১৮ মে ২০২৬
  • অন্যান্য

সার্বজনিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও নাগরিকের জীবনাধিকার নিশ্চিতকরণে হাইকোর্টে রুল জারি

নিজস্ব প্রতিবেদক
মে ১৮, ২০২৬ ২:২৬ অপরাহ্ণ । ১১২ জন

বাংলাদেশের সকল নাগরিকের জীবনাধিকার নিশ্চিতকরণ এবং সার্বজনিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা (Universal Health Coverage – UHC) বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিষ্ক্রিয়তা ও ব্যর্থতার বিরুদ্ধে হাইকোর্ট বিভাগে একটি জনস্বার্থমূলক রিট আবেদন দায়েরের পরিপ্রেক্ষিতে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।

আজ সোমবার (১৮ মে ২০২৬) একেএম মাকসুদ, আমিনুল ইসলাম,  অ্যাডভোকেট সৈয়দ মাহবুবুল আলম ও সীমা দাস সিমুর পক্ষে ব্যারিস্টার নিশাত মাহমুদের দায়ের করা এ রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট বিভাগ এ রুল নিশি জারি করেছেন। মাননীয় বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী এবং বিচারপতি আব্দুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রুল জারি করেন।

রিট আবেদন অনুযায়ী আদালত নিম্নোক্ত বিষয়ে রুল জারি  করেন

সকল নাগরিকের জন্য সার্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা (Universal Health Coverage) নিশ্চিত করার মাধ্যমে জীবনধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণে সরকারের নিষ্ক্রিয়তা ও ব্যর্থতা কেন বেআইনি ও আইনগত কর্তৃত্ববিহীন ঘোষণা করা হবে না; এবং কেন সরকারকে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশ প্রদান করা হবে না; এবং কেন স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়-কে ১ (এক) মাসের মধ্যে একটি স্বাধীন কমিটি গঠন করার নির্দেশ দেওয়া হবে না, যা সার্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা বাস্তবায়ন তদারকি, পর্যবেক্ষণ ও দিকনির্দেশনা প্রদান করবে এবং ৩ (তিন) মাসের মধ্যে অগ্রগতি প্রতিবেদন মাননীয় আদালতের নিকট দাখিল করবে।

রিট আবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৫, ১৮ ও ৩২ অনুযায়ী স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের বাধ্যতামূলক দায়িত্ব হলেও বাস্তবে তা কার্যকরভাবে প্রতিফলিত হয়নি। এর ফলে দেশের কোটি কোটি মানুষ প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এবং ভয়াবহ আর্থিক সংকটে পড়ছে।

রিটে উল্লেখ করা হয়, World Health Organization-এর সংজ্ঞা অনুযায়ী সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা এমন একটি ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে প্রত্যেক নাগরিক প্রয়োজনীয় ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা আর্থিক দুর্ভোগ ছাড়াই পাবে। অথচ সরকারের নিজস্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০৩২ সালের মধ্যে সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি থাকলেও বাস্তব অগ্রগতি অত্যন্ত সীমিত।

আবেদনকারীরা আরও উল্লেখ করেন, Center for Policy Dialogue এবং Bangladesh Institute of Development Studies-এর গবেষণা অনুযায়ী দেশে স্বাস্থ্য ব্যয়ের প্রায় ৭৯ শতাংশই জনগণকে নিজ পকেট থেকে বহন করতে হচ্ছে। এর ফলে প্রতিবছর লাখো পরিবার দারিদ্র্যের নিচে নেমে যাচ্ছে। ক্যানসার, কিডনি রোগ, ডায়াবেটিস ও হৃদরোগসহ অসংক্রামক রোগে আক্রান্ত বিপুলসংখ্যক মানুষ কেবল চিকিৎসা ব্যয় বহন করতে না পারার কারণে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

রিটে আরও বলা হয়, স্বাস্থ্যখাতে বাজেট বরাদ্দ মোট বাজেট ও জিডিপির তুলনায় অত্যন্ত কম এবং বরাদ্দকৃত অর্থের একটি বড় অংশ অব্যবহৃত থেকে যাচ্ছে। একই সঙ্গে দেশে ডাক্তার-জনসংখ্যা অনুপাত ১:২০০০ এবং নার্স-জনসংখ্যা অনুপাত ১:৫০০০, যা স্বাস্থ্যব্যবস্থার গুরুতর সংকটের চিত্র তুলে ধরে।

রিটকারীরা বলেন, আপিল বিভাগ পূর্ববর্তী একাধিক রায়ে স্বাস্থ্যকে অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন এবং জীবনাধিকার কেবল বেঁচে থাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়—বরং সুস্বাস্থ্য, মর্যাদা ও মানসম্মত জীবনযাপনের নিশ্চয়তাও এর অন্তর্ভুক্ত।

রিটকারীরা মনে করেন, কার্যকরভাবে সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা বাস্তবায়ন করা গেলে রোগব্যাধির প্রকোপ কমবে, জনগণের আর্থিক চাপ হ্রাস পাবে এবং সংবিধানপ্রদত্ত জীবনাধিকার বাস্তব অর্থে নিশ্চিত হবে।

Facebook Comments Box

Jaxx Liberty Wallet

Jaxx Wallet Download