
“পরিবেশ রক্ষা কোনো তাত্ত্বিক কথা নয়, বরং এটি আমাদের দৈনন্দিন অভ্যাসের প্রতিফলন”-এমন মন্তব্য করে পরিবেশ সংরক্ষণে ব্যক্তিগত দায়িত্বশীলতার উদাহরণ তুলে ধরেছেন গাজীপুরের জেলা প্রশাসক মো. নূরুল করিম ভূঁইয়া।
মঙ্গলবার (১২ মে) সকালে গাজীপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের ভাওয়াল সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি নিজের একটি ব্যক্তিগত অভ্যাসের কথা জানান। তিনি বলেন, তিনি যেখানেই যান, ব্যবহৃত টিস্যু পকেটে রেখে দেন এবং বাসায় ফিরে নির্দিষ্ট ডাস্টবিনে ফেলে দেন।
পরিবেশ অধিদপ্তরের ‘মনিটরিং অ্যান্ড এনফোর্সমেন্ট উইং-এর সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে পরিবেশ সংরক্ষণ ও মান উন্নয়ন এবং দূষণ নিয়ন্ত্রণ’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. লুৎফর রহমান।
বক্তব্যে জেলা প্রশাসক পরিবেশের প্রতি মানুষের উদাসীন আচরণের সমালোচনা করে বলেন, কিছু মানুষ ইটিপি ব্যবহার না করা, অযথা হর্ন বাজানো বা যেখানে-সেখানে ময়লা ফেলার মাধ্যমে পরিবেশের ক্ষতি করছে।
তিনি আরও বলেন, শব্দদূষণ এড়াতে তিনি নিজের মোবাইল ফোন প্রায়ই সাইলেন্ট মোডে রাখেন, যাতে অন্য কেউ বিরক্ত না হন। সবাইকে মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করে পরিবেশবান্ধব অভ্যাস গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।
সভায় বক্তারা জলবায়ু পরিবর্তন, বায়ুদূষণ ও প্লাস্টিক বর্জ্যের ভয়াবহতা তুলে ধরে বলেন, এখনই সচেতন না হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে চরম মূল্য দিতে হবে। এ সময় বেশি বেশি গাছ লাগানো এবং প্লাস্টিক বর্জন করে পরিবেশবান্ধব জীবনযাপনের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন মনিটরিং অ্যান্ড এনফোর্সমেন্ট উইংয়ের পরিচালক সৈয়দ ফরহাদ হোসেন, উপপরিচালক সৈয়দ আহম্মদ কবীর, গাজীপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. শাহরিয়ার নজিরসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও পরিবেশকর্মীরা।
পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আরেফিন বাদলের সঞ্চালনায় সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। জেলা প্রশাসকের এমন ব্যক্তিগত অভ্যাসের উদাহরণ উপস্থিতদের পরিবেশ রক্ষায় সচেতন হতে অনুপ্রাণিত করেছে।